Tuesday, 27 July 2021

Web magazine. GHORSOWAR. ঘোড়সওয়ার ওয়েব ম্যাগাজিন



        Editor. Nihar Ranjan Das

        Siliguri. Darjeeling. India


🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

                    পার্থপ্রতিম পান

অবারিত

গ্রামের বাড়িতে, কাঁঠাল কাঠের, সারাদিন খোলা থাকে 

ফ্ল‍্যাটে সব বোর্ড, সেগুন পালিশ, আই হোলে চোখ রাখে 


এমনও দরোজা, অন্দরে ডাক দেওয়া 

সে জানে কেমন, হাম তুম চাবি খো গ‍্যায়া 


এমনও দরোজা, যেতে নাহি দিব, কাঁটালতা ঘিরে থাকে 

কপাটের ফাঁকে, মায়া চোখ দুটি, বিবাগীকে পিছু ডাকে 


তথাপি দরজা, দরজা দেখিয়ে দেয়

লৌহ কপাট, হোক নির্মম, মানুষই পাল্টে দেয় 


আমার দরজা, একা বোকা থাকে, কোথাও দেয়াল নেই 

শুধুই পর্দা, ভালোবাসা মাখে, কোথাও দরজা নেই 


দরাজ বাতাসে পর্দা হারিয়ে যায় 


পথচারী বায়ু, প্রাণের আবাস, আকাশকে ফিরে পায়...

   ‌‌‌‌‌                       -----

                  Ming - keh chen
                      ( Taiwan )

Running Water

Leaves flowing in the running water

are aware of running water

and that they will sink


I feel them

crying and laughing

Facing the running water, they

sometimes whisper softly

sometimes struggle 

trying to control the current


But running water

don't know there are leaves


don’t know either

itself keeps flowing


I know

So is time..

                           ........

মহুয়া দাস


 পর্তুলিকা 

 পর্তুলিকা, ও আমার আলো,

 কত রং নিয়ে 

 উজাড় হয়েছ

 আমি যে বেসেছি ভালো...

 

 তোমার অপরূপ উদ্ভাস

 কি আনন্দ বয়ে আনে,

 অজানা পাখির গানে

 মন তাই বাতায়নে।


 পিউ কাঁহার শিসে

দেখতে গেলাম যেই

জুড়িয়ে গেল দু চোখ

দেখি দুলছ বাতাসেই।


সন্ধ্যে ঘনাবে যেই,

ঘুমিয়ে পড়বে জানি,

পর্তুলিকা ওগো,

তুমিই আমার রাণী।

 ‌‌‌‌‌                         ------

Bharati Hazarika 


A City without birds


A city 


Without birds


Is a city of


Without soul


In this concrete jungle


How birds will survive


Let's plant some saplings


To help them to survive



Skyscrapers are


Like the mountains


Blocking the sunlight ' n


Make an artificial evening



Nurture the nature


To be healthy


Nature's power


Is very wealthy


A city 


Without birds


Is a city of


Without soul....

 ‌‌                        --------

সুমিতা ঘোষ চক্রবর্ত্তী


চিরন্তন সত্য

শব্দ বৃক্ষ 

পাতার রঙ হলুদ

বিবর্ণ বিষাদ এখানেই 

আমার সমস্থ বিষাদ জুড়ে তৃষ্ণা 

তোমার শরীরের ঘ্রাণ নিই

ঝোপ ঝাড়ের মধ্যে জোনাকির আলোর মত,

পাখিরাও সোহাগ করে,

ফুলের পরাগ ঝরে,

অদ্ভুত বিষাদ ও ভালোবাসা .....

ফেরারী মন মহুল বনে পাড়ি জমায়।

হেমন্তের আলগা শীতে তোমাকে জানার পর আমি চিনতে চেয়েছি নিজেকে,

আগুনের লেলিহান শিখা চিরন্তন সত্যকে আড়াল করতে পারে নি 

কোথায় রেখেছ নিজের পানসি নৌকা? 

তোমাকে ছুঁয়ে নিতে চেয়েছি ভোরের স্নিগ্ধ আলোয়।

আমার তৃষ্ণা সমুদ্রের ঢেউ নিয়ে আসে তোমারই আকাশে।

                         ------

                   সৌরভ মজুমদার


আনকাট 


"বিয়িং ইউসড" একটি চলমান ক্রিয়া।

এর সাইড এফেক্ট নিয়ে

 অন্য জীবনে কথা হবে। 



শর্তের ইট গেঁথে সাজানো সন্ধ্যায়

 একটি গজল শোনানোর ফরমায়েশ।

হাসির ভেতর ভেঙে যাচ্ছে 

নির্মাণ।

টুকরো টুকরো আমি জলের ফোঁটার

 মতন তোমার ঠোঁটে জেগে।


তুমি গেয়ে উঠলে,

 "মুঝসে মিলনে কি ও করতা থা বহানে কিতনে"।

                         -------

                    হামিদুল ইসলাম


অসহায় জীবন 

                 


জলের সহজ শর্তগুলো ভাঙি 

দেখি জলের গভীরে জল। জলের গভীরে জীবন 


বিষন্ন প্রান্তরে যখন ভেঙে পড়ে ছবির দেয়াল 

দেয়ালে পিঠ রাখে আধপেটা মানুষ 


কাড়া নাকাড়া 

চাঁদ ভেঙে পড়ে অসংখ‍্য টুকরো হয়ে 

এক একটি টুকরো ঝলসানো রুটি 


আমি স্বপ্নে ঘুমোই 

প্রতিদিন বৃষ্টিভেজা কথাগুলো সাজাই 

কথার মাঝে অসংখ‍্য ক্ষুধার কথকতা 

কথার মাঝে অথৈ শূন‍্যতা 


হাওয়াবাড়ি বানারহাট পার্কস্ট্রিট ব‍্যস্ত এখন 

তুরুপের তাসে এঁকে রাখি কর্কট পেট 


জীবন বড়ো অসহায় গো। সত‍্যিই জীবন বড়ো অসহায়। 

                          -------

পলি দে

ছায়াপথ

চোখের জল 

চোখেই শুকিয়ে ফেলা যায়

যদি মাপতে পারো 

দীর্ঘশ্বাসের পারদ স্তম্ভ। 

সরলতার মরুভূমিতে

এলোমেলো ক্যাকটাস। 

নির্বাক আকাশে

বিবর্ণ চোখ জুড়ে

আঁকি ছায়াপথ। 

মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলো আসলে

মরিচীকার প্রতিবিম্ব। 

ধরব ধরব ভাবতে ভাবতেই

বিদ্যুৎ চুল্লিটা শক দিয়ে যায়।                       ‌‌                       -‌-----

মোয়াল্লেম নাইয়া


গোপন ইস্তেহার 

নিষিদ্ধ এক ইস্তেহারে গোপন পরিচয়ে

লোক চক্ষুর অন্তরালে ক্রমেই বেড়ে ওঠা,

রাষ্ট্র এখন ব্যস্ত ভীষন ধর্ম নিয়ে

হাতের মুঠোয় বিভাজনের তাসের ফোটা৷


লড়াই শুধু তোমার আমার নয় তো হেথায়

দাবি পত্র পেশ করি তাই প্রান্তজনে,

রক্তনদী ভরবে যেদিন বুকের ব্যথায়

তোমার আমার মিলন হবে সাম্য গানে ৷


খাদ্য বস্ত্র বাসস্থানের এই পৃথিবী

কুক্ষিগত হায়না সম মালিক শ্রেণীর,

নগ্ন পদের মুষ্টিবদ্ধ হাতের দাবি

সমবন্টন সবকিছু হোক এই ধরনীর ৷


চলুক প্রচার গাঁ-গঞ্জ শহর ছেড়ে

ঘুমিয়ে পড়া এই পৃথিবীর সকল কোনে,

জাগবে মানুষ নিষিদ্ধ এক ইস্তেহারে

সব শোষিতের জয় হবে এই সম্মিলনে ৷

                         -------

তনি পট্টনায়ক

 কন্যা বিনাশ

 যে মেয়েটা আজ জন্মালো ,
 সংশয় তার জীবন বীণা । 
 কাল প্রভাতের সূর্যের কিরণ ,
 আদৌ সে দেখবে কিনা।

 মানুষ গড়ছে দেখো  সমাজ ,

         
ধ্বংসের কবর খুঁড়ছে যে আজ ।
                     --------
                    পিয়ালী দেবগুপ্ত

আর একবার 

আর একবার শুরু করা যাক
কোনো অভিনয় নয়, পুরো ভালোবেসে বুক জুড়ে
শুধু তোর ই চিহ্ন থাকবে।
কষ্টের মুহুর্তে তোর আদুরে হাতের আদর আমাকে
যে স্বান্তনা দেবে তা পৃথিবীর কোনো হাত যেন দিতে
না পারে।
পারবি এমন আদর দিতে?
সারাজীবন বাস্তব হয়ে থাকিস, স্মৃতির পাতাতে যেন
হাতড়ে বেড়াতে না হয়।
তোর প্রতি টি চুমু যেন এক একটা গল্পের অধ্যায় তৈরি করে।
সে গল্প গুলো যেন যে কোনো হিংস্র মানুষের মনে প্রেম এনে দিতে পারে।
হিংসা মন থেকে ধুয়ে মুছে সাফ করে শুধুই ভালোবাসার জোয়ার এনে দিতে পারে।
মান অভিমান ও মাঝে মাঝে হোক, তবে তার পর
যে মীমাংসা টা হবে সেটা হোক পৃথিবীর চরমতম
ভালোবাসার নিদর্শন।
যেমন আবেগ নিয়ে ভালোবাসার শুরু হবে
তেমনই আজীবন ভালোবাসাকে ধরে রাখতে একটু দুরত্বের দরকার।
বল রাজী আছিস?  এত গুলো আবদার মেনে
যদি মনে হয়, না----ঠিক ই---আছে,
একবার ট্রাই করে দেখা যাক,
তো চল, দুজন মিলে একবার একটা নতুন প্রেমের আবিষ্কার করি, নতুন করে আর একবার পথ চলা শুরু করি।
 ‌‌                         ---------

     🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
             End of 11th page.

        

                 
                  
            
 
             

                    

                   



      




       


Monday, 26 July 2021

PANDEMIC SITUATION AND STUDY. AN ARTICLE IN GHORSOWAR.


        Editor. Nihar Ranjan Das

        Siliguri. Darjeeling. India


🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

                    Sanchita Das 

( An article on present situation of students )


LEARNING 

IN TIMES OF PANDEMIC


The world is closed. The places that were remained crowded with people now look haunted. Restrictions on daily movements, school closures, travel bans, prohibition on public gatherings, all these are the consequences of the pandemic. The way the world has reacted to prevent a disease is unprecedented.  However, do we see the end of it? When are we going to lead a normal life again? There has not been any answer to these questions.  


The covid-19 outbreak has created an impact on the global scale. It has produced widespread disruption to schooling and other educational institutions as well, thus bringing up the entire new revolution of online education. Education was among the first few sectors that faced rapid shutdown of all its activities. Hence, the student community has been drastically affected by this pandemic situation. However, restricting schools, colleges, and other educational institutions to reopen physically was an inevitable step to battle against covid-19.  


Suspension to face to face interactions in all the institutions during the pandemic has led to concern about consequences for students learning. To cure its spread government around the world have moved to suspend face-to-face teaching in all the educational intuitions affecting some 95% of the world’s student population.


 The largest breakdown was in the educational field ever. The world has been accustomed to the traditional education system and the economic progress that the world has been making in the last few decades has been greatly affected by the situation. Over a while, naturally, some changes have taken place in the education system due to the modernization process. But the changes that have taken place due to covid-19 have almost completely disrupted the older system of education. The present world is in the throes of catastrophe, the effects of which will be passed on from generation to generation, the potential of mankind may be destroyed.  


This is the first time in human history that the education system has suffered such a major blow. In the past those regions and countries where other viruses affected a huge population, that region or countries were devastated in all the areas of education and economy. They have witnessed death of millions of people. But the other countries of the world have extended a helping hand to those countries or subcontinents. That is why they were able to overcome the worst effects and return to normalcy quickly. But in this case, never before has there been such a big blow on earth. So, while the world itself is growing in the agony of death, we have to stand firm in a new spirit with a strong morale. 


At one time, the classroom was the main center for the physical presence and expressions of thoughts and feelings of teacher and student. But now in this terrible crisis of the pandemic, there has been a complete change in the nature and thinking of people. At a time when some unprecedented ideas for the convenience of information technology, have emerged, even amidst the massive damage to the education system new strategies, have been developed to keep the education system working. This is no way to deny the radical change that has taken place in the traditional system of education. 


The current world has created untapped and endless possibilities for teachers and students to use information technology. However, all kinds of educational institutions around the world are closed indefinitely. But with the modernization of the technology, educational activities are being conducted somehow successfully in all around the world. We have been able to keep the educational activities going by making maximum use of technology. As we all are victims of the outbreak of covid-19, as an academician, am also in a dilemma regarding which is the better method for the student; the traditional classroom interactions or the online classroom lectures. I somehow believe that, whatever may be the situation, classroom interactions and face to face teaching-learning methods were much more interesting for both teachers as well as students. 


“I am pallab Biswas, student of 6th-semester sociology, Surya Sen College. For me, this online mode of education is just an easy way of study for some students who do not wish to acquire quality knowledge, rather interested in securing more marks in the examinations through open-book exams. However, this is not tolerated by the students who work hard day in and day out to secure marks and gain proper knowledge. The good side of such a mode of education is that it encourages digital learning in India. Our previous generations had a misconception that nothing good can be derived out of cellular gadgets but this pandemic situation has proved them wrong. However, overusing phones for gaming and social media can cause an adverse effect. This covid-19 pandemic has changed the whole world and has made technology an inseparable part of our lives. In my opinion, this has both a positive and negative impact. ” 


"As a student, I can say that the covid-19 pandemic has severely affected a student's life. At present, the entire teaching-learning process is conducted online. However, it gets difficult for a student from an economically weaker section to afford phones or computers. Hence their education is in deep crisis today."  Avrojit Sinha, student of 2nd semester, Sociology Hons, Suryasen College. Siliguri.


“Blending into the new normal was a thorough process. All we could do was having immense faith in it.  Being a student, I stand empathetic towards all other fellow students. Normalizing the concept of online education, online examination and online utilization was a task indeed. However, apart from drastically changing the scenario academically, this pandemic has left no stones unturned in creating inconvenience for the students who are about to apply for placements. The unemployment rate has increased which has created an adverse effect on the aspirants. Having to manage studies and deal with the constant stress of deciding the right goals for the future has done nothing but muddle up the already disturbed. The career options that seemed fruitful before no longer prove lucrative considering the present scenario. Although these crises may not get portrayed as awfully severe, their impact on the mind of a student is harsh. Regardless of the hardships, we are still working day in and day out to make things fall at places. Our faith shall still prevail.” Mahek Dhar, class xii, science, Don Bosco Mumbai. Mharashtra.

--------------------------------------------------


 

WEB MAGAZINE . GHORSOWAR. ঘোড়সওয়ার ওয়েব ম্যাগাজিন


        Editor. Nihar Ranjan Das

        Siliguri. Darjeeling. India


🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹


🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

                  মনোনীতা চক্রবর্তী


গানের মতো

কিছু সত্যির কাছে ভয়ঙ্কর পরাজয় লেখা থাকে।

অথচ, সন্ধেরাতের রাগ সকালে বা দুপুরে শোনায় আদৌ কি থাকতে পারে কোনো ভুল অথবা আত্মপ্রবঞ্চনা? পুরোনো কবিতার মতো কিছু ঘাম এখনো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কপাল জুড়ে...

আপডেট হয় স্টেটাস। জীবনের ছায়া। ইমন কল্যাণের মতো কড়ি থেকে শুদ্ধ 'মা' স্পর্শের আড়ালে আত্মজীবনী বাড়িয়ে চলে শব্দ-সংখ্যা। মনে পড়ে কত-কী! একটা বাদামি-পাখি উড়ে যায়। আবার আসে ...একটা আস্ত জীবনের মতো... তীব্র ভাঙচুরের মতো!

                         -------

এ কে এম আব্দুল্লাহ 


আতংকিত সুবাস


প্রিপারেশন নিতে,না-নিতেই ডুবে যাচ্ছে চোখ। আর নামহীন যে ঝড় বয়ে গেলো কাল। তার তাণ্ডবে ছিঁড়ে যাওয়া কারেন্টের তারে যে গাভীটির মৃত্যু হলো,তার পাশ দিয়েই ভেসে যাচ্ছে কদমের ফুল, হিযলের পাপড়ি—


এখন মৃত গাভী,ডুবে যাওয়া ক্ষেত আর সুবাসিত হিযল : কম্বিনেশনটা ভাবতে ভাবতে মাথাটা ঘুরছে জলকুন্ডলীর ভেতর ছোটো ডিঙির মতো। 


আর আকাশ থেকে টিনের চালে ঝরে পড়া বৃষ্টির ছন্দে,রবি ঠাকুরের বৃষ্টির গান নেমে এলে ঘরে ; অকস্মাৎ ঝড়ের ধাক্কায় ভেঙে যাওয়া সুপারিগাছ, জানালার কাঁচ ভেঙে ঢুকে পড়ে বিছানায়। ঝড়ের ঝাপটায় আঙুল বেয়ে নেমে আসে রক্ত। ভেতরে ভেতরে শুনতে পাই কৃষকের হাড় ভাঙচুরের শব্দ। 


এভাবে আমরা বর্ষার চরিত্র ভেঙে যখন ঢুকে পড়ি হেডলাইন-রং পোশাকের ভেতর ; ডুবে যাওয়া সড়কের পাশে কেউ টাঙিয়ে দেয় বিজ্ঞাপনি ভঙ্গিতে। আর কেউ গেঁথে রাখে কবিতার পাতায়।

                          -------

শুভব্রত দত্ত


গাছেদের কথা

এখন জানালা-বিলাসের সময় তো নয়। 

হরিণ-বাড়ির দরজা খোলার শব্দে জাগে

অহরহ এসময়। 


আজ গাছেদের স্কুলে বীজের অঙ্কুরোদগম;

মননের গভীরে শিকড়, রসের সন্ধানে---

উজ্জীবিত পাতায় পাতায় সবুজের সমাগম। 


গানে কবিতায় গল্পে, 

গাছেদের আন্দোলিত শির, 

অনন্তকাল-ধরে আছে আগ্রহে অধীর। 


রক্ষণশীল এই সময় হাঁক দেয় থামো,

ফিরে তাকাও অনন্ত-ভূতে! 

গাছেরা অনড়, ঝড়ো বাতাসের আন্দোলনে, 

ছায়া পড়ে দীর্ঘ হয় চলমান স্রোতে। 


দূরে হরিণ-বাড়িতে পড়ে থাকে অলস হুঙ্কার, 

শেকলে বাঁধা পেছন-ফেরা-সময় আর তার প্রথা। 

এইসব ব্যথা সুকুমারমতি গাছেদের কথা।                                ------

রাজীব ভট্টাচার্য্য

 চাঁদ পর্ব 


তোমার কাছে ন্যায় অন্যায় বোধ বলে

কিছু নেই ! 

মিথ্যা আলোর বেসাতি করে করে 

মৃত মানুষের মুখে আলো ফলে 

পা দিয়ে নেড়ে দেখে নাও , সে কি সত্যি মরে গেছে ! 

নিজের অজস্র ক্ষত ভরা গায়ে আলোর চাদর জড়িয়ে,  নিজেকে নির্দোষ ভেবে অলৌকিক আনন্দে আঘাত করো , 

সবুজ ভালোবাসার পৃথিবীকে লুনাটিক করে আত্মহননের দিকে নিয়ে যেতে চাও ? 


আমরা জেনে গেছি তোমার জলহীনতার কথা , 

নুড়ি,পাথর সর্বস্ব রুক্ষতায় মায়াবী আলোর সব রহস্য ফাঁস হয়ে গেছে । 

আমরা দেখে ফেলেছি ,  অক্সিজেনহীনতার মাঝেও স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে রাগের ক্ষোভের  ভয়ঙ্কর সব আগ্নেয়গিরি । 


সেই কবে কোন এক কিশোর কবি তোমার উপমায় তার প্রেয়সীর  মুখ আঁকতে গিয়ে ক্ষিধের তীব্র যন্ত্রনায় রুটির কথা লিখে রেখে গেছে পৃথিবীর  কাব্য- ইতিহাসের পাতায় । 


সেই থেকে পৃথিবীর কবিরা দ্বন্দ্বে আছে, 

একদিন হয়তো কোন কবিই তোমায় নিয়ে আর কোন কবিতাই লিখবে না ।

                        -------

শুভ্রদীপ রায়


যা কিছু 

যা কিছু খ্যাতি বাকি আছে সংসারের উনুনে ঠেসে দেব একদিন। পাঁজরের ব্যথা বা শ্বাসের সমস্যা  কোনোটাই কবিতা পড়ে কমছেনা। অথচ সেরকমই কথা ছিল। ভেবেছিলাম বিবর্ণ সন্ধেগুলো সাহুর পাড়ের কবিতা সেশন অজস্র জোনাকিতে ভরে দেবে। সূর্যের চারপাশে বেশ কয়েকবছর পাক খাওয়ার পরে আমারও দাঁড়িতে রং লাগছে ধীরে ধীরে-- সাদা রঙ!এখন বুঝতে পারি রান্না করতে পারাটা একটা বাড়তি অ্যাডভানটেজ, ছন্দ জানাটা নয়। জলের দুঃখ বুঝতে পেরে যেভাবে কচুরিপানা ঢেকে দেয় নদীর অবশিষ্টাংশ, সেরকম কোনো উপশম খুঁজছি আজকাল।


এখন অবসরে ভজন শুনি,সন্ধ্যারতি ভালো লাগে,স্নানের পরে চন্দনের ফোঁটায় শান্তি খুঁজে পাই। আমি তো এরকম ছিলাম না, 'বোহেমিয়ান' আমার সবচেয়ে প্রিয় শব্দ ছিল। এখন দেখি ডায়েরির পাতায় পাতায় 'সংযমী' লেখা আছে। রেগে উঠিনা, ব্যুৎপত্তি সহ শব্দটার আত্মীকরণ করার চেষ্টা করি।


ভোর হলেই ছাদে গিয়ে বসি,এসময়টা চারিদিক থেকে ঠান্ডা হাওয়া আসে।বাবার পেয়ারের ফুলবাগানের মাঝখানটায় এখন আমার বসার অধিকার আছে।আর ঘরের সমস্ত বন্ধ জানলা খোলার অধিকার আমার গৃহিণীর ।

                           -------

সন্দীপন দত্ত


নির্বাপিত

তোমায় নিয়ে দুয়েক শব্দ লিখে ফেললে

খুব আরাম হবে-

এরকম কোনও আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে না।


অতএব সেইসব সুদীর্ঘ সময় শূন্য করছে স্নায়ু...


স্মৃতি নিয়ে যতটা আতুকতুলা

স্মৃতি তার চেয়ে ভারী অনুপান।


জরদা চিবিয়ে গিলে ফেললে শরীরে এসব হয়ে থাকে;

তোমায় চিবিয়ে গিলে ফেলেছি প্রতিবার...


খেলার মতো জটিল কৌশল

কোনও মাঠ, কোনও ছাদ, কোনও সিঁড়ি, কোনও গাছ, কোনও পায়রা রাখার চিলেঘর

সব মিলেমিশে খেলার মতো


এসব লিখতে যেটুকু আগুন প্রয়োজন...


এমন কী তোমায় নিয়েও দুয়েক শব্দ লিখতে পারি না

বর্তমান!

 ‌‌‌‌‌                            ------

                         অনিমেষ

ব্ল্যাঙ্ক স্কড 

তোমার বুকের ভেতরে পোড়া ক্ষত

তার আরও ভেতরে শুয়ে আছে শ'য়ে শ'য়ে লাশ

চোখভর্তি শূন্যতা খেলা করে ছায়ারোদের লুকোচুরি শেষ হলে


আমার তখন তোমাকে ছুঁয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি 

ভেজা পাহাড় হয়ে যায়,মাটি ছুঁতে পারিনা বলেই ডানা হয়ে যাই,ঝরে যাওয়ার জন্য...

                        --------

                      অজিত বর্মণ
 ‌‌
সম্পর্ক

সাজানো রাতে কাঁচ ভাঙা স্বপ্ন
বুকের গভীরে নীল টোন বেজে ওঠে
পাহাড় গলে বালিয়াড়ী জীবন 
নিষিদ্ধ গলির মোড়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করে।।



নিয়মিত দুরত্বে হাটছি 
মেয়াদ শেষের বারোমাসি দিনলিপি;
শুটি পোকাড় চালে 
আমিষ নিরামিষের পালাবদল,
বাড়ন্ত ভাতে মৃত্যু মানুষের মতো নয়।।    
                       ‌‌ -----    
 
                       শৈলেন দাস

প্রত্নলিপি

নুন-পান্তার গার্হস্থ্য দিনের জলছবির অশ্রুধারা ঢেকে রাখে আষাঢ়ের জল 
পোড়াচাঁদ উথাল পাতাল দোলে গানদিঘির জলে
জ্বলন্ত মোমের মতো চাঁদ গলে যায় আর রেখে যায় 
জন্ম চিহ্নের মতো অনন্ত দাগ 

আমি ভীষণ ভারি পাথর বুকে নিয়ে ঘুরি
নোনা জলস্রোত বয়ে যায় পাথরের 'পর
ক্ষয়হীন পাথরের বুকে অচেনা ভাষার শিলালিপি---
দুঃখ-ফসিলের চিরন্তনী ডি এন এ নক্সা 
পেঁচানো সিঁড়ি জুড়ে লেখা,  অসুখী জীবন

দু-আনা সুখ নিয়ে লুকোচুরি খেলি, একাকি কাঁদি 
ধরা পরলেই 'হো' 'হো' করে হেসে উঠি!
 ‌‌                       ---------
              
                  সুব্রত রায় চৌধুরী

ইচ্ছেমত 

বর্ষা, তোমায় দেখতে চাই।
নীল আকাশটা যখন ঢেকে দাও ধূসর চাদরে-
তখন কী তোমার মুখে খেলে যায় মৃদু হাসির মেলা?
তখন তোমাকে দেখতে চাই।

এই তো সেদিন-
একলা পথে চলতে গিয়ে ও পাড়ার ফুলমণির ছিঁড়ে নেওয়া রক্তাক্ত শরীরটা যখন চাদর খুঁজছিল একটা?
তখনও কী নূপুর পায়ে দৌড়ে এসেছিলে ওকে ঢেকে দিতে?
দৃশ্যদূষণ? বালাই ষাট!
তখনও আমি তোমায় দেখতে চেয়েছিলাম। 

জানো বর্ষা?
শুনেছিলাম তুমি বড় রূপহীনা-
বড্ড বোরিং তুমি-
সারাদিন টিপ টিপ , টিপ টিপ-
চারপাশ ধূসরপানা-
বার্ধক্যের মৌতাত!
তখনও আমি তোমাকে সুন্দরী দেখেছিলাম। 
দেখেছিলাম তোমার দুষ্টুমিভরা মুখখানি -
অবগুন্ঠিত, তোমারই সুখের চাদরে!

বর্ষা, তুমি এমনই থেকো।
তোমারই না দেখা মনন দিয়ে
সবাইকে বেঁধে রেখো।
                          ------
              End of page 9th
 


WEB MAGAZINE.GHORSOWAR. ঘোড়সওয়ার ওয়েব ম্যাগাজিন


       Editor. Nihar Ranjan Das

       Siliguri. Darjeeling. India


🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

সালেহা আকতার

পাথর ছবি

মৃত্যু এখন ভেলকি জাদু

বুড়ো দিঘির চর

নষ্ট গ্রহের পাথর ছবি

বরফ শীতল চোখ

কান্না গুলি দায়িত্ব ভুলে

কার্নিশে জল ঝরে।

গুনগুন সুর ওঠে- হায়রে মানুষ

জীবন এখন নতুন ঘুড়ি

সামনে-পিছে মৃত্যুপুরী।

সপাৎ সপাৎ পাছায় বাড়ি- উধাও সে বয়

তুলসী তোকমা বিজলি দানা হুটোপুটি খায়।

মৃত্যুর সাথে লড়তে চায়। কটমট দাঁত হুংকার

কোন তোর আজরাইল বাপ ইসরাইল বাপ

পিছন যুদ্ধ? সাহস করে সামনে আয়।

এত কিছু দেখে বেকুব আকাশ

রং ছড়িয়ে নিরব কেন সাজে

লাশের গাড়ি ভীষণ ভারী

আজব চাকায় চলে।

                       ------

সুজিত বক্সী

রসিকতা 

আজ সারাদিন বৃষ্টি হবে,এটাই ছিল কথা।

মাঠ ভরে যাক,সঙ্গে থাকুক মাদক নীরবতা। 

মেঘলা সকাল,দমকা বাতাস একটু বে- খেয়ালী--

এক বিরহী একলা ভেজে,হয়তো "চোখের বালি"।


বর্ষাতিটা সরিয়ে রেখে 

একটু অবাধ্যতাই করলি না হয়,

দুইজনাতে একটু ভিজি আয়।

ঐ দূরে কোন মন খারাপি,জানলা খুলে রেখে--

শুন্য চোখে একটানা ঐ আকাশটাকে দেখে?

বাড়ন্ত যার ঘরের রসদ,মেঘলা মাদকতা,

হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি মাপা,করুন রসিকতা। 

দেশ জুড়ে আজ মেঘ ভেঙেছে, আর ভেঙেছে মন।

দেমাগী ঐ বর্ষন কাল চলবে কতক্ষণ? 

খুঁজছি আমি এ আদ্রতায় একটু বড় শহর।

অল্প খাবার আর আশ্রয় জুটুক অবাঞ্ছিতর।

উথাল-পাথাল হাওয়ার সাথে বন্ধু কিছু জুটুক।

ইচ্ছে গুলোয় আগুন জ্বেলে,আর দুটো ভাত ফুটুক।

                          -------

মীরা চতুর্বেদী 

বলতে পারি 

নিখুঁত কবিতা এখনো লেখা হল না,দলছুট অক্ষরবহর ছুঁয়ে চলে অসহ্য যন্ত্রনায়,মন চলে যায় মাঠের পারের উদাসীনতায়।

জনসমাজ শোষণ জর্জরে আবর্তিত,কবিতারা এখন কেবলি দর্পনে দর্শিত। উৎপিড়ীত কৃষকের সিক্ত চোখের পাতায় মুক্তির ভীত রচনার উন্মাদনা,দাসত্ব পীড়িত বাস্তব জনজীবন ।নিখুঁত কবিতায়,নিখুঁত কথা লেখা হল কৈ ।

বিস্মৃতির অতল থেকে বুড়বুড়ি কাটে আধপেট খাওয়া সরল মানুষের গ্রাম সংসার ।ধীরে ধীরে ধানক্ষেতের আলপথ হয় সংকুচিত ,উদাসী দিগন্তরেখায় ।দৈনন্দিন খামোশী দাঁতে দাঁত চেপে শক্তি সঞ্চয় করে নেয় ।কবিতার আনাচেকানাচে হাঁটতে থাকা ক্লান্ত শরীরের কথা,আর দিনযাপনের চুঁইয়ে পরা ঘামের পুরু মাটিতে বার বার বীজ থেকে জন্ম নেবে নবীন শিশু চারা,এ কথা আমি হলপ করে বলতে পারি ।

                        ------

মুক্তি সরকার

স্বপ্নসাথী 

কাঁকরের পথ নয়,ছায়াপথ তোমার পছন্দ।

বলতেই পারতে!

আকাশের গায়ে ঘর বাঁধবে 

রামধনুর সাতরঙ মিলিয়ে ছবি আঁকবে 

সাদা তো তোমার প্রিয় রঙ।

সূর্যের সাথে বন্ধুত্ব করবে বুঝি!

শূন্যে ভাসবে, দূর হতে পৃথিবী দেখবে,

তারাদের সাথে গলাগলি করবে।

বেশ!আমায় ডাকতে পারতে!

আমিও না হয় সঙ্গী হতাম।

                        ------

বর্ণালী রায় সরকার

জন্ম 

একটা জন্ম, ভ্রুণের প্রাণ পাওয়ার কাব্যকথা। 

একটা জন্ম, সূর্যের প্রথম কিরণে, নিজেকে ভিজিয়ে নেওয়া, 

ভোরের নরম আলোয় গা ভাসিয়ে দেওয়া। 

আলপথ , ধুলোপথে , ভাটিয়ালি, বাউলের সুরে ডুবে যাওয়া, 

মেঠোপথ পেরিয়ে ধানের শীষের ছন্দে ছন্দে দুলতে থাকা। 


একটা জন্ম, জোনাক আলোয় ভেসে যাওয়া, 

কখনও বা জ্যোৎস্নার আলোয় নিজেকে বন্দী করা। 

একটা জন্ম, আদুরে বৃষ্টি ফোঁটাদের সাথে পথচলা, 

জীবন জুড়ে রংবাহারী ছাতাদের গল্প হয়ে থাকা । 

একটা জন্ম, কিছু মানুষের ইচ্ছে পূরণের মেলা, 

আবার কিছু মানুষের আধপেটে কাটিয়ে দেওয়া। 

একটা জন্ম, ছায়াপথ মাড়িয়ে আলোতে এগিয়ে যাওয়া, 

আবার কখনও স্বপ্ন পূরণ বা অধরা স্বপ্নের গল্প হয়ে থাকা, 

একটা জন্ম , একটা জীবন  !! 

                                ------

                      কৃত্তিবাস বর্মন

পুনর্জন্ম

প্রতিদিন কবর হই...

কবরে ফুল ছড়িয়ে দেয় না কেউ,

করে না কেউ অন্তিম সৎকার...!

রূপ- যৌবন কর্দমাক্ত,

শরীর পচে দূর্গন্ধ।


তবুও বেঁচে থাকার প্রয়াস...!

লস্কার শীতল প্রবাহে

স্বপ্ন দেখি পুনর্জন্মনের!

অপেক্ষারত...

লাবণ্যময়ী এক সুন্দরী!

 ‌‌‌‌‌‌‌                        ------

অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় 

বিভীষণ

বিভীষণ আজও ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক ।

ভূমিপুত্র রাবণদের 

ভূমি ছাড়া , রাজ্য ছাড়া করতে ,

আজও বিভীষণ ছাড়া গতি নেই ।

হাজার ভালো কাজও ,

ছোটো খাটো ভুলত্রুটির কাছে ,

ঢাকা পড়ে যায় ,

প্রচারের ঢক্কানিনাদে ।

যুগে যুগে , বীর রাবণদের ,

এভাবেই আত্মাহুতি দিতে হয় ,

নিজভূমে পরবাসী, পরাজিত হয় সে ।

 ‌‌‌‌                        -------

সুব্রত দত্ত

উল্লসিত রাত  


নিঝুম রাতে চুপকথারা যখন

উদ্দাম সুরে উদ্বেলিত, দেহবল্লরিতে

উল্লাস যাপনে মগ্ন কিছু মত্ত মানব,

নিয়ন আলোয় সৃষ্ট মায়াবী ইন্দ্রজালের

স্বর্গীয় মৌতাতে সম্পর্করা হারিয়ে যায়!

সামাজিক কীটেরা আঁকে নীল নকশা ,

ক্ষমতাবানদের আশীর্বাদ আর সান্নিধ্যে।

ঠিক সেই মুহূর্তে পাশের ঝুপড়িতে অনাহারি

শিশুর কান্নার শব্দ শোনা যায়,

"মা, খুদা পাইসে।" মা ধমক দিয়ে বলে,

"কাইল খাবি। আইজ ঘুমা দেহি।"

তবু কান্না থামে না, পেটে আগুন জ্বলছে যে!

ওরা যে জানে না, কেন ওদের খাবার জোটে না।

হুল্লোড় আর কান্নার কথারা রাতের আঁধারে 

দূর থেকে আরো দূরে মিলিয়ে যায়।

শুধু এক আকাশ তারার কান্না

বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে অসাম্যের জনপদে।

তারাদের কথা একদিন আগুন জ্বালাবে

মানুষের মনে, সবহারাদের প্রাণে, তারপর উল্লাসের রঙধনুতে বিশ্বমানব উঠবে জেগে।

 ‌‌‌‌‌                       ------

রাজর্ষি সরকার

শান্তিপর্ব

একদিন,

থেমে যাওয়া ঝড়,

আমাদের দেখাবে মেঘ ভাঙ্গা সূর্যের মুখ। 

সোনালী রূপালী আলো

পৃথিবীতে এসে পড়ে

জাগাবে অনাঘ্রাত সুখ।।


পাশুপত-প্রলয়ের শেষে,

প্রসন্ন নটরাজ তাণ্ডব থামাবেন হেসে।

পাদদাপে তার যত ধুলো,

শান্তির সিঞ্চনে ক্লান্ত মাথা ছোঁয়াবে

দাপিত পৃথিবীর শয্যায় এসে।।


একদিন,

শান্ত হবে সব ক্রোধ-

চেতনায় লীন হয়ে যাবে রক্তাক্ত বিরোধ।

একদিন সব আক্রোশ,

কুরুক্ষেত্রের পরের সন্ধ্যায়

শান্তিপর্বের অনুশোচনায়

নিভে যাবে সব প্রতিশোধ।।


হিংসার রক্তাভ চোখ,

ঝাপসা দৃষ্টিপাতে দেখবে

সামনে অশ্রুর পারাবার।

গাণ্ডীব সুদর্শন সব

বিসর্জনে ভেসে যাবে

অতল সাগর জলে-

নিবৃত্ত হবে উদ্যত সব অসিধার।।


একদিন,

শেষ হবে শরশয্যায় 

ক্ষত-বিক্ষত দেবব্রতের অন্তিম শয়ান।

প্রসন্না অম্বার দেহ,

চিতার লেলিহান দাবদাহে

খুঁজবে না পরজন্মের হিংস্র অভিযান।।


একে একে মুছে যাবে

দুঃস্বপ্নের,বেদনার ছবি।

সার সার মৃত্যুর শেষে

আলোকসাগরে ভেসে

অনুরাগগীত লিখবেন কোনো কবি।

 ‌‌‌‌                        ------

          The end of 8th page. 



Sunday, 25 July 2021

WEB MAGAZINE. GHORSOWAR. ঘোড়সওয়ার ওয়েব ম্যাগাজিন


        Editor. Nihar Ranjan Das

       Siliguri. Darjeeling. India


🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

পরাগ ভট্টাচার্য্য

সঙ্কল্প

চৌকোনা চৌকোনা ঘর, 

ঘরের মধ্যে ঘর, পাশাপাশি ,কোনাকুনি

আমার পৃথিবী! 

খোলা বাতায়ন, বাতাসের আগমন

রোদ চুপিসারে ঢোকে

বৃষ্টির ফোঁটার বিরক্তি শুনি, 

ঘরের ভিতরে চেয়ার, টেবিল

ফ্রিজ, মিক্সি, কৌটো, খাবার

খাট, চৌকি, আমরা, যে যার মতো, 

যেগুলো যেখানে আছে, জায়গাও বদলায় , 

সামনে বোসদার ঘরে জিনিসপত্র প্রায় একই

কিন্তু আলাদা জায়গায়, ওদের পৃথিবী! 

সবার নিজেদের ঘরে

আছে ফুলদানি, শোকেস ভরে কত কিছুই

দেয়ালের রংটাও নিজের পছন্দের, 

এত বড় পৃথিবীর খবর, টিভির পর্দায় ভার্চুয়াল

খবরের কাগজের নির্জীব পাতায়

যার যেমন পছন্দ বেছে নেয়

জীবন্ত ছবিগুলো, কখনো চমকে দেয়

নিজেদের পৃথিবীর চার দেয়ালে, শুনি, দেখি;

পৃথিবীর বৈচিত্র্য ঘেরা গাছ, নদী, পাহাড়ে নয়

জীবজন্তু, মানুষের মাঝে শুধু নয়

বৈচিত্র্য আমাদের প্রত্যেকটি মনে

প্রত্যেকের ধ্যান ধারণায়

প্রত্যেকের চলাফেরায়

প্রত্যেকের স্বভাবে, চরিত্রে, ব্যবহারে

এটাই সত্য, অস্বীকার করলেও! 

যে যার নিজস্বতা খুঁজে পায় এরই মাঝে, 

কোন জটিলতায় এই পথ যেন ভঙ্গুর না হয়

নিজেদের সঙ্কীর্ণ মনটাকে বুঝিয়ে

ফুলের মতো প্রস্ফুটিত করাই হোক, সঙ্কল্প আমাদের! 

পৃথিবী ঘুরে চলুক নিজের ছন্দে।

                          -----

রাজীব দে রায়

মহামারী

বৃষ্টি নামলেই 

শহরটা গাঁয়ের মত হয়ে যায়

ক্ষেত্রফল জুড়ে মিশে যায় জল আর প্রেম 


অসময়ে কিছু প্রেমিক-প্রেমিকা 

সস্তা মদ খেয়ে ঢলঢলে রাস্তা ধরে 

শীতঘুমে চলে গেছে


সেইসব বেসামাল রাস্তার ধুলো-বালি 

ঘোলা জলে মিশে 

এ-গলি সে-গলি ঘুরে

জং-ধরা দরজার কাছে 

হাঁটু ডোবা জলে

কলেরার মতো ফিরে ফিরে আসে ।

- ‌                     ----- 

বিজয় বর্মণ

উপহার

এ মনের ভিতরে, 

আরও একটি মন, বাঁচিয়ে রেখেছি,

সময় ফুরিয়ে গেলেও,

বেঁধেছি তারে সযত্নে।


শ্রাবণ আসে যায়,

দেখি যে মেঘের গায়ে, রংয়ের বদল,

কথা এখনও বাকি,

জমিয়ে রেখেছি সময়।


সুদূর আকাশ পানে,

চেয়ে দেখি, নিয়মিত উপহার সম,

ঊষা ও গোধূলি,

চোখ বুজে সুখ অনুভব।

 পারলে একবার এসো,

মনের প্রান্তর, সাজানো ছায়া তলে,

তোমায় দেবার আছে,

আমার একটা নদী।

                           -----

পুতুল গুপ্ত


বৃষ্টি 

       

   বৃষ্টি মানেই,

          নেই রোদ্দুর,

    রোদে ভরা আকাশ!


   বৃষ্টি হলেই,

        টাপুর টুপুর,

      এলো,মেলো বাতাস!

 

   বৃষ্টি মানেই,

        বাইরে গেলে,

    মাথায় ছাতা নেওয়া,

   বৃষ্টি মানেই,

       ভেজা মাটির,

    গন্ধে পাগল হওয়া!


     বৃষ্টি হলে,

            ধীরে ধীরে,

       জলেতে পা দেওয়া,

         বৃষ্টি মানে,

          বর্ষার গান,

     গুনগুনিয়ে গাওয়া!


ঝড়ের সাথে বৃষ্টি হলে

   উথাল, পাথাল হাওয়া,

          ভালো লাগে,

     তবুও যেন,

       বৃষ্টির সুখ পাওয়া!!!

                          -------

রীনা সাহা

কিছু থাকে বাকি

আজও দু'একটা সুখ তাকিয়ে থাকে

আমার বিবর্ণ মুখের দিকে।


আমিও কাছে টেনে নিই তাদের

সব চাওয়া পাওয়ার হিসেবগুলোকে পেছনে ফেলে

আজও ভালবাসি এই সুন্দর পৃথিবীটাকে।


মুক্তির আকাশ আমায় শিখিয়েছে

জীবন ক্ষুদ্র, ভালবাসা মহৎ।


জানলার ঝুলে কিছুটা ঝাপসা আমার আকাশ

চিলেকোঠার সলতেটা তাই আগলে রাখি পরম যত্নে।


দু'চোখে চিকচিক করে প্রাচীন রোদ

অজান্তেই হাত চলে যায় অভিমানের ভিজে পাঁচিলে।


বুঝতে পারি ভালবাসা আজ ভাল নেই

হাজারো অসুখ ডানা বেঁধেছে তার শরীরে।


অথচ আমরা চাইলেই পারতাম-

পরস্পরের মনের একটু কাছে চলে যেতে 

চোখের গন্ধে করতে চোখ প্রদক্ষিণ।


কিন্তু পারিনি..…

আলোর মূল্য অন্ধকার না হ‌লে যে বোঝা যায় না।


কে বলেছিল আজ আর মনে নেই-

"নিজেকে ঠিক ততটাই ভালবাসো

যতটা ভালবাসলে এক বিরাট শূণ্যতা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পূর্ণতায়।"


ভাবতে ভাবতে হাঁটতে থাকি দিকশূণ‍্যপুরের দিকে

আনমনে প্রচ্ছদ আঁকি সরে যাওয়া গল্পগুলোর গায়ে।


কিছু শব্দেরা ফুরিয়ে যেতে যেতে গুনগুন করে ওঠে রবিঠাকুরের সেই প্রিয় গান-

"তোমায় কেন দিইনি আমার সকল শূণ্য করে"....

                           ------

সঞ্জয় সাহা

গাঁয়ের রথের মেলা 

শহর ছাড়িয়ে একচল্লিশ কিমি দূরে,

বসেছে একটা ছোট্ট রথের মেলা |

পায়ে হেঁটে আসতে হবে এখানে, 

যায় না পাওয়া ভ্যান রিক্সার গাড়ি|

ছোট্ট গাঁয়ের রথের মেলা দেখলে চলে এসো, 

পাবেনা এখানে দূষণে ভরা মাঠ, 

যেদিকে তাকাবে পাবে সবুজের ছড়াছড়ি, 

ফসলে ফসলে ভরে আছে সবুজ মাঠ খানি |

ঘরে ঘরে পাবে অভাবি দুঃখী ছেলেকে, 

তবু এদের মুখে হাসি মাখানো আয়না|

চারপাশে ভরে আছে রথের মেলার আবেশে, 

তারি মাঝে সাজে লটকা জিলিপি

পাঁপড় ভাজার পসরা |

দু -চারটে ঘন্টা থাকলেই টের পাবে, 

গ্রাম্য মানুষের রথের মেলার প্রাণের স্পর্শ |

একটু হলেও ভক্তরা সবাই.... 

হরি হরি বলে রথের দড়িতে দেবেন টান |

এখানে আছে জগন্নাথ বলরাম ও শুভদ্রা,

ভক্তরা সবাই ছেটান চিনি কলা ও বাতাসা, 

গাঁয়ের মানুষ প্রসাদ রূপে নেয় ভক্তের মাঝে এসে,

ঘরে ঘরে মহা আনন্দে নতুন প্রাণের স্পর্শে|

                            --------

সোমা দে

আহ্বান

গহীন অন্ধকারের ঠিক একহাত আগে

স্তম্ভিত আমি 

পেছানো অসম্ভব  , এগোলে খোলা কফিন 

দূর আকাশের মিটিমিটি তারাদের আড্ডায় সামিল হবার আহ্বান 

হৈ হুল্লোড় নেই নিবিড় শান্তি ও নেই ,  শুধু জলন্ত হাহাকার 


এমনি করেই একাকীত্বের পথ ধরে , 

একদিন পৌঁছে যাবো জীবনের শেষ স্টেশনটায় 

তুমুল বৃষ্টি হবে 

প্লাটফর্মের শেষ ডিজিটাল ঘড়িটাতে ঝাপসা দেখাবে সময় 

ক্লান্তির আবেশে বুজে আসা চোখে 

ছড়িয়ে থাকবে স্নিগ্ধ  নীরবতা ।

                         -------

রানা সরকার

ফুরিয়ে যাওয়ার আগে 

 চঞ্চলতা, বাকপটুতা, আচরণে সূক্ষ্মতা, 

প্রজাপতির ন্যায় ছটফট করা, চোখে চোখে 

শাসন করা, এক আকাশ হাসি মুখে

বিলাপের পর বিলাপ, পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া।


দীর্ঘশ্বাস, নদী দিয়ে বয়ে যায় স্মৃতি।


দূর হতে দেখছি,  তোমাকে আগুনে পুড়তে 

পুড়তে সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া ভেঙে যাওয়া 

খানখান হওয়া নাবিকের মতোন।


সবটা ফুরিয়ে যাওয়ার আগে 

শান্ত হয়ে নদীর জলে পা ডুবিয়ে

বুকের পাথর ভাসিয়ে দিও, মেঘ বালিকার মতোন।


তারপর আকাশের দিকে চেয়ে স্থির দৃষ্টিতে বলো  

: ফিরতে চাই আমি, আমার মেয়েবেলার যাপনে।

                           -----

মঞ্জু ঘোষ চৌধুরী

আর্শিতে

কাঁচ ফাটা আর্শিতে আমার অস্পষ্ট অবয়ব। যে শিকর হতে আমার উদ্ভব

দিক, দিগন্তে  প্রসারিত রক্তের বাঁধনে নিমজ্জিত। 

শৈল শিখর নত হয়ে আসে তাপ বিকিরণে। 

কঙ্কালসার শরীর নিয়ে  দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আগামীর প্রত্যাশায়। 

মেঘের আদ্রতা ছুটে আসে 

বারি বাষ্প নিয়ে। 

হারিয়ে যাওয়া কৈশোর কে খোঁজার চেষ্টা করি, 

পায়ের তলার মাটি আলগা হতে হতে ঝুরঝুরে চোরাবালি হয়ে যাচ্ছে। 

বাসস্থান ভাগ হলো, ইচ্ছে গুলো হারিয়ে গেলো রক্তের হলো না ভাগ। 

আজ জীবনের শেষ ভাগে এসে 

পশ্চিমের ডুবে যাওয়া আলোতে 

ভাঙ্গা আরশিতে দেখতে পাই 

সহস্র রেখায় স্পষ্ট আমার ও স্বজনদের নির্লিপ্ত অবয়ব ।

 ‌                       ----- 

             End of 8th page