Monday, 11 October 2021

5th part of festival issue



Editorial - 
Poetry reflects life;
passion follows dreams  as a disciple worships purity. The eternal bond of art and life creates divinity. Let's flow in this spontaneous stream.

সম্পাদকীয় -
কবিতা যদি জীবনের খোঁজ হয় তবে কবিতা খুঁজে নেবে আরোও হাজার উপাসক,কবিতার সাথে হৃদয়ের বন্ধন যেন এক উপাসনা । উপাসনা হোক মহামিলনের আত্মার আত্মীয় করে চলায় এগুক জীবন,তবেই কবিতা ঈশ্বর । সকল কবি তবেই মিলনের পুরোহিত ।


ঘোড়সওয়ার - Ghorsowar ~
Editor. Nihar Ranjan Das .

Editorial and coordinator team

 Marlene Pasini ( Mexico )

Gitan Alice lleana ( Romania)

Miroslava Panayotovs 

(Bulgaria )

Gerlinde Staffler (Italy)

Madhu Gangopadhyay, ( India ).

Mala Chakraborty , (India )

Purbasha Mandol ( India )

Smita Gupta Biswas , (India )

Sujata Ghosh Roy . ( India )

Subrata Roychoudhury (India ) 

Monju GhoshChoudhury (India) 

Sujit Baksi ,( India )

Sanjita Das laskar, ( India )

Bilash Ghosh , ( India )

Kakoli Ghosh( moon) ,( India )

Shipon Sohag ( Bangladesh )

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
                   শুভব্রত দত্ত ( ভারত )

ঝোলানো সময়

আজকাল চোখে-মুখে মনু-স্মৃতি, 
অতীত শরীরে রঙিন সাঁতারকাটা! 

দূরদর্শনের এন্টেনা হাওয়ায় ঘুরে, 
রামমোহন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্র স্ট্যাচু ফেলে, 
ঘোড়ার গাড়ি, গোরুর গাড়ি, পাল্কি, অদূরে---
রনপায়ে গভীর জঙ্গল, হাঁ- রে-রে-রে-রে, 
কাঁপা-ভয় প্রাণটাকে বুকে ধরে, 
যত দূর চোখ যায় বিস্তৃত সুদূর, 
চলেছে এদিকে এক অলৌকিক রাস্তা বহুদূর! 
এখানে বল্কলে ঢাকা অঙ্গ, নাচায় শিকারী-হাত, 
কাঁচা-মাংসে ঝোলানো সময়, 
বাতাসে শুকোয় উলঙ্গ মায়া-রাত। 

এপথে দ্বাপর, ত্রেতা,, সত্য, ---
এখানে সবাই সুর! 
রাজসভায় কাঁদে অপ্সরার ঘুঙুর। 

মর্গে পড়ে আছে লাশ বিস্মৃত অতীত;
দূরদর্শনের এন্টেনা হাওয়ায় ঘুরে, 
বাতাসে ভাসছে রামধুন গীত, ---
শম্বুক ঘুমাও সুখে শূদ্র-মন্ত্র-কুহকে!

         Shaswati Chatterjee
                        ( India )

The arrival

I shall wait
Till the concert is over;
I shall wait,
Till the strings are tired on the lyre..,
Till my songs freeze the evening star!
I shall wait,
Till time turns my pages over,
To read aloud 
What I might call as the concluding chapter..

I shall wait,
Till you arrive at the banquet little late,
In some bluish eve attired in some manly grey..
To throw ur magic glance at me
Amidst the wild crowd,
And drop the blood-red rose by my side,
Affirming a presence gentle yet proud!
I shall wait
Till I smell it at the empty balcony
Beyond the eyes of the busy folk;
And find you stooping to pick up
The hairpin fallen from my shaking hold..
I shall wait 
Till you walk closer to me than the rest,
And the party starts dancing at its very best.
I shall wait..... 
Till you seem so pleased to see my steps!
Till my lashes are laden with thy warming dreams.
I shall wait.....
Till the evening dies so happy and insane,
To tell our story little louder in every sense!

                    মমতা ভৌমিক
                       ( ভারত )

পরকীয়া

তোর হাত ধরলেই হিমবাহে গলে নৈঃশব্দ
তোর চোখে তাকালেই মিয়ামি বীচের ঢেউ স্তব্ধ
তোর কথা ভাবলেই জেগে ওঠে আগ্নেয়গিরি
তারপরও তোকে ভুলে থাকতে কিভাবে বল পারি?

একরাশ স্বপ্নেরা তোকে ঘিরে উড়ে উড়ে নাচে 
অন্ধকারের বুকে জোনাকিরা আনাচে কানাচে
তুই পাশে থাকলেই সময় সে যেন বাগদত্তা
ষোড়সীর আঙিনায় নেচে ফেরে সমস্ত সত্ত্বা

এরপরও বলবি কি কেন আমি তোর কথা ভাবব
শরতের মেঘ ছুঁয়ে কোথা থেকে আসে এতো কাব্য
রাত যদি নেমে আসে তখনই তো উঠে যায় চাঁদটা
আর ঠিক তখনই তো ভেঙে পড়ে সামাজিক বাঁধটা।

            Valentina Novkovic
                     ( Serbia )

Swing of the rope

Life has gray eyes
that have forgotten 
what happiness is 
and soap bubbles 
that a girl in a wheelchair
is trying to reach. 

A smile is sometimes
a broken bone of illusion
and skin that is crucified
for a higher goal. 
And most of all, 
it is a slight swing of the rope
that keeps us upright
as we walk on the ice.

             Gordana Jež Lazić
            ( Belgrade, Serbia )

CLUE

My courage is not courage
That is indifference
A dead man
My pride is not impudence
It is a cold speech of stone
My tenderness is not love
That's the last clue
My trampled souls

And you're telling me about beauty

My dear
I died looking for
With a beautiful soul
And God gave it to me
To find her dead

                      সন্দীপন দত্ত
                       ( ভারত )

বেসিক ইন্সটিংক্ট

শ্যারন স্টোনের পায়ের মতো
অসতর্ক সরে যাচ্ছি
বিপজ্জনক লোভে
চোখের সুখ করার মতো
লিখে নিতে চাইছি 
এসবই ছোটলোকের কাজ
বরফ কাটার ছুরি দিয়ে মেরে ফেলা
এবং এক বিশাল আয়না
কেউ বুঝবে না এসব
অথবা যে বোঝার বোঝে
তবু খুন তো হয়েই থাকে হামেশাই
পাতায় মুখ ঢাকা হরিণ শাবক 
গুলি খায় শরীরের নরম প্রকাশ্যে


                     Tanja Ajtic 
                       ( Canada )

Source

Don’t tell me how to go away, 
how to get over it.
You don’t hear my heart how crazy it beats 
and the blood goes down the slide.
I don’t breathe.
Don’t tell me that tomorrow will be better
and the world is woven with shiny threads, 
with the colors of the Sun.
You don’t see the rain that unpleasantly taps 
on the roof of the city and disappears slowly,
it is scattered and extinguished.
Don’t talk to me, keep silent
Our eyes will see all the weight of heavenly clouds.
Our eyes will meet with silent glances in time.
Don’t talk, the universe sleeps.
Don’t whisper, not to wake billions 
of eyes from the sky that blink.
Don’t tell me anything.
In your harbor, however my long memories are poured.
You don’t know the source.

                         পার্থ কর 
                          ( ভারত )
পুঁইপাঁচালি 

তোমার কথা বলা বারণ লাউডগা হে পুঁইমাচা,
তোমার কথা বলা বারণ কদম পিসি নুরুলচাচা।
তোমার কথা বলা বারণ শিমুলতুলো পুকুরঘাট,
বলা বারণ ছোঁয়ার খেলায় ইচ্ছেমতো তোমার হার।
ভয় ধরানো প্রথম কুঁড়ি ফাল্গুনী বুক সন্ধিকাল,
কালসন্ধ্যায় বলা বারণ চৈতী অসুখ টালমাটাল।
আলতো সে সুখ দুপুর কোণে ঘুমপাড়ানি চুপটি মন,
কাটলো যে দিন অনেকগুলো অস্তরাগে সাঁঝ-ইমন। 
মাঠ-কিশোরীর কলমি আঁচল ওড়না বুকে কাহ্নগীত, ভাসার জন্য সেই-ই ছিল, এক্কেবারে জাহ্নবী।   
সেই যে নদী, বলা বারণ, বলছি তবু— তার কানে 
কেউ তোলেনি কৃষ্ণ-কথা, জলকে গিয়ে, কিম্বা স্নানে।
গ্রামদুহিতা উদাস সদা, জীবন জুড়ে বিষণ্ণ।
বলা বারণ বলা বারণ লাল কেন চোখ, কী জন্য! 
ছয়টি ঋতু পরব তেরো, তবু দেখো, ছুমন্তর—
একটি পরব বুকপলাশে, বছরভরই বসন্ত। 
অনেক কিছু বলতে গিয়ে বুঝতে পারি বলতে নেই,
তেমন তেমন আদর খুঁজে আঁতুর কথা কোল চেনে।
দিব্যি দিলে বলতে পারি, সময়মতো বললে যা- হয়তো গুমোট হাওয়ায় শেষে হয়তো হতে কাকভেজা...
তোমার কথা কথা বলা বারণ হাসনুহানা, বাঁশীর সুর— 
বলা বারণ দেখতে পেতাম তোমার বুকে অচিনপুর।

 Chigozie Emmanuel Okonkwo
                     ( Nigeria )

Let's Change the world.

  Let's change the world-
  Open the windows of our minds
  To the realities of our world;
  Start seeing far beyond           individual self;
  And redirect our sense of     direction.
  Replace hate with love:
  Plant peace where there is   unrest;
 Give comfort where there is   pain.

   Oh, let's together change it-
   Our world needs change-
  Insert hope where there is            sadness;
  Infuse strength where there is   weakness.

Confidence let's generate where there is despair;
Knowledge that works and efficiency that creates
Let's pursue instead of just mere decorated papers.

    Good names let's strive more to archive
        Rather than silver and gold,
For where these wear off, good names linger on-
The world a better place let's make for all human.

                    সফিকুজ্জামান 
                          (ভারত )
কৃশানু 

যন্ত্রণার কোনো শব্দ হয় না-
চোখের আড়ালে জ্বলে ওঠে 
আকাশ ভাঙার বজ্র বিভীষিকা 
হৃদয় কুটিরে জ্বলে কৃশানুর বাণ।

চোখ মেলে চেয়ে চেয়ে দেখি-
উদার আকাশ রঙ সুগভীর নীল
আঘাতের রেখা নেই 
তার কপালে কোথাও 
ধমনিতে লেগে আছে আঁধার প্রলেপ। 

বহুদূর সীমান্তের গ্রামে
এক পাপড়ি শাতন ফুল
উপেক্ষা রজনী শেষে 
ছুঁয়ে দেখে কবরের মাটি।

              Tamikio L. Dooley
                 ( United States )

Anything Sweet Autumn and Winter

Anything sweet autumn and winter,
like the sweet brownness dying leaves,
and the metamorphosis of golden, rust intensities in its timely presence,
 
Anything sweet autumn,
like the seasons deviating away from spring blooms, and summertime green pastures.

Anything sweet autumn and winter, like a child, mushrooming into an adolescent, nurturing into youthful adulthood, simply to disintegrate, after timeless aging,


Anything sweet winter,
like the leaves languishing,
and conversing into shimmering snowflakes assembling from heaven, dissolving from within,
 
Anything sweet autumn and winter will always be remembered for its extraordinary shades and colors, and winter ends in what’s meant to be.

                   সুতপা চক্রবর্তী
   ‌‌‌‌ ‌‌‌‌                    ( ভারত )
আমি
আমি যখন রাস্তা পার হই
রৌদ্রস্নাত উষ্ণতা দেয় যৌবন
শরীর যখন বৃষ্টিস্নাত ফাগুন
আগুন তখন দুরন্ত রূপ নেয়।।
আমি যখন ছাত্র পড়াতে বসি
কাল মার্কস এসে দাড়ায় দরজায়
আমি যখন রম্ভা সুন্দরী
অবাধ্য মন উর্বশী হয়ে নাচে।।
প্রেম যখন আলিঙ্গন করে দেহ
সুনীল মেঘেরা আকাশ হতে হাসে
দায়িত্বে ভরা 'মা' যখন আমি
পথের শিশুরা দুধের জন্য কাঁদে।।
তুমি যখন বন্হিশিখা ডাকো
পদ্মানদী পাড় ভাঙে গর্জনে
আমি যখন ভালোবাসার ছোঁওয়া
তুমি তখন তুই হয়ে দাও ছুঁয়ে।।

              Adriana Girolami   
                 ( Florida USA )

How to change in midstream

The individual writing style is the hallmark of most authors; there are different ways to approach a storyline. Some develop an idea a little at a time. Others do detailed research and write copious notes. I usually have a story in my mind, and then I embellish it as I write it on my computer. I research the historical facts. Yet, I only write minimal notes.


Recently, a fellow author confided in me with some frustration, her desire to finish a novel she started writing a couple of years before. She never completed it because of a sudden lack of interest. Instead, it languished on her desk, collecting dust. I was unable to give her any helpful advice since I never had the experience myself. I suggested the usual line: "Reread it, then try to rekindle the original excitement of the story bringing it to completion."


At that time, I had just completed my Knights Templar Trilogy and was busy writing a new novel. I had the storyline pretty much developed in my mind and was writing it down with some enthusiasm. 


However, I attended a party where a friend introduced me to a fascinating subject. It was about the Zamindars of India. They were feudal lords who governed for a couple of hundred years until their fall from power. The premise intrigued me, and I decided to make it my next project. That is, right after the completion of the novel I was writing at the time.


However, soon after, something strange happened. My pace of writing slowed down, and my excitement in the story was waning. It wasn't easy to understand the reason why.  My mind wandered in different directions. I became concerned since it had never happened to me before. 


As my writing stalled, I began researching online for more information about the Zamindars, reading about them with pleasure. Different storylines quickly flashed through my mind. Fortunately, the initial excitement as a writer was back. However, it was different from the story presently written by me. 


It should have been a simple choice at that point. To stop the novel in progress and start writing the story that suddenly resonated with me.
At first, it was disruptive to my writing style and proved uncomfortable. Soon it became abundantly clear that creativity is the only guiding light worth following. It should take precedence even at the expense of structure and writing habits. If the enthusiasm dies down, let go of the project at hand. I suggest it to all aspiring authors. You will eventually get back to it. I know I will! Follow your creativity to guide you until a happy completion of your newest, exciting novel.


The Zamindar's Bride, my newest novel, was recently published and won the FIREBIRD AWARD 2021 in three categories BEST Fictional Novel, Best Romace, and best Suspenseful Romance.

                      বর্ণশ্রী বকসী
                         ( ভারত ) 

অপরাহ্ণবেলা
 
তেলরঙা চিত্রের মত এ জীবন 
কিছুটা ছড়ানো রেখা,তুলির টান,
সেজে ওঠা গেরস্হালিতে বেসুরো মন
তেল গরম হলেই কড়ায়ে ফোড়ন-
কাটা আনাজের গায়ে গায়ে মাখামাখি
অল্প নুন হলুদ আর মসলার মিশ্রণ
ছড়িয়ে যাওয়া সুগন্ধ আত্মার গহীনে
নিরস মনের ঢঙে ভাবনা বিলাস!

কৈবল্যবাদী শিল্প আর শিল্পীর ব্যস্ততা
সকাল গড়িয়ে নামে চায়ের কাপ ছুঁয়ে
সাদা ভাতের গন্ধ উড়ে উড়ে গিয়ে
থমকে দাঁড়ায় অভুক্ত মুখের সামনে,
আনুপূর্বিক সব কাজ শেষ হলে
জমে ওঠে অপরাহ্ণবেলার মৌতাত-

কখন যেন টেলিফোন বেজে ওঠে 
গোছানো চিন্তার খোরাক জোগান দিতে
ঘরমুখো পাখিদের মজলিসি আলাপ।

              Fabiana Silvina
                    (Uruguay )

Infinite light peace. 

With the harmonious voice from
what l long for 
Loving the Infinite that flows 
from the supreme nature 
l listen to it and describe it 
when l breathe the air and look 
at the sky 
it is wonderful to be able to contemplate. 

Look at the mountains that 
divine landscaspe and among 
such greenery 
Resurface the birds in their 
perfec flights screwed colors 
That beautiful inmistakable postcard 
Marvels the balance of the whole 
infinite light that emerges before your eyes .

There is so much to see and receive 
that the human being from 
Within can also give 
keeping the energy of love 
breathing and creating peace at 
all times 
Thanking all the masterful gift 
that was given to us from heaven. 


                   মঞ্জু ঘোষ চৌধুরী
                         ( ভারত )

সুখ

রূপান্তরের প্রতিক্রিয়া
দহনে হলো না শেষ
তুমি তো মৃত্যু লোকের যাত্রী। 
তোমারি হাত ধরে
মেটাবো ভালবাসার ঝৃন। 

রূপকথার কারিগর হয়ে
সাত সমূদ্র পেড়িয়ে মৎস
কন্যার চোখে দেখেছি বিহ্বলতা। 
উত্তাল ঢেউয়ে খুঁজি 
হারানো সুখের কথা 
চাঁদের আলোর সাথে। 
রক্তাক্ত করে দেবো না তবে
বাঁচার মহোৎসব
আগামী চলার পথে।

             SHIKDAR MOHAMMED
                   ( Bangladesh )


A LOVELORN CALLING

If your whole days and nights spend friendless-lonely in the midst of a crowd, then make me a call in an endearment internet - I would reach your cottage breaking knee-touched water.

If wood-packer days pass in psycho-physical agony, then send me the load of pain by Hridoypur transport - I'd unload your sorrows just my handed.

If you are unaccompanied by a constant walking, then rest a while under Hijal tree And uncover yourself by silvan fondle.

If you are sweated in a scorching summer-midday, then be seated to my veranda and unbutton your dress - southern breeze will cool your fug.

If your alluvial land is burnt in a draught, then step to the soil of a real peasant and feel how easily you will have been wet and melted with pleasant mud.

If you are burnt waterless with the fire of water, then be flashed alike Eve with the pre-historic signal of creative water.
I'll swallow your fruit of pain like a true Adam.

In Bengali:
ডাহুকী
শিকদার মুহাম্মদ কিব্রিয়াহ

যদি জনারণ্যে কেটে যায় রাতদিন নিঃসঙ্গ-বন্ধুহীন, তবে
বারোমাসী নেটে দিও কষ্টের কল প্রীতিমুগ্ধতার আহ্লাদে
আমি হাঁটুজল ভেঙ্গে হেঁটে যাবো তোমার কষ্টের কুটিরে।

যদি মনোজৈবিক কষ্টে কাটে কাঠঠোকরা প্রহর, তবে
কার্গো বোঝাই করে পাঠিয়ে দিও হৃদয়পুর ট্রান্সপোর্টে
আমি কুলিহীন খালাস করে নেবো ট্রাকভর্তি সব কষ্ট।

যদি সঙ্গীহীন বারোটি মাসই হেঁটে হেঁটে হও ক্লান্ত, তবে
হিজলের ছায়ায় জিরিয়ে যেও তুমি কিষাণের ঝিয়ারী
আরণ্য আদরে খোলে অস্তিত্বের খোলস প্রীতিমুগ্ধতায়।

যদি ঘেমে হও ভাপা দমবন্ধ চৈত্রের চাতকী দুপুর, তবে
আমার অস্তিত্বের বারান্দায় এসে বসো বোতাম খোলে
দখনে বাতাস টুপ করে ঢুকে যাবে পোড়াদেহের ভিতর।

যদি উষর খরায় পোড়ে ভাদ্রভরা গ্রীষ্মের গতর, তবে
প্রকৃত চাষীর জমিতে পা ফেলে দেখো; কেমন স্বস্তির
পলিতে দে'বে যাবে তুমি শুদ্ধ কাদাজলে ভিজে-গলে!

যদি জলহীন জ্বলো বারোমাসী জলের আগুন, তবে
ঈভের মত জ্বলে ওঠো ফের আদিম জলের ইসারায়
আমি আদম হয়ে গিলে নেবো তোমার কষ্টের গন্দুম।

Art by sanghamitra Bhattacharjya

Art by sanghamitra Bhattacharjya

Sanghamitra Bhattacharjys



                     অর্পিতা বোস
 ( ভারত )

জলছবি

লকডাউনের পর দোকানটা আর চলেনা রে ভাই। রোজগারপাতি একদম বন্ধ। চারটে পেট চালাতে খুব  অসুবিধা  হচ্ছে। তাই অনেক ভেবে তোর কাছে পাঠালো তোর বউদি। ছেলেমেয়েগুলোর পুজোর একটা সুতোও হয়নি এবার...
 -- দেখো দাদা,আমার রোজগার  বেশি হলেও খরচও  বেশি। এখন দুটো পরিবারের  দায়িত্ব  নেওয়া  আমার পক্ষে  অসম্ভব। কিছু রাখো কিন্তু এরথেকে বেশি আমার পক্ষে আর সম্ভব না।" 

 ভাইয়ের কথার আর উত্তর না দিয়ে  চায়ের কাপটা নামিয়ে রাখে মধু।  ভিজে চোখে  ভাবে,  এই ভাইকেই কত কষ্টে মানুষ করেছি!

 বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাদার গেট খুলে চলে যাওয়া দেখে শিবু। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে  আপনমনে বলে,

    -- দাদা, পারলে ক্ষমা করো। এভাবে তোমাকে ফিরিয়ে না দিলে তুমি আবার  আসতে এবাড়িতে। আর তখন ধরা পড়ে যেতাম।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার মনেমনে বলে ওঠে,
 -- পুজোর আগেই মালিক জানিয়ে দিয়েছে চাকরিটা আর নেই আমার। এটা জানলে আরও কষ্ট পাবে বলেই আজ কঠিন হলাম।

              শঙ্খসাথী  ( ভারত )

অসুরদলনী 

ভালো রাত এখন । সন্ধি পুজোর সময় হয়ে এল ।ঢাকের বাদ্যি, লোকজনের কোলাহল, পটকা-বাজির শব্দে কান পাতা দায়। ঘরের বুড়িটারও পুজো দিতে যাওয়ার তোড়জোড় করছে। এই বয়সে এসেও হুজুগ কমে না। এত ভক্তি আসে কোত্থেকে! সুদীপের তো পুজো এলেই মনমেজাজ সবার তেতো হয়ে যায়। তিনবছর আগে সপ্তমীর ভোরেই তো  ষোলো বছরের ফুটফুটে বোনটাকে কারা যেন...
বাঁচালো কি মা দুর্গা?! মায়ের পুজোর ফুল তুলতেই তো বেরিয়েছিল ভোরের আলো ফুটতেই... 

নাহ, ভাল্লাগে ছাই কিছু। বিছানা ছেড়ে ওঠে সুদীপ। বারান্দায় গিয়ে বিড়ি ধরায় একটা জুত করে। মাকে পুজো দিতে বেরিয়ে যেতে, মনে মনে খানিক গাল পাড়ে... 

মিনিট তিনেক পরই মায়ের চিৎকার, সাথে আরও একজনের আর্তনাদ। বিড়িটা ফেলেই দৌড়ে বেরোয় সুদীপ। 

মাঠের রাস্তা ধরে একটু এগোতেই মাকে দেখতে পায়। পুজোর সামগ্রী চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে, থান ইট দিয়ে একটা লোকের মাথায় মেরেই চলেছে মা। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। 
সুদীপ ছুটে গিয়ে আটকায় মাকে। লোকটা ততক্ষণে নিথর, নিশ্চুপ । নাকের কাছে হাত রেখে দেখে, সব শেষ। 
একটু দূরে চোখ যেতেই শিউরে ওঠে। অচেতন অবস্থায় পড়ে বছর দশেকের একটি মেয়ে। 
বুঝতে আর কিছু বাকি থাকে না। 
ঢাকের বাদ্যি, শোরগোল, পটকা-বাজি, মন্ত্রোচ্চারণ ক্রমশ প্রকটতর হয়ে ওঠে। অশুভ বিনাশের জয়ধ্বনি মাঝে নিজের বুড়ি বিধবা মা-কে সাক্ষাৎ মা দুর্গা মনে হয় সুদীপের...

                অমৃতা রায় চৌধুরী 
                      ( ভারত )
অধরা

বসন্তের কোনো এক বিকেলে 
উদাস চোখে আকাশের দিকে চেয়ে দেখি 
পাখিদের ঘরে ফেরা।

তাদের ঘরে ফেরা; 
বার্তা দিয়ে যায়-
আরোও একটা দিন শেষ হয়ে গেল।

রাত্রির একাকী চারণভূমিতে 
একা বেবাকী মনটা বড্ড ছটফট করে ওঠে।

ছাদের টবে ফোটা গোলাপ'টা 
একাকিত্বের বোঝায়;
যেনো একটু ফিকে হয়ে উঠেছে।

খোলা ছাদে;
কিছু অপ্রয়োজনীয় শুকনো পাতা 
বসন্তের প্রেমের হাওয়ায় ছোটাছুটি করছে। 

স্মৃতির পুরোনো পাড়ায় 
আজোও অপেক্ষারত; 
ছোটো ছোটো ভালোবাসার ক্ষণ, 
উপেক্ষিত কিছু মুহূর্ত আর সোনালী অনুভূতিরা...

ভেসে যাওয়া সময়ের স্রোত 
ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তাদের...

ভালোবাসা? সে তো আজ এক মরীচিকা!

চারটে দেওয়াল একটা ছাদ আর 
ঘরের অবয়বের মাঝে 
যা; আজও অধরা হয়েই রয়ে গেল...

                 দেবাশ্রিতা চৌধুরী
                        ( ভারত )

জঙ্গম

টং ঘরে এক স্বর্গের সংসারে
মেঘেরা চুপিসারে আদর করতে নেমে আসে
সকালে শহরের পথে বৈনারি 
ভুলে গেছে আধুনিক যাপিত যাপন
বাঁশ করুলের গোদক কেলিকদমের ফল
ডাক দিয়ে যায় উন্মনা অবসরে
জুমের আগুনে  ছায়া ছায়া মুখে প্রেম
অজস্র কথার ভিড়ে হয়তো হারিয়ে
যেতে পারে কোনো একদিন
তবুও জুমের আগুন সাক্ষী ছিল সেদিন
অক্ষয় অমরত্ব বুকে ধরে আগলে রেখে

কুয়াশার ফোঁটায় ঝরে টং ঘরের জঙ্গম 
মেঘের আদরের অশ্রুসিক্ত কয়েকটি মুহূর্ত

                 চিত্তরঞ্জন দেবনাথ 
                          ( ভারত )

মায়া 

আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনা 
গাছকে গাছ বলার আগে আমরা কখন মাটি হয়ে যাই 
পাখিকে পাখি বলার আগে আমরা কখন আকাশ হয়ে যাই 
এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে কারা যেন বুনে রেখেছে একুশ শতাংশ জীবনদায়ী বায়ু 
সেখানে, নিপুন হাতে, তুমি এঁকেছো একটা লালচে গোলাপি  ফুসফুস বাড়ি
আমাদের নিবিড় ভালোবাসার কিছু চারাগাছ 

বিদ্বজনেরা এই মিতোজীবিতার নাম দিয়েছেন মায়া

                 রাজীব মজুমদার
                     ( ভারত )

শ্রাবণ সন্ধ্যা 

কত কথা অন্ধকার নিয়ে থেকে যায় জীবনে,
কত কি জড়িয়ে থাকে বৃদ্ধ-স্মৃতির অতলে।
সব মনে রাখতে নেই, সব আঁকড়ে ধরে রাখলে 
জীবন এক অঝোর শ্রাবণ,
কি এক ঝুমুর তালের অন্তরঙ্গ শোকবিলাস!
সম্পৃক্ত হতে চেয়েও দূরে সরে যায় সব। 
না হলে জীবনের কথা কি পুনরুচ্চারিত 
হতে পারে না!  
শেষ অবধি কি জয়ী হতে পারে না আপামর 
জড়িয়ে থাকা!
জীবনের সব কথা আমাদের নিমিত্তে হয় না, 
আমরা শুধু কথার মাঝে হেরে যাই, নতুবা
আমাদের কথাকে কথার মাঝে হারিয়ে দিই।


              মেঘদূত সেন ( ভারত )


দুঃখবিলাস

শরতের শেষভাগের কাঠফাটা রোদে রহিমের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হয় । বৃষ্টির দেখা নেই  এক পক্ষ  থেকে।শুকিয়ে গেছে  জমির জল। সবুজ ধানের শীষ রঙ পাল্টে হলদেটে হয়ে গেছে । অতিমারী ও সরকারি বিনামূল্যে চাল বিতরণে বাজারও খুব মন্দা । ছনের ছাউনি দেওয়া বারান্দায় বসে এক দৃষ্টিতে থাকিয়ে থাকে রহিম । দুই বছর থেকে ভালো কিছুই ঘটে নি । রাবিয়া চা নিয়ে আসে । 'ইবার ধান ভালা না ধরলে মরতে লাগবো রে বেটি...' রাবিয়া সাহস জোগায় । 'দুইজনের সংসার আমারায় বাচ্চাকাচ্চা নাই ওতো চিন্তা কেনে করো'। এই কথায় সাহসের সাথে কোথাও যেন এক বিরাট দুঃখ বাতাসে বয়ে বেড়ায় । দুজনেই নিশ্চুপ । 
কেটে যায় আর তিনদিন । পুব  নদীর ধারে কাশফুল ফুটেছে । বাতাসের তালে  যেন দুলছে উত্তর দক্ষিণে ।এদিকে  ধানের শীষ আরো হলদেটে হয়েছে । আকাশে থোকা থোকা মেঘ । বৃষ্টির লক্ষণ নেই । 'এ যাত্রায়ও বোধহয় প্রাণের রক্ষা হবে না' । চোখ টলটল করে রহিমের । শরীরের শক্তি যেন হারিয়ে ফেলছে ।অসময়ে ভর দুপুরে ঘুমিয়ে পড়ে । বিকেল হতেই উড়ো মেঘের সংসার একত্রিত হয়ে শুরু হয় মেঘের গুরুগুরু । সন্ধ্যা নামার আগেই বৃষ্টি নামে ঝমঝমিয়ে । আনন্দে লাফিয়ে ওঠে রহিম । দৌঁড়ে ক্ষেতের জমিতে চলে যায় । দাঁড়িয়ে আছে সবুজ সমারোহের মাঝে । বৃষ্টির ফোটা শরীর বেয়ে নামছে । সুখ চরম সুখ । মনে পড়ে  ছয়মাস আগে তার  দুই বছরের একমাত্র কন্যাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই অজানা রোগে মারা যায় । পারে নি প্রাণ বাঁচাতে ।  এবার আর প্রাণ যাবে না । আল্লাহ মুখ তুলে তাকিয়েছেন  । সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে । বৃষ্টির  মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে রহিম । চোখের জল মিশে গেছে বৃষ্টির স্রোতে । মেয়েকে বড়ো মনে পড়ে তার ।

        ‌‌   তিলক মুখার্জি  ( ভারত )

কথার জন্ম

বর্ষার বৃষ্টিপাত নয় এ যেন ভাঙা মনের ব্যথা
যে ব্যথা বাষ্প থেকে রূপান্তর হয় কান্নায়
কান্নারা আস্কারা দেয় কবিতায়
রাতের গোপনীয়তায় কবিতা জন্ম দেয় কিছু কথার।
সকাল হলেই চুয়ে চুয়ে পড়ে বৃষ্টি হয়ে 
ছড়িয়ে পড়ে শহরের অলিগলি
তারপর শহর পেড়িয়ে প্রান্তর 
ওদের বহমানতা বাধাহীন বেপরোয়া
কথার ভিড়ে সময় ভুলে যায় পথ
জমতে জমতে বুকের কাছে জল ।
এত বৃষ্টি আসে কোথা থেকে ?
উড়ো মেঘের এত বড় স্পর্ধা ?
কবিদের ও কি কাজ নেই খেয়ে ?
একটার পর একটা বিষন্নতা।

                সুমিতা ঘোষ চক্রবর্তী
                         ( ভারত )

হৃদয় ভূমে

ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি বাজছে 
সুখ খুঁজি তাই বৈশাখী সন্ধ্যায় রবীন্দ্র সঙ্গীতের পেলব সৌন্দর্যে 
কালো-সাদা মেঘ 
হলুদ রঙের শুদ্ধতার মালা
শরীর বেয়ে ঢল নামে রোদের ছায়া গন্ধ
চরাচর জুড়ে নদীর সোঁদা মাটির ভরা যৌবন 
ভালোবাসার কৌমার্য মেশে উচ্ছাসের আঁচলে 
স্বপ্নাতুর চাঁদ ছন্দ তোলে 
চোখের কাজল প্রেমের কবিতা লেখে।

শিল্পী  শান্তনু শ্রেষ্ঠ -----

                    সুব্রত রায়চৌধুরী
                          ( ভারত )

একদিন সবুজ ছিল

বুড়ো বটগাছটার শুকনো বাকলে আজ হাজারটা ক্ষতচিহ্ন!
কে যেন বলল কানে কানে, 
" একদিন সবুজ ছিল"।

পাক ধরা চুল খুঁজে ফেরে একমনে ,
শুকিয়ে যাওয়া কলপের বাটিটাকে। 
কোথাও যেন হারিয়ে গেছে সেটা।
আছে বুঝি, কোনো এককোণে।
মায়াবী অন্ধকারে!

পাকধরা মন তাও বসে একা একা গান গায়।
" একদিন সবুজ ছিল।"

রঙহারানো বয়সের ইঁটগুলো কেমন যেন ব্রাত্য আজ!
মরমীয়া অতীত বসে খোলে রূপকথাদের ঝাঁপি।
দুপুরের রোদ নেমে আসে একলা ডাহুকের পাখার ছায়ায়-
নীরব অহংকারে!
অলস বিকাল তাও চুপ করে ভাবে বসে,
" একদিন সবুজ ছিল।"

                  শীলা পাল  ( ভারত )

অনন্তলোক 

সদাপ্রসন্ন যে আনন্দধারা তার উৎস খুঁজে বেড়াই নিখিলের সর্বত্র
সুখ দুখ আসা যাওয়ার খেলায় ভেসে আসে নিরন্তর বেদনা
প্রকৃতির দিকে চেয়ে দেখি কী উৎসব ফুলে ফুলে ঘাসে ঘাসে মৃত্তিকার অনুরণনে
বাঁশি বাজে ভোরের আলোয় দিনান্তের চলে যাওয়ায়।
সুরের মাদল বাজে দ্রিমি দ্রিমি আকাশে বাতাসে।
মানুষের মনে কেন সুর নেই কেন সুখ নেই কেন হাসি নেই ?কেন মন সদা ম্রিয়মান
শুধু অভাব কান্না আর হতাশা 
শুধু হিংসা দ্বেষ আর নৃশংসতা
কেন সকলে মিলে পারি না একটা পরিতৃপ্ত নির্মল আনন্দের বাতায়ন সৃস্টি করতে!
বড় ইচ্ছা করে একটি পরিচ্ছন্ন পৃথিবীর
অনন্তলোকের মতো সদা প্রফুল্ল প্রাণবন্ত গোলক
যেখানে নিষ্পাপ কুসুমের মতো পাপড়ি মেলে উড়ে যাবে মানুষের মন
সুগন্ধে ভরে যাবে বসুন্ধরা
এখানে ই গড়ে উঠবে স্বর্গের নন্দনকানন পারিজাত ফুটে থাকবে দিকে দিকে।

                 পুতুল গুপ্ত  ( ভারত )

অবিরত

আবার তুই  আমার হবি? 
যেমন ছিলি আগের মতো,
আমার হাতে আঁকড়ে ধরে তোকে, 
বাঁচবো আমি সুখে !
দুই আঙুলের  ফাঁকে 
থাকবি নিজের  মতো !
কথার  মালায় মুক্ত হয়ে 
ঝরবি  অবিরত !!!

               অরুনা রায় মজুমদার
                    ( ভারত )

স্মৃতি তোমায় ভালোবেসে

হঠাৎ করে তার সাথে
দেখা হয়ে যায় ।
মনের অজান্তে
পুরনো সঞ্চিত সৃষ্টি পাহারা দেয় ,
কিছু হলদে হয়ে যাওয়া ....
চিঠি বড়ই বেদনাদায়ক ।
কিছু প্রিয় শেষ উপহার অশ্রু ঝরায়
চেনা ফুলগুলো হাসে মিটিমিটি ,
বিস্মৃতির রঙিন স্বপ্ন
খুঁজে বেড়াই প্রিয়তমার ঠিকানা ।
বৃষ্টিভেজা স্বপ্নীল ক্যানভাসে
ফেলে আসা সব রং ,
যদি আজ ফিরে আসে 
সেই সৌভাগ্যের রং ।
হৃদয়  কড়া না রে বারে বারে 
ঘুমের মধ্যে সুখের স্মৃতি ,
আমাকে বাঁচার ইচ্ছা দেয় ।
আমি লজ্জায় মুখ ঢাকি !
সেই মধুর স্মৃতি তোমার কাঁধে
মাথা রেখে আমি বাঁচতে চাই ......

                  শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়
                       ( ভারত )

পথেই জীবন

তারা সব যায় রোজ
        খেতে সব ভুঁড়ি ভোজ
                 আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি,
খায় যত ফেলে বেশি
        তবু তারা হাসি খুশি
                  আমি শুয়ে ধুলো মাখামাখি।

পথে বসে মা-মেয়ে
        পাই না কিছুই চেয়ে
               তবু দেয় কেউ ছুঁড়ে যদি,
তাই দিয়ে কিছু কিনে
         আধপেটা খাই গুনে
                মা'র কোলে শুয়ে শুয়ে কাঁদি।

পথেই তো এই জীবন
         পথেই যে হবে মরণ
                 তা আমি নিশ্চিত জানি,
পারব না তবু আমি
          মা'র কথা খুব দামি
                  করব না চুরি রাহাজানি।

                    দেবাংশু সরকার
                        ( ভারত )
ঠাকুর দেখা প্লাস সামথিং 
      
       কলকাতার পুজো যে রকম জাঁকজমকপুর্ণ ভাবে হয় যেরকম প্রতিমা,  প্যান্ডেল, আলো, মাইক, মানুষের ভিড় দেখা যায়, সে তুলনায় আমাদের গ্রামগঞ্জের পুজো বলতে গেলে চিরকালই ম্যাড়ম্যাড়ে । না থাকে প্রতিমা প্যান্ডেলে অভিনবত্ব । না থাকে কোনো থিমের ছোঁয়া । না থাকে আলোর রোশনাই । অবশ্য কিছু মানুষ কলকাতার টানকে উপেক্ষা করে গ্রামেই ঠাকুর দেখে ।
      অমরকে দেখছি বিকাল হতে না হতেই তার সাত বছরের ছেলে বাবলুকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েছে । 
      আমাকে দেখে বললো - ছেলেটা দুপুর থেকে বায়না ধরেছে ঠাকুর দেখতে যাবে বলে । এতো জেদি ছেলে, একবার বায়না করতে শুরু করলে আর থামবে না । তাই বেরিয়ে পড়লাম । একে একটু ঘুরিয়ে দিয়ে রাতে বৌকে নিয়ে বের হব । 
      -  মানে ডেটিং ।
      - ঐ আর কি । ঠাকুর দেখা প্লাস সামথিং । বলে হাসলো ।
      সাতটা নাগাদ দেখি সপুত্র অমর ফিরছে । বাবলু একটা খেলনা ঢাক মনের আনন্দে বাজাচ্ছে । বাজাতে বাজাতে ঢাকের এক দিকটা একটু ফেটে গেছে ।
      আমি প্রশ্ন করলাম -  ঢাকটা ফেটে গেছে ! কি হবে ? 
      - ও কিছু হবে না । বোরোলীন গরম করে লাগিয়ে দেবো ঠিক হয়ে যাবে ।
      - তুইতো ডাক্তার হয়ে গেছিস ! তবে ঠিক হবে তো ?
      - হবে হবে । ঠাকুমার যখন পা ফেটে ছিল, বোরোলীনের গরম করে লাগাতে ভালো  হয়েছিল । এটাও হয়ে যাবে । আর না হলে রাতে আর একটা কিনবো, আবার ঠাকুর দেখবো ।
      বুঝলাম অমরের ঠাকুর দেখা প্লাস সামথিং এর ভবিষ্যত খুব একটা উজ্জ্বল নয় ।

                 অমিতাভ সরকার
                       ( ভারত )

মনের কথা

পথের চলায় পথেই দেখা,
আপনি-কাছে আপনি শেখা।
সবাই আমরা পথ চলে যাই,
দুঃখে সুখের আবেগ মেশাই।
স্নেহ যৌগ মেলা-মেশায়
শ্রদ্ধা সেটা নতুন মেশায়।
আপনারাই আজ অনুঘটক,
যৌগ মৌলে এ রাজযোটক।
সবাই সবার মনের ঘরে,
সুস্বাস্থ্যটাই চিন্তা করে।
কবির দলে একলা চলা,
পাগলামিটাই লেখায় বলা,
বিশ্বপাগল নিঃস্ব-প্রেমে
বেশিই দেখাই হ্যাংলামি।

              অজয় চক্রবর্তী  ( ভারত )

মানুষ কোথায় পাই

যাচ্ছে জীবন কেটে সেতো একঘেয়েমি ভরা,
মন্দ খুঁজলে পাবে অনেক ভালো সবই হারা।
মানুষ আছে অনেক কিন্তু মানবিকতা কই?
আপন আপন সুখে সবাই বিভোর হয়ে রই।

ফাইল ভরা ডিগ্রী আছে অনেক বড় বড়,
পাবেনা তো শিক্ষা খুঁজে যতই চেষ্টা করো।
ডিগ্রী শুধুই চাকরি দেবে আর কিছু না চাই,
শিক্ষা পেলাম এমন, যেথায় পর হয়ে যায় ভাই।

হাজার হাজার বন্ধু আছে আসল বন্ধু কই? 
বিপদ এলে বন্ধু থেকে দূরে সরে রই।
পকেট ভর্তি অনেক টাকা অভাব কোনো নাই,
যতই থাক না টাকা, মনের শান্তি কোথায় পাই? 

দামি দামি আছে ঘড়ি, কিন্তু সময় নেই,
সকাল-বিকেল ছুটছি সবাই গোলকধাঁধাতেই।
বুদ্ধি আছে নানান রকম বিবেক কোথায় হায়,
আপনজনের কাছে কেউ আর, থাকতে নাহি চায়।

ডাক্তার আছে ওষুধ আছে স্বাস্থ্য ভাঙে তবু,
মনের মধ্যে সুখ নেই তাই ,ভাল্লাগেনা  কভু।
ইচ্ছে জাগে মনের মধ্যে চাঁদকে ছুঁয়ে দেখি,
প্রতিবেশী আছে কেমন খবর তো না রাখি।

সম্পর্ক অনেক আছে, নেই তো ভালোবাসা,
নিয়ম মেনে যাচ্ছে কেটে মনেতে হতাশা।
ঠোঁটে হাসি হৃদয় মাঝে বিষের পাত্র ভরা,
ছোবল মারার জন্য শুধু সুযোগটা বের করা।
                 বিমান পাত্র ( ভারত )

মা

একটি ডাক-
হাজারো ঝড়ঝাপটা সামলে
আজ বড় ভাঙাচোরা I
একটি ডাক-
আমার চেতনায় চিরকাল
এক নিঃসীম স্নেহসমুদ্রের গল্প শোনায় ;
আজও আমায় শীতার্ত মুহূর্তে উষ্ণতা দেয় ।
একটি ডাক-
বারবার যাকে অবহেলা করে কান পেতেছি 
উপভোগের বিউগলে ৷
তবুও রাতের পেঁচক-চিৎকারে শিউরে উঠে
যে ডাকের প্রহরায় বারবার
নিজেকে জড়াতে চেয়েছি ,
আজও সেই ডাক আমার সব পাপ ক্ষমা করে
আমাকে নতুন সূর্যোদয়ের দেশে নিয়ে যায়-
এক জন্ম থেকে আরেক জন্মে !

                বর্ণালী সেন ভট্টাচার্য
                           ( ভারত )

বৃষ্টি

বৃষ্টিদিনের একটা গোটা আকাশ
মুঠোয় ধরেছি।
মুঠো খুলে দেখি এক আঁকাবাঁকা পথ
চলে গেছে মফঃস্বলী নদীটির কাছে।

কলেজ পাড়ায় কোলাহল।

সিনথেটিক শাড়ি।

রূপোলী ঘড়ির বেল্ট কব্জিতে বাঁধা।

সল্টেড চিনে বাদামের ঠোঙা।

ছেড়ে যায় চারটে পাঁচের নৈহাটি লোকাল।

নদীতে জোয়ার আসে
বাড়ে ঢেউ---
ঢেউএর দোলায় দোলে পান্ডুলিপি এক
সম্পূর্ণ উপন্যাস আমি পাঠ করি।

নদী ভাসে--
বৃষ্টি আসে--
বৃষ্টি মানে জল
সন্তর্পণে  পা রেখেছি জলে
পা রেখেছি গহীন অতলে।

                    অমিত সরকার
                        ( ভারত )

পুজোর নতুন পোশাক

সাত সকালে ছয় বছরের ছেলেটার ভিডিও কল আসলো,গতরাতে ছুটির অনুমোদন পেলেও হঠাত্ প্রশাসনিক কারনে সকাল বেলায় যাওয়া হলোনা।  ছুটি যেতে বিলম্ব হয়তো এমন হতে পারে পূজার তিনদিন রাস্তাতেই কাটবে,কি আর করার সারারাত রাত জেগে ডিউটি শেষে সকালের দিকে একটু ঘুমাবার চেষ্টা করলেও মোবাইলের রিং এর শব্দে জেগে উঠলো কাশ্মীর ভ্যালিতে পোস্টিং কেন্দ্রীয় আরক্ষা দপ্তরের কর্মী আদিত্য সান্যাল ।
   ছেলে বায়না ধরলো সবাই নতুন পোশাক নিয়েছে,কিন্তু ওর জন্য নতুন  পোশাক নিয়ে কখন আসবে?আদিত্য ছেলেকে বোঝাবার চেষ্টা করলো - তোমার তো অনেক পোশাক আছে সব তো নতুন ।
        না,এগুলো নয়,একদম নতুন ।বাবা,তুমি তাড়াতাড়ি এসো,তুমি না আসলে কি করে পূজা দেখবো,আমি তো রাস্তা  চিনি না,ইত্যাদি ।
  -তবু আশ্বাস দিলো খুব শীঘ্রই আসছি,নতুন পোশাক নিয়ে ।ক্লান্ত শরীর আবার ঘুমিয়ে পড়লো।
         সেই বছর আদিত্য,বোধহয় ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র ।এর আগের পূজা গুলি তে নিজের গ্রামের পূজা ছাড়া বাইরের  জগতে ও যে "মা আসতেন"বা পূজা হতো জানতো  না,বায়না নতুন পোশাকের জন্য নয়,সেটা হয়তো বাবার দেওয়া সম্ভব ও ছিলোনা, পিস্তল আর ক্যাপের জন্য,সহপাঠীদের সাথে সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা,কখনো বা মন্ডপে বসে আনমনে এত গুলি মূর্তিকে একসঙ্গে দেখা।
  সেবার আদিত্যের কাক্কু বললো আগরতলা নিয়ে যাবে ,পূজা দেখতে।আহা,আনন্দের আর ভড় ধরে না,কিছু দিন আগেই বাবা দুই ভাইয়ের জন্য হলুদ রঙের পলেষ্টার কাপড়ের জামা সেলাই করে দিলেন,তারপরেও ইস্ত্রি করে  আরো নতুন করার জন্য জামাকে ,এক অভিনব আবিষ্কার করলেন ,তা হল বাঁটি তে জ্লন্ত কয়লা রেখে ইস্ত্রি করা,যা ঘটার ঘটল,পুড়ে এদিক,ওদিকে দেখা যাচ্ছে ।তবু সুদক্ষ দর্জির কল্যাণে পকেটের কাপড় টুকু কেটে জোড়া লাগালো।
  অষ্টমীর বিকাল বেলায়,কাক্কু আরো সঙ্গীসাথী দের নিয়ে,সেই সময়ের আগরতলা-বিলোনিয়া রাস্তায় একমাত্র "মীনাক্ষী"বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুপাশে পূজা দেখতে দেখতে ,বাধারঘাটে বড় গেইট লাগানো দু'অপ্সরার হাত জোড় করে "স্বাগতম"লেখা যেন আদিত্য কে অভিনন্দন করছে,পায়ে হেঁটে সারারাত কখনো লালবাহাদুরে বাচিক শিল্পীর কি সুন্দর অভিবাদন,স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস আদিত্য যেন কোন ঘোরে আছে,কখনো নেতাজি প্লে সেন্টারে রকেট কি করে যাচ্ছে?কখনো রামঠাকুর সংঘের সুন্দর মূর্তি,আরো কত কিছু,যা শুধু স্মৃতি রোমন্থন করে,রাত শেষে বাড়ি ফেরা,দিনের আলোতে দেখলো দর্জির জোড়া দেওয়া জায়গাটা  ছিঁড়ে গেল, ভেতরের মলিন গেঞ্জি নিজের অস্তিত্বের জানান দিয়ে হাসছে ।  কোন রকম ছিঁড়া জায়গায় বগল চাপা দিয়ে,বাস থেকে নেমে মায়ের কাছে গিয়ে অভিমানের কান্না ।আর ছোটভাইয়ের সাথে পূজা পরিক্রমা শেয়ার করা।
      ততক্ষণে আবার মোবাইল বেজে উঠলো,ঘুম থেকে উঠে দেখলো ছেলে আবীরের ভিডিও কল -বাবা,তুমি ফ্লাইটে করে আসো,ও হা,আমার জন্য নতুন ড্রেস আনতে ভূলবে না।
  আদিত্য ভাবছে মনে মনে ফ্লাইটের ভাড়া  যে আকাশছোঁয়া ।

                   আদিমা মজুমদার 
                         ( ভারত )

খিদে
 
জীবনে কত কিছুই তার করা হয়ে ওঠেনি।কেউ তাকে ভালোবাসে না,সেও কাউকে ভালোবাসতে পারেনি শুধু কয়েকটা অবলা প্রাণী  বিড়াল ছাড়া।বিজয়া দশমীর বিসর্জনের দিন মা-বাবা দুজনের সলীল সমাধি হয়। জল দেখলে সে আঁতকে ওঠে।জলের অপর নাম জীবন,মৃদুল বলে জলের অপর নাম মরণ।দিশেহারা মৃদুল ফাটকবাজারেই বাবার দেখানো পথ ধরে।শুঁটকি কারবার করে। তার চারটি মেয়ে বিড়াল ও একটি পুরুষ বিড়াল আছে। বিয়ে নামক প্রহসনে জড়ায়নি সে। বিড়ালের সহবাস দৃশ্য তাকে খুব বেশি আনন্দ দেয়। বিছানার  চারদিকে তারা বিচরণ করে, খায় দায় আর ঘুমায়।  শুঁটকির মাথা তাদের প্রিয় খাদ্য।
মৃদুল আগে ভেটেনারি গুদামে চতুর্থ শ্রেণীর কন্ট্রাকচুয়াল চাকরি করতো।
গরু-মহিষের খুদকুঁড়ো রাখা গুদাম ভর্তি ইঁদুর, বস্তা সব কেটে ফেলে।  ইঁদুর মারার জন্য বিষ মাখিয়ে ভাত, বিষ বিস্কুট দিয়েছে কিন্তু একটাও ইঁদুর মরতে দেখা যায়নি।
কাচুমাচু হয়ে বড়বাবুকে সে ঘটনাটি জানায়। বাবু বলেন ইঁদুরের গলায় ঘন্টা বাধতে পারলে আর উপদ্রব করবে না।কত রাত যে ঘুমায় নি, ইঁদুর ধরে ঘন্টা বাধবে বলে । ইঁদুর বিড়ালের খেলা নিয়ে সুখেই ছিল সে। সব সময় তার বিড়ালের চিন্তা ।নিজে না খেয়ে বিড়ালকে সে খাওয়াবেই।
          তার কলিগ জয়ী বলল এক কাজ কর,দুটো বিড়াল নিয়ে আয় দেখবে আর ইদুর থাকবে না, মেরে ফেলবে সব। মৃদুল বলে- চারটি বিড়াল আছে...
-- ওহ, তোমার মতন হিজড়া।
 মৃদুল দুঃখ পায় জয়ীর কথায়। 
              একদিন রাতে সে দেখে, চোখ লাল লাল করে ইঁদুর বিড়ালের দিকে চেয়ে আছে, যেন বলছে 'আর তোদের ভয় পাইনা 'সেদিন পাল্টে গেছে।কে শিকার আর কে শিকারি বুঝা যাচ্ছেনা। সুযোগ বুঝে বিড়াল ইঁদুরকে ধরার চেষ্টা করে কিন্তু বিফল হয়।
এই অতিমারির সময় মৃদুলকে তার ডিপার্টমেন্ট থেকে ছাঁটাই করে দেয়া হয়। তবু সে পড়ে থাকে একটি পরিত্যক্ত অন্ধকার কোয়ার্টারে। অফিসের সব কাজ বিনা মাইনেতে করে। শুঁটকি কারবারে তার যথেষ্ট লাভ ছিল, বিড়ালসহ তার এক পেট চলে যেতো কোনো রকম ।
 মাঝে মাঝে রাতে জোনাকি পোকা ধরে খেলতো মৃদুল। জয়ী তাকে জিজ্ঞেস করলে বলে- তাদের পাছায় আলো জ্বলে, দেখতে ভালো লাগে।
 লকডাউনে বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মৃদুলের বিড়ালগুলো পড়েছে বেশি বিপদে। শুঁটকি ছাড়া তারা ভাত খায় না। ক্ষুধায় মৃদুলকে খুবলে খাবে এমন অবস্থা। 'ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্ট একটা! সরকার তা উঠিয়ে দিলেই পারতো। তা না করে আমাকে ছাঁটাই করলো। তিন হাজার টাকায় কতটা প্রানী আমরা বাঁচতাম।' প্রায় সগদোক্তি  করে মৃদুল। বিড়ালের উপর রাগ করে বলতে থাকে - 'তোমরাও আমার মতো বোকা হলে, যাও বলছি ধরে আনো ইঁদুর, আজ আমি ভাজা করে খাবো।
 পেছনের বারান্দায় মাথাটি দুই হাঁটুর মধ্যে লুকিয়ে বসে থাকে মৃদুল, হঠাৎ তার পায়ে কে যেন সুড়সুড়ি দেয়, মাথা তুলে দেখে তার চারটি মেয়ে বিড়াল ইঁদুর মেরে তার সম্মুখে রেখেছে পুরুষ বিড়ালটি  চোখ বুজে মৃদুলের পাশে বসে থাকে যেন তার ছোটভাই। মৃদুল খুশিতে নেচে ওঠে। তার বাচ্চাদের খাওয়া হয়ে গেছে।ইঁদুরগুলো পুড়ে লবন দিয়ে পাঁচ প্রাণী পেট ভরে খায়।  অপার শান্তিতে সে আজ ঘুমাবে।শালা খিদের জ্বালা যারা অনুভব করতে পারে না, তারা এই গল্প পড়বে না বলে দিলাম।

                        বিজয়া কর
                          ( ভারত )

গার্হস্থ্য

মা চলে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত পরশু দুপুরে। 

উর্বী-র মন খারাপ এজন্য যতটা না, তার চেয়ে বেশি মায়ের শেষের দিকের উচ্চারিত শব্দগুলো...  লেবু...পিতলের বাসন... তেঁতুল... খুব ভয় লাগে!...

মা কি শেষ তক্ সংসারের কাজ থেকে মুক্তি পাননি ? রক্ষা পাননি ঠাম্মুর আধিপত্য থেকে? 

বাইরে অঝোর বর্ষণের সাথে উর্বী-র ভিতরমনটাও কেঁদে কেঁদে উঠছে। 

শৈশব-কৈশোরের দৃশ্য ভাসে চোখে। 

গোছা গোছা বাসন নিয়ে ভোরে ঘাটে নামতেন মা। খিড়কি পুকুরের জল সকালে থাকে ঠান্ডা বরফ, বিশেষ করে শীতকালে। রোদ তো পড়ে না কোন কালেই। চারধারে বড় বড় আম আর সুপুরির বাগান।  

যেমন তেমন  মাজলে হবে না। 
কোন বাসনের কোথাও দাগ থাকবার জো নেই।
ঠাম্মু একটা একটা করে হাতে নিয়ে চারপাশ দেখে এরপর পুজোর ঘরে তুলতেন। 

সবচেয়ে কাজ বাড়ত পুজো-পার্বণের দিনে।
ঠাম্মু বারো মাসের বারোটা পূর্ণিমাতে সত্যনারায়ণের সিন্নির আয়োজন করতেন নিয়মিত। গৃহদেবতাদের নিত্যপুজো তো ছিলোই। লক্ষ্মীপুজোও মাসে একটা লেগে থাকতো। এ-স-ব দিনে সংসারের দৈনিক বাসন ছাড়া পুজোর পেতলের বাসনকোসন বেরোত ঝুরি ঝুরি। 

ঠাম্মুর মনপছন্দ পুজোর বাসন মাজতে সক্ষম হওয়া মানে অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া-- বরং উর্বী-র এখন মনে হয়,  শেষেরটা কিছু সহজ। 

বলতেন ঠাম্মু-- কোষাকুষি মাজবার কি ছিরি রে বাবা! তামার পাত্র। তেঁতুল নয় লেবু দিয়ে শক্তহাতে মাজতে হবে তো, না-কি! আরে, অন্যগুলি নাহয় তুমি বালি দিয়ে মেজে নিলে... বলি, বাবার বাড়িতে তো পুজোটুজো হতো না, শিখবে কোত্থেকে! 

-- লেবু নাও... তেঁতুল নাও মুঠো ভরে... প্রথমে নাহয় বালি দিয়ে ঘষলে... এরপর ওগুলোকে টকমাখা করে রেখে দাও দিকিনি কতক্ষণ... এরপর আবার...

মা লেবু, তেঁতুল দিয়েই ঘষতেন। 
কিন্তু ঠাম্মু যখন কথা বলতেন, মায়ের মুখ দিয়ে কোন শব্দ বেরোত না। ততক্ষণে বড় জেঠিমাও এসে উপস্থিত হতেন। মায়ের মাথা মাটির দিকে নেমে যেতো। 

আর যদি মা কিছু বলতেও পারতেন! 

ঠাম্মু ঠিক বলতেন-- আমার চোখে তো এখনো ঢ্যালা বেরোয়নি বৌ? অম্বল দিয়ে বাসন মাজলে, অথচ, হাতে নিয়ে টেরটিও পেলাম না? কাকে এসব শেখাতে এসেছো, এ্যাঁ! 

বাড়ির সর্বময় কর্ত্রী তিনি! 
তার কথার পিঠে কথা বলবে সাধ্য কার! 

উর্বী সে বয়সেই টের পেয়েছিল বলেই কি হাইয়ার সেকেন্ডারি পাশ করে অরুণাভকে বিয়ে করে নিলো?

শহরের কলেজে পড়তে আসতো।
বন্ধুত্ব অনুপমার সঙ্গে। 
তাদের বাড়িতে একদিন গিয়ে হাঁ।
ঝকঝকে তকতকে মস্ত বাড়ির রান্নাঘরটা ভীষণ সাজানো, গুছানো, ছিমছাম। বড় একটা সিঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে তখন বাসন ধুচ্ছিলেন তাদের মা।  

পরে যখন কলেজবারান্দায় বইয়ের ভিতরে প্রথম লাভ-লেটারটি হাতে ধরিয়ে দেয় অরুণাভ, তখন কি মগজ তাকে বলছিল-- ঐ সিঙ্কওয়ালা রান্নাঘরটা তোমার চাই না! নাকি মায়ের মতো সারাজীবন মাথা গুঁজে প্রায়ান্ধকার এক পুকুরঘাটে বসে বাসন ধুবে তুমিও! 

অতটা ভাবে নি নিশ্চয়ই উর্বী তখন! 

কিন্তু গত কয়েকদিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা শরীর থেকে যে শব্দগুলো বেরোলো, তাতে তার এখন এমনটাই মনে হচ্ছে। 

ঠাম্মু বেঁচেছিলেন অনেক বছর।
তার বিয়ে হবার পরও। 
মা কোনদিন এ বাড়িতে আসেন নি। 
আসবেন কীকরে! 
ঠাম্মু তো শেষদিন পর্যন্ত পুজোর ঘর আগলে ছিলেন। 
আর মায়েরও চলতো বাসন ঝকঝকে তকতকে করে ধোবার পর্ব! 

সেটার গেরোতেই মা শেষ শ্বাস ফেলাটুকু পর্যন্ত আটকে আটকে ছিলেন? 

                   নিরূপম পাল‌ ( ভারত )
      
সংকল্প


কবিতাকে বলেছিলাম, যত দেরীই হোক, 
আবার আমি ফিরে আসব। 
ফিরে আসব তল-আঁধারি বইয়ের টেবিলটাকে বাঁয়ে রেখে, 
বাস্তবতার বিল পেরিয়ে, 
হলুদ-ফুলের মাঠের উপর দিয়ে 
আবার আমি ফিরে আসব। 

হয়তো আমি তাকে বলেছিলাম, এই যাওয়াটা কিছু নয়, আবার আমি ফিরে আসব। 
ডগডগে লালের নেশায় আকাশটাকে মাতিয়ে দিয়ে 
সূর্য যখন ডুবে যাবে, 
টেবিলের উপরের কাঁচে  মাথা রেখে 
নদীর ছল্‌ছল্‌ জলের শব্দ শুনতে-শুনতে 
আবার আমি ফিরে আসব। 

আজও আমার, সম্পূর্ণতায় ফেরা হয়নি। 
রক্তের সেই আবেগ হয়তো, স্তিমিত হয়ে আসছে। তবু যেন আবছা-আবছা মনে পড়ে, 
আমি কবিতাকে বলেছিলাম।

               মৌসুমী ভৌমিক ( ভারত )

সঞ্জীবনী 

ঘুম ভেঙে গেছে শেষ প্রহরে
অতিথি পাখিরা এসেছে যে দোরগোড়ায় 
জানালার আরশিতে ভোরের সূর্যকে দেখি লালবৃত্তে শুধু তোমাকে দেখার অপেক্ষায়। 

তোমাকে দেখব বলে সব ফেলে এসেছি 
চোখ মেলে দেখি
দুই বিঘা ঘেরা সরসে
বিছানো রয়েছে হাজারো পাতা 
সুরভী সরোজে মত্ত ভ্রমরেরা 
কি দারুন খেলায় মেতেছে। 

থমকে গিয়েছে সাদা মেঘেদের আনাগোনা 
নেই বাতাসের কানাকানি 
কলোনি সাজিয়ে নিয়েছে যে কাশবন 
তুমি আসবে জেনে।

আজ তোমার প্রতীক্ষায় 
শিউলি বিছানো পথ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে কপোত-কপোতি শত জোড়া 
জানে রূপ খুলবে 
আমিও চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছি ওদের সাথে তোমার ব্যাপ্তি দেখব বলে।

          Manas Chattopadhyay 
                     ( India )

Humandemic 

Let our mask be tight
Let us give corona a fight
Just open our ears and share our views 
Rape,  murder,  cheating - we are immune to these news
Don't go out from the house 
Let spend our time with spouse
But those,  who have unsold spine
To whom the corrupted society is not fine
Will definitely come and raise their voice
Could they be able to make society rejoice? 
Vaccine is there to kill democratic insects
Will the vaccine make the germ bisect? 
Oh no! my dear
The vaccine is nothing but powder water
The insects mutate from party to party
They replicate themselves with more toxicity
They are not created in wuhan laboratory
They are created in voting machinery 
How long the pandemic on humanity will make the earth reddish
Oh LORD! please save us, make your earth blueish.

                  উজ্জ্বল চক্রবর্তী ( ভারত )

বলো দুগ্গা মাই্কী

ঢাং কুড়কুড় বাজনা বাজে,দুগ্গা মাই্কী বোল
বাদ্যি বাজে ওদের পেটেও, নেই তো খুশির দোল।

বাটি হাতে পথের ধারে,কঙ্কাল সার গা'
বাজনা বাজে, বাজনা বাজে,ঐ আসছেন 'মা'।

শহর জুড়ে বন্যা আলোর,রাতের আকাশ ভরা,
অমনিশায় যাদের জীবন,পথেই কাটায় ওরা।

কোটি টাকা খরচ যখন মায়ের পূজোর জন্য
ছিটেফোঁটা পেলেও হবে ওদের জীবন ধন্য।

হাতটা যদি বাড়িয়ে দে'ই একটু ভালোবেসে
দমকা হাওয়ায় খুশির ঝলক লাগবে আঁধার শেষে।

ওরাও তখন মাতবে পূজোয়,,,, মনে খুশির দোল,
বাজাও এবার বাদ্যি পূজোর, দুগ্গা মাই্কী বোল।

             জ্যোতির্ময় মুখোপাধ্যায়  
                         ( ভারত )

ঘোড়া ও গাছ


ছেলেটি ঘোড়া আঁকছিল আর মেয়েটি গাছ
আঁকা শেষ হতেই ওদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হল
ঘোড়ায় চড়বে না গাছ
মীমাংসার জন্য আমার কাছে এল
স‍্যার্, কার-টা ভালো হয়েছে? ঘোড়া না গাছ?
আর, আমি পড়লাম বেজায় মুশকিলে
কার-টা ভালো বলি, ঘোড়া না গাছ
মুশকিল আসান করল ঘোড়াটি
গাছের সুন্দর মাখতে মাখতে গাছের ছায়ায় ভিজিয়ে নিল

                    দে ব দা স র জ ক   
                            ( ভারত )

অন্য শরীর

আমার শরীরে আর একটা শরীর
ক্রমে মাথা উঁচিয়ে বড় হচ্ছে!
দুটি হাত,পা, মুখ
গঙ্গার জলে শুদ্ধ না হয়েই
অবান্তরের মতো, আগাছার মতো 
মাথা তুলে সিঁড়ি বেয়ে 
যজ্ঞের আগুন নেভাতে নেভাতে
পাখিগুলোর হত্যাকারী হয়ে বড় হচ্ছে!

জানালা।‌ ছাদের দরজা
বাগানে যাওয়ার বড় রাস্তা
পর্দা নামিয়ে আদিম গন্ধ ছিটিয়ে তমস্ব-শরীর
মারাত্মক অন্ধকার করছে এই ঘর
এই হোম কুন্ডলী।
চেয়ারে পা তুলে সায়েবিয়ানার মোঘল-মুকুট পরে
নাচিয়ে যাচ্ছে আমার হৃদপদ্ম, রাত্রিযাপন, 
আমার কবিতা লেখার টেবিলে অধিষ্ঠিত পিতৃপুরুষকে। 
বড়ই দোটানায় আছি মরম ব্যথায়!

এই খেলা! অগ্নি-সমিধ ধোঁয়ায় বৃষ্টির ছিটা

                     ইংরেজি অনুবাদ

Another body

DEBDAS RAJAK


Another body in my body
Gradually growing up!
Two arms, legs, face
Without being purified in the waters of the Ganges
Like weeds, like weeds
Head up the stairs
To put out the fire of sacrifice
Growing up to be a killer of birds!

Windows.‌ roof doors
The main road to the garden
Tamasva-body by lowering the curtain and scattering the primitive smell
This house is getting dark
This home coil.
After lifting his legs in the chair and wearing the Mughal crown
My heart is dancing, my nightingale, my father-in-law sitting at the table writing poetry.
I'm in great pain!

This game! Rain-drops in fiery smoke

          Kakoli Ghosh (Moon Drop)
                        ( India )
WINE

Neither we are born
Nor do we perish into oblivion.
As the gardener
Of the vineyard, boundless
We come here to nurture
The flow of the grapevine
Tender,
To guide and support
The sudden twists and adorable twirls
Of the wayward creepers
That turn from scarlet to green.

Time blooms from moments to hours,
Down the fingers emptiness drips,
Days flow out of grip,
The grapevines bear sun's glaze
In its proud fruitfulness
And glow with the moist haze of the sliding days-
Shimmering with the touch of purposeless amaze.

Grapes mature
From tender to pure
Glowing in careless glimmer,-
Prepared to be burst, thrashed, smashed,
Then its flowing taste 
To be collected, strained 
And matured
Untill treasured 
In the dark cask of time,
Developing a taste for 
Absolute pleasure.





























1 comment: