Thursday, 14 April 2022

নববর্ষ সংখ্যা ১৪২৯ পর্ব এক


 
Cover page artist

Chayanisa Sriwichainan

( Thailand )

**********************

কবি শাশ্বতী চ্যাটার্জীর কবিতা

) খড়খড়ির গাছকৌটো ফাঁক করলে সিঁদুরে আলো

আধমরা কুয়োতলার অসময়ে চাঁদ পায়

বেলাবেলি আসার তাড়া ফেলে 

গানের দিদিমণি আধখানা মুখের আরশিতে 

স্বয়ং সুচিত্রা সেনীয় লালিত্য দেখে লাল হয়

পথের পাশের রোদে ঝুটো বলে কারা যেন ফেলে যায় 

সোনার মানতাশা, লক্ষ্মী পাগলির থলে ঝেড়ে...

তাকে বসন্ত বলে।

২)ফোকলা দাঁতে ঠাম্মি যখন হেসেই খুন

পড়তি বাজার কমলালেবুর কদর কম

কাঁচা হলুদ বাটছে দেদার কার্নিশে

রোদ্দুরে আর হাওয়ার ক্রমে বাড়ছে দম


আড়মোড়াটা ভাঙছে যেন শীতের ঘুম

নক্সীকাঁথার ওজোর মা আর শুনছে না

জেন্টিলে ঐ তুলোর টুপি নীল পশম

ফুলের বহর হাজির দিন আর গুনছি না

৩)সেদিনের মেয়েটা

এই তো সে সেদিনেরই ছেলে

বলাকওয়া নেই দ্যাখো আচমকা বড় হয়ে গেল

সেদিনের বসন্তবিকেলে

৪)এত প্রগল্ভতা ঠিক নয়

এতটা আগুনই বা কে নেবে

যে কেউ কুড়িয়ে নিতে পারে

পলাশের উদ্বৃত্ত ভেবে

                    ****

কবি বিদিশা সরকারের কবিতা

পদ্মদীঘির শ্লোক

বাইরে বৃষ্টি অঝোর শ্রাবণধারা

শহর থেমে শহরে যানজট

একুশে তখন কুমারী জড়োসড়ো

থামেনি কিছু থামেনা কোনো কাজ

বছর ঘোরে ক‌্যালেন্ডারের পাতায়

একুশে থামে কথায় সাড়া হোক সেও ছিল এক পদ্মদীঘির ঢেউ

তোমায় মনে পড়ছে বকুল আজ

সই পাতালো হাত খড়ি'র স্লেটে

শব্দ থেকে ফুটে উঠছে বোল

আজও সবাই তাদের কথাই লেখে

কুমারী ভাষা পদ্মদীঘির শ্লোক

                 *‌***

কবি মালা চক্রবর্তীর কবিতা

কাঁটাতার

তারপর জেগে ওঠে মানচিত্র

সীমানায় কাঁটাতার পড়ে 

অনুপ্রবেশকারী তকমা পেয়ে 

আমিও গোপনে সীমান্ত পেরোই।


এখন আমরা প্রতিবেশী 

ওপার থেকে দু'একটা গানের কলি ভেসে আসে

বুঝি সুখে আছো।


আবার,অনিচ্ছাকৃত ভাবেই এপার থেকে ভেসে যায় কিছু দীর্ঘশ্বাস।

এই আসা-যাওয়া কিছুতেই আটকাতে পারে না সীমান্তের কাঁটাতার।

                   ****

কবি শিকদার মুহাম্মদ কিব্রিয়াহের কবিতা 

জন্মগত ভাষা

মিথ বা ম্যাকিয়াভেলিয়ান নয়; নয় কল্পলোকের অভিবাসী বা অসভ্য আমার ভাষা। এটি সত্যপাঠ যদি তুমি অভ্যস্ত হও। সহজাত কাব্যিক জমিচাষ। আটপৌড়ে, সাধারণ ও প্রাকৃতিক কলকব্জার কলা।

বিশ্বাস কর আর না-ই কর এটি গেরস্থালির কাজ; যা কেবল একজন কবিই প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম। জীবনসত্যে উদ্ভিন্ন নগ্নসত্যে আমি কখনও উদ্ভ্রান্ত নই; যেখানে গিন্নি ধান ছড়ায় উঠোনে। প্রথাগত ধ্রুপদী ছন্দে। পরিশ্রান্ত চাষী দেহলিতে বসে দম নেয় দ্রুত প্রত্যাবর্তনে। আর আমি সহজেই পেয়ে যাই আমার জন্মগত ভাষা।

                 ****

কবি চন্দ্রানী চৌধুরীর কবিতা

কথাছিল কোনো এক বসন্তের শান্ত বিকেলে সোনাঝুড়ির 

ছায়াতলে পাশাপাশি রব বসে আমরা দুজন, 

তুমি আর তুমি, 

কথাছিল হেঁটে যাব অনেক দূরের সবুজ বনানী পেড়িয়ে 

লালমাটির পথ ধরে,

কোপাই নদীর তীরে 

বসে রব আনমনে,

হয়তো কোনো উদাস বাউল তার একতারাতে ধরবে তখন  

" তোমায় হৃদ মাঝারে রাখিব ছেড়ে দেব না .....

ওরে ছেড়ে দিলে সোনার গৌর আর পাব না ..."

খোয়াই নদীর ধারে

আমি তখন শেষের কবিতা পাঠ করব,

তুমি  নির্বাক আমার চোখে চোখ রেখে .....

সন্ধ্যার আকাশ লিখে দেবে পাখির পালকে  রাতের ঠিকানা ;

পূর্ণিমার অবগাহনে আমার আঁচল ছুঁয়ে হয়তো তুমি তখন ভেবে নেবে " blow Gently over my garden 

Wind of the southern sea

In the hour my love cometh

And calleth me ...

" চুমিয়া যেয়ো তুমি 

আমার বনভূমি

ওগো দখিন সাগরের সমীরণ,

যে শুভখনে মম

আসিবে প্রিয়তম--

ডাকিবে নাম ধ'রে অকারণ "  

পাঠ শেষ হলে উপাসনা গৃহ থেকে ভেসে আসবে কবিগুরুর গান,

দুজনের কাছাকাছি দুজন  দুজনের চোখে তখন শান্তিনিকেতন।

                 ****

কবি আলোলিকার কবিতা

হিম অন্ধকারে

পাথরের ঘৃণা প্রকাশ করেছ তুমি

অথচ প্রেমে অপ্রেমে ভালোবাসার গন্ধ শুঁকেছি বিষম আগ্রহে

সব যন্ত্রণার পায়ে ঘুঙুর পরিয়ে অনুভব করেছি

শরীরের প্রতি রোমকূপে জলের গভীর টান

চেয়েছিলাম তোমার চুলে মুখ গুঁজে গন্ধ নিতে

চেয়েছি স্মৃতিময় সকালের সুখ ছুঁয়ে থাকতে

কিন্তু মেকি বাঁচায় শেষ হলো জীবনযাপনের খেলা

সময়ের উহ্য দাঁতে ধুলো হয়ে গেল তোমার গন্ধ

মিশে গেল  হিম অন্ধকারে . . . মিশে গেল ভুল মানচিত্রে

                    ****

কবি পূর্বাশা মন্ডলের কবিতা

) বসন্তের বিষাদ রাতে

তুমি ধরতে চেয়েছিলে ক্ষয়ে যাওয়া একহাত নক্ষত্রকে

চেয়েছিলে এলোমেলো প্রজাপতির মতো জন্ম নিতে

একমুঠো রঙের উত্তাপ দিলাম তোমার সিঁথিতে এঁকে।

২) উঁচু-উঁচু পলাশের পাখনার উপরে

নীলাময় আখ্যান চুপি চুপি ডাকে

কারা হাসে খিলখিল করে 

জ্যোৎস্নার মৃদু বিস্ময়ে

বড়ন্তির গোসা ভাঙে

কোনো এক বসন্তের বিকেল যেন সাজে-নবরূপে

৩)আজ এই ফাগুনের আভা

দামোদরের নরম তনুকে চুম্বন করে

মজ্জায় মজ্জায় অস্থির উত্তেজনা দাপাদাপি করে

নবীন আলোকরশ্মির নগ্ন ছটা ছোঁবে তোমাকে

৪)সর্ষেফুলের হলুদে

বসন্ত ভিড় করে;

দেবী মান্ডির পান্তা ভাতে

দিগন্তের কান্না এসে মেশে।

পলাশের জমকালো রক্ত কি লেগে আছে

প্রেম-বুভুক্ষু বাতাসের গায়ে?

                   ****

কবি কাব্য মণি বরার কবিতা

মই প্রেম মানৱ হৃদয়ত


মোৰ মগজুত প্ৰাকস্বাধীন ভাৰতৰ নক্সা, 

দুচকুত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধান্তৰ বিভীষিকা ,

হিটলাৰৰ বৰ্বৰ অত্যাচাৰ বিদ্যমান

তথাপিও বুকুত লৈ ফুৰোঁ বাগদাদৰ গোলাপী বাগিচা ,

হিয়াৰ কোণত ইজিপ্তৰ সুগন্ধি আতৰ।

মই ইয়াৰুইঙ্গম ,মই মেক্সিম গৰ্কীৰ মা

মই ওডিচি মই ইলিয়াড

কাল যুগ সময়ে মোৰ পৰিচয় সলনি কৰে

মই অৱগাহণ কৰোঁ যুদ্ধত

 মই মৈত্ৰীৰ কলহ তুলি লওঁ শান্তিত

মই সৃষ্টি ,মই ধ্বংস 

মই প্ৰতিস্থাতা, ময়েই বিনাশ 

মোক কষতিৰে ঘঁহি পিহি উজ্জ্বল কৰা 

মই সদাজাগ্ৰত 

ময়েই প্ৰেম মানৱ হৃদয়ত।।

                   ****

কবি পিয়ালী দেব গুপ্তের কবিতা

বর্ণমালা

তোমায় আমি প্রায় ভুলেই গেছি 

এই চল্লিশ টি জন্মের মধ্যে। 

কয়েকটি বর্ণ ভাঙিয়ে গড়িয়ে 

সবে শব্দ থেকে বাক্য গড়তে শুরু করেছিলাম, 

তোমার মনের ঘুমন্ত বিশ্রামের কারণে নোনা জলে চুবচুবে  ভিজে 

ফিরে এলো আমারই বর্ণমালা । 

                 ****

কবি পৃথ্বীশ দত্তের কবিতা

ওপারে অবসাদ 

তোমাকে পাওয়ার পরে মনে হয়, কী পেলাম, 

নাকি নিজেকেই তুলে ধরে করেছি নিলাম !

যেখানে চক্রবালে নুয়ে গেছে আকাশের মাথা,

দূর হতে অতি অপরূপ লাগে মিলনের নিরবতা,

তোমাকে পাওয়ার প্রার্থনা বৃথাই করেছি নিরন্তর 

কী পেয়েছি তবে, এই প্রশ্নে বিব্রত অন্তর !

পলকে সলতে পাকিয়ে জ্বেলেছি প্রদীপ শিখা,

তোমাকে নয়, নিজের আলোয় নিজেকে একটু দেখা,

কেন বার বার শুধু তোমাকে চাওয়াতে করিনি অন্যথা,

কী পেয়েছি তবে ? তারচেয়ে ভালো অসীম শূন্যতা !

না পাওয়ার সুখ তীব্র মায়াবী, হৃদয় দাপিয়ে ধায়, 

না পাওয়ার স্বাদ পাওয়াকে যখনই ছাপিয়ে যায় ।

                      ****

কবি সন্তোষ সরকারের কবিতা

অবলম্বন

দাবদাহে জমির ফসল পুড়ে গেছে,

অথবা বানে ভেসে গিয়েছে ভিটেমাটি,

আত্মহত্যা যখন একমাত্র সুরাহা,

স্ত্রী কেঁদে বলে,

"কোলের খোকার কী হবে?"


মুহূর্তে নতুন করে বাঁচার আকুতি,

তিনটে প্রাণী অচেনা শহরের পথে।

স্বামী দারোয়ান বহুতলে,

স্ত্রী, ছেলে কোলে পড়ছে স্কুলে।

                    ****

কবি শুচিস্মিতা ঘোষালের কবিতা

সততার অনন্তনীলে চিল শকুনেরা 

ছিঁড়েখুঁড়ে খাচ্ছে উচ্ছিষ্ট শান্তির টুকরো।

ভীষণ বিষাক্ত, বিষাক্ত কলুষতার মেঘ।

একফোঁটা দুফোঁটা করে বিষ চুঁইয়ে পড়ছে

সততার শরীরে, নিস্তেজ করছে তার চলন।

রক্তবিন্দু জমাট, কর্দমাক্ত প্রশ্নচিন্হিত সমাজ;

রোয়াব উঠেছে, 

সংক্রামিত প্রকান্ড নীলাকাশ।

হৈ হৈ কলরবে কঙ্কালসম রোগাক্রান্ত পাখিরা

চলল দূর হতে বহুদূর, 

বিষবেদনার বিস্তৃত আস্ফালনে।

                     ****

কবি সুস্মিতা কৌশিকীর কবিতা

১)তোমাকে ধারণ করে হবো ধর্মহীন

আকাশের পাখি হবো জল তলে মীন

তোমাকে ভালোবেসে রসাতল নির্ভিক

কেবলই মানুষ হবো ,হবো মানবপ্রেমিক।

২)থমকে গেছে বাঁকে , চিহ্ন খুঁজে পাইনি

কোথা থেকে গতি পাবে চাকা ও চরণ

সময় থমকে দাঁড়ায় প্রিয়জন দূরে গেলে

ডাকের ভিতর উঠে আসে শূন্য প্রতিধ্বনি।

৩)চিন চিন করে ওঠে চিহ্ন সমূহ

বড় অসাড় হয় অস্তিত্বের দাবি 

এই পারক্যবোধ , নবনির্মান 

বিকল হয়ে যায় নাভিজল

সান্ত্বনা সুতোগুটি খুলে কঠিন সীবন

জীবনের অরূপ নকশীকাঁথা ।

৪)এখনো কি বোধগম্য সবটা ?

কেন ঘিরে রাখে অন্ধকারের সর ?

পাঞ্জেরী , আরো একটু উসকে দাও

যেখানে অবরূদ্ধ ভাসান, বিগত দিন

শব্দ পারে না পার হয়ে যেতে ব্যোম

শূন্যেও অবাধ যিনি, তিনিই নমস্য ।

                    **** 

কবি শেখর করের কবিতা 

১)রাত বাড়ছে , বাড়ছে 

মুখের ভিড়

জল বাড়ছে, ডুবছে 

সুখের নীড় 


২)বিন্দু বিন্দু সুখ জমে জল

বিন্দু জমে দুঃখ হল মালা

জড়িয়ে থাকে সুখের গল্প জুড়ে

দুঃখ হাসে দাঁড়িয়ে অল্প দূরে 


৩)প্রিয়মুখ খুঁজি অন্ধকারে

ভেসে ওঠে যাপন জলছবি 

আশ্চর্য দুপুরের প্রান্তরে

উড়ে বেড়ায় রংবেরং 

স্বপ্নের হাত ধরে ছুঁয়ে ফেলি

ফেলে যাওয়া সুগন্ধি রুমাল


৪)চোরের মতো খুঁজে বেড়াই  প্রহর

তোমার কথা ভেবেই ধ্যানমগ্ন দিন

রাতের আকাশে মহাশূণ্যতা ভালো লাগে

শূণ্য হৃদয়ে জীবনকে খুঁজে ফিরি

কেউ কি কোথাও স্বজনের মতো জাগে

ঝাপসা দুচোখে খোঁজে স্বপ্নের সিড়ি

                    ****

কবি মহুয়া দাসের কবিতা

অশেষ       

বেদনা গুণে যাই, 

বেদনা এক, বেদনা দুই, বেদনা তিন, 

নেড়েচেড়ে দেখি, 

রোদে শুকিয়ে দেখি, 

পঞ্চব্যঞ্জনে মেখে দেখি, 

প্রতি বেদনার রূপ, রস, গন্ধ

চিনে চিনে রাখি। 


সব কাজ শেষ হয়ে গেছে, 

বেদনা গুণে নেওয়ার মরশুম এখন। 

ঋণ, রক্ত, সফলতা, স্বজন

গুণতে গিয়ে বুঝে ফেলি

অর্থহীন দিনলিপি। 

বেদনার মূল্য আছে কিনা

জিজ্ঞেস করি একে, তাকে। 

কোথাও কিছু নেই, 

শুধু শ্মশানের নিস্তব্ধ প্রহর। 

আর তখনই বেদনার ভিতর থেকে

জেগে ওঠে এক ফোঁটা পান্না। 


ওটা পান্না নয়, ওটা অশ্রু, 

অশ্রু কথা বলে ওঠে, 

চুমো খেয়ে তুলে নিই চোখে ।

গড়িয়ে পড়ে চলে যায় সে 

বুকের বাম তিল ঘেঁষে 

বারণাবতের দিকে। 

যেখানে তিল তিল করে

জমা হয়ে রয়েছে

অশ্রু এক, অশ্রু দুই, অশ্রু তিন, 

আর অশ্রুত সব গল্পকথা।

                 ****

কবিতায় নীহার রঞ্জন দাস

প্রেম ____


সজনার শাদা ফুলের মতো চোখের মনিও প্রেমের কথা বলে ,

কখনো প্রেম এসে বাইপাসে দাঁড়ায় , প্রতিটি ফ্লাইওভারে, ব্রিজের নিচে প্রেমের স্রোত ।

মিনিটের মেট্রোয় জনারণ্যে ভালোবাসা পাল্টায় , 

মাঠে ময়দানে ভিজে যাওয়া সন্ধ্যায় প্রেমের অপেক্ষা 

জুতোর দোকানে নতুবা হিল স্টেশনে ,পুরনো সিনেমা হলের ভিতরে প্রেমের দীর্ঘশ্বাস ! 

কেনো অবান্তর প্রশ্ন বিলাপ ?


জানি এইসব আধুনিক নগরের প্রেমিক প্রেমিকারা কোনোদিন তাকায়নি শিশুর চোখে ।

ফুলের কাছে গিয়েও বলতে পারেনি , আমার সর্বস্ব তোমার ....

অনুভূত এক অস্হিরতায় নিজের ছায়াটাও নাকি ভয় ? মরা মাছের চোখের মতন জীবন আস্বাদ 

পৃথিবীর বিবর্তণে বিবর্ণতা , 

যদিও এইখানে একদিন মীরার ভজন গালীবের গজলে ছিলো ভরা আকাশ ।

দুর্বল সময়ের সকাল বেয়ে আরো অন্ধকারের পথে প্রেম হারায় ,

টিভি সিরিয়ালের কুটনীতির মতো ধর্ষিত হয় যুবতীর অগাধ বিশ্বাস ।

প্রেমের কবিতাও নিঃসঙ্গ বাদুরের ডানার মতোন উটের পিঠের দিকে তাকায় ।

মেঘলা আকাশে যতই বৃষ্টি হোক বৃক্ষের ডালে বসা প্যাঁচার শরীরের মতন নারীর হৃদয় ,

গোধুলির সময়সুরে 

গভীর রাত বুটের আওয়াজের মতই ...

বালিশের চাপে এইসব ক্ষয়িষ্ণু রাত কোনো এক শবদেহের গন্ধ নিয়ে আসে !


আমিও তখন আকাশে রাখি চোখ ,

গভীর রাতের আকাশ অনেক ইতিহাস রেখে যায় ।

             ****

কবি বিকাশ দাসের কবিতা

গদ্য -

প্রকৃতির নিস্তব্ধতায়  আকাশ ভর্তি অসীম আলোর ছোঁয়া

এক প্রেম আর এক প্রেমের সমষ্টিতে যাওয়ার আন্তরিকতা

ব্যাথা যন্ত্রণার সমুদ্র হাতড়ে  অমৃত উদ্ধার করার উদ্বেগ

মৃত  চেতনার দু’হাতে,মাটির অগাধ স্পর্শ কপালে ছুঁয়ে

দুর্লভ ভাগ্য সঙ্ঘবদ্ধপথে সহজসাধ্য রাজকীয় অভিষেক 

সংক্ষিপ্ত জীবন  মানুষের পাশাপাশি থাকাটাই মনুষ্যত্ব।

                  ****

কবি  বিনীতা সরকারের কবিতা

 বৃষ্টি দহন

এই ভাবেই কাঠ ও কলম লিখতে গিয়ে 

লিখে ফেলছি চিতা

দাউ দাউ আগুনে জ্বলছে দু'চোখ

স্বপ্নের দুয়ার গুলো মৃদু আঁচে পুড়ছে

দেয়াল থেকে খসে পড়ছে রঙ 

একটু একটু করে

শরীর থেকে খসে পড়ছে শরীর

পথ হারাচ্ছি ক্রমে

খুঁজে চলেছি অন্তর্নিহিত অর্থ

শরীর নিথর হয়ে যাচ্ছে

আর একটু পর পর

চামড়া পোড়া গন্ধে ছেয়ে যাচ্ছে আকাশ 

বাতাস পৃথিবী

রাত নেমে আসবে খুব শীঘ্রই জানি

বৃষ্টি নামুক তার আগে

অন্তত একবার

                   ****

চম্পা ভট্টাচার্য্যের কবিতা

আরও একটি প্রেমের গল্প 


হঠাত্‍ সেদিন মধ্য যামে 

উড়ো চিঠি একটা খামে

ভালোবাসার স্বপ্নে সেজে 

 দেয় যে দোলা মনমাঝে -

             এমন ভাবেই তুমি এলে 

             বাউল প্রেমের সুরটি তুলে 

             সময় নদীর ভাঁটা কালে 

             উঠলো যে জোয়ার ফুলে ;

বাসর হলো কদম তলে

কদম ফুলের মালা গলে 

 তোমার বুকে আবেগ-সুখে 

ভেসেছি তোমারই সংরাগে ।

দীর্ণ করে  জীর্ণ তালা 

উথলে ওঠে জ্বালামুখের সুপ্ত জ্বালা 

ভালোবাসার নিষেধ মানা নারী 

চায় না হোতে সীতা,মন্দোদরী

হোক না এ যুগের মীরা কিংবা 

রাইকিশোরী ॥

                     ****

কবি অর্চনা মিত্রের কবিতা

      

তোমাকে  বর্ষ বরনে সজ্জিত করেছি নতুন শুভ্রতায় সৌন্দর্যে,

স্মৃতির কোঠরে পুরানো কে রেখে নতুন কে বরন করে নিলাম। 


নব বর্ষে কবি গুরুর সঙ্গীতে ঘরে ঘরে আলোরন আবির্ভাব  মাতিয়া ওঠে মন জাতি ভেদাভেদ ভুলে নবনব সমীরন সাজে  রক্ত জবা রাজনী গন্ধা  ।


বাউলের  বেশে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশনের সংস্কার সংস্কৃতি হোক বাংলার ঘরে ঘরে  ।

                  ****

কবি জয়তী কুন্ডের কবিতা 

 মায়াবী 

চেনা স্বপ্ন সুর মাখানো 

ছন্দে ঘেরা মন মাতানো


রঙ্গীন অবুঝ ভাঙা জোড়া 

আবছা আলো গল্পে ঘেরা 


আসা যাওয়ার প্রবল গতি 

চলা ফেরায় নেইকো যতি


শিশির সকাল নরম ঘাস 

দীঘির জলে চড়ছে হাঁস 


নীল আকাশে ঘুড়ির লড়াই 

ভো- কাট্টা ভাঙছে বড়াই ।।

               *****


কবি বিদ্যুৎ রাজগুরুর কবিতা

নববর্ষ 


নববর্ষ আটকে গেছে

পহেলায় আজ

যেন প্রেসার কুকারে সেদ্ধ দুপুর

বাষ্পে ওড়া মাংসের স্বাদ 

হাতের মুঠোতে ভুল ভূগোল 

পিপাসায় খুঁজি নীলাম্বরী জল

ক্যালেন্ডার দেখে 

শুধু পোশাকের রং বদলায়

তবুও অপেক্ষায়

স্বস্তির বিকালে যদি বিবাদ ভুলে যাই৷

                    ****




***************************



                        

             





1 comment:

  1. খুব ভালো লাগলো কবিতাগুলো

    ReplyDelete