Friday, 8 October 2021

3rd part of festival issue


 

Editorial - 
Poetry reflects life;
passion follows dreams  as a disciple worships purity. The eternal bond of art and life creates divinity. Let's flow in this spontaneous stream.

সম্পাদকীয় -
কবিতা যদি জীবনের খোঁজ হয় তবে কবিতা খুঁজে নেবে আরোও হাজার উপাসক,কবিতার সাথে হৃদয়ের বন্ধন যেন এক উপাসনা । উপাসনা হোক মহামিলনের আত্মার আত্মীয় করে চলায় এগুক জীবন,তবেই কবিতা ঈশ্বর । সকল কবি তবেই মিলনের পুরোহিত ।

ঘোড়সওয়ার - Ghorsowar ~
Editor. Nihar Ranjan Das .

Editorial and coordinator team

 Marlene Pasini ( Mexico )

Gitan Alice lleana ( Romania)

Miroslava Panayotovs 

(Bulgaria )

Gerlinde Staffler (Italy)

Madhu Gangopadhyay, ( India ).

Mala Chakraborty , (India )

Purbasha Mandol ( India )

Smita Gupta Biswas , (India )

Sujata Ghosh Roy . ( India )

Subrata Roychoudhury (India ) 

Monju GhoshChoudhury (India) 

Sujit Baksi ,( India )

Sanjita Das laskar, ( India )

Bilash Ghosh , ( India )

Kakoli Ghosh( moon) ,( India )
Shipon Sohag ( Bangladesh )

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

                     অনিন্দিতা সেন
                         ( ভারত ) 
হঠাৎ

ভালবাসার কল্পনাটাই অলীক সুখের চাবির মত,
এই তো গেল, এই বা এল মনখারাপি সন্ধ্যে যত!
নাভিমূলে শিমুল রাখো শিউলি ভেজা মিথ্যে সুখে,
নদীর মত বইয়ে দেওয়া ঢেউয়ের সাথে দুঃখ থাকে।
হঠাৎ যখন বৃষ্টি জলের আলুথালু চিঠি...
মীড়ের মত মনের ঘরে চৌরাশিয়ার দিঠি...
ছায়ার সাথে সূর্য্য মাখি স্বপ্নে ঘেরা বন্ধকি তে
তেজপাতা রং বনের মাঝে কুন্দফুলের নাকছাবি তে!
আলতো ফাগুন হঠাৎ ছোঁয়ায় ভিজিয়ে দিল চোখের ভূমি,
মধ্যরাতে চাঁদের আলোয় জ্যোৎস্না ভরা নীলচে জমি!
শ্যাওলা জড় গেরোস্থালি, মরা স্রোত আর মিথ্যে শত,
খামখেয়ালি সত্যি মায়া পোড়ায় যত প্রাণের ক্ষত,
কষ্ট হলেও তার ভিতরে আনন্দ সব কত!

                   রূপক চট্টোপাধ্যায় 
 ‌                       ( ভারত )
সুধার স্বাদ


সাধের বৈরাগ্য বেঁধেছি নদী ছন্দ গানে। 
সামনে মোরাম পথ, মোচড় দিয়ে 
মিশেছে সবুজে! এমন কোনো দিনে
বুকে হাঁটা রোদে লেখা ছিলো 
মন্দাক্রান্তা শ্লোকের পূর্ণ অবগাহন!  
লেখা ছিলো 
ঝোড়ো বাস, পোড়ো মন্দিরের বালগোপাল লীলা। 
জাগ্রত বসতির কোলাহল! 
লেখা ছিলো মধু মধু 
সব কিছু হলে। ভাগ্য ফেরানো জ্যোতিষীও
ড্রেনের পাশ থেকে পশরা গুটিয়ে নেবে ঠিক! 
এই  জীবিত উপমায় পূর্ণবৃত্তে টেনে পিছুটানের সাঁকো 
ভেঙ্গে হলুদ দুপুরের সহজ সাইকেল 
আমায় নিয়ে যায় দিনের শেষ পরিচ্ছেদে!

                  হিমাদ্রী মুখোপাধ্যায়
                         ( ভারত ) 

সাঁকোর গান
 

এপারে বিষাদ আর ওপারে শূন্যতা
মাঝে সাঁকো, পার হই ঘোর নীরবতা,
এভাবে এগিয়ে এসে
শরীরে শরীর ঘেঁসে
দাঁড়িয়োনা, ভয় পাই তোমাকে, মুগ্ধতা! 

এমন সহজ করে ছুঁয়ে দাও তুমি
দু'পায়ে বেড়ির দাগে পোড়ে জন্মভূমি
আমাকে দখল করে
প্রতিদিন ঘিরে ধরে
অবসরহীন রোদে পোড়া মরুভূমি। 

মাঝে তবু সাঁকো থাকে, আমাতে তোমাতে 
অবহেলা হেঁটে যায় সময়ের সাথে
নীচে নদী ফিরে যায়
সব সুর অসহায়
কান্না লুকাতে চায় ঢেউয়ের আঘাতে।

                     শান্তনু মজুমদার
   ‌‌                      ( ভারত )

যুদ্ধ

 থর মরুভুমির ভারত-পাক সীমান্ত লাগোয়া, প্রত্যন্ত কোন মরুপ্রান্তরে ভর দুপুরের লোহা গলানো গরমে, ছায়াহীন উন্মুক্ত বালির উপর এক্কেবারে কাঁটাতারের গা ঘেঁষে শুয়ে মোবাইলের রেডিওতে 'বর্ডার' ছায়াছবির বিখ্যাত 'সন্দেশে আতে হ্যায়' ছবির গান শুনছিল দুই জওয়ান। একজনের হাতে ছিল মানিব্যাগে রাখা নববধূ-র ছবি। আরেকজনের চোখ থেকে মায়ের স্মৃতি ততক্ষণে জল হয়ে ঝড়ে পড়ছে।

হঠাৎ রেডিও পাকিস্তানের ঘোষক গুরুগম্ভীর স্বরে ঘোষণা করলো যে সীমান্তে উত্তেজনার কারণে দুই প্রতিবেশী দেশের সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ল্যান্স নায়েক রাফাকাত আলি মুচকি হেসে উঠে দাঁড়িয়ে কাঁটাতারের ওপারের বন্ধু সুবেদার সুধীর রাওয়াত-কে বললো, "খোদা হাফিজ রাওয়াত সাহাব! মিলতে হ্যায় জঙ্গ কে ম্যায়দান মে"। সুবেদার রাওয়াত-ও একগাল হেসে, বন্ধুকে "রাম রাম ভাইজান" বলে বিদায় নিলো।
 
                      মিনাক্ষী মন্ডল
                         ( ভারত )

ক্ষনিকের বাতাস

দিব্যেন্দুর ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন হল,এবার বাড়ি ফিরার পালা।
দিব্যেন্দু  ব্যাঙ্গালোরে পড়তে এসেছিল ক্ষতবিক্ষত হৃদয় নিয়ে,অপরাজিতা  ক্ষণিকের বাতাস হয়ে এসে পাখির পালকের মতো কতগুলো স্মৃতি ফেলে রেখে দিব্যেন্দু জীবন থেকে নিজেকে ছিন্ন করে নেয়।  দিব্যেন্দুর ভালবাসায় কোন খাদ ছিলনা তাই অপরাজিতাকে ভুলে থাকতে নিজেকে পড়াশোনার স্রোতে ভাসিয়ে দেয়।
বাড়ি আসার পর দিব্যেন্দু একটি কলেজে লেকচারার পদে যুক্ত হয়েছে।
   একদিন দিব্যেন্দুর মা তাকে জানালেন, তাদের বাড়ি তার মাসি নতুন বৌমাকে নিয়ে আসছে।
         ইচ্ছে করলে ব্যাঙ্গালোর থেকে মাসতুতো দাদার বিয়েতে দিব্যেন্দু আসতে পারতো কিন্তু আসেনি দাদার ব্যবহারে, সে  দেখতে সুন্দর বলে খুব অহংকার, ছোট থেকে দিব্যেন্দু তাঁর মুখ থেকে ‌একটাই কথা শুনে এসেছে, 'তুই দেখতে একদম প্যাঁচার মতো'।
শেষের দিন অপরাজিতার কথাতেও সেই  ইঙ্গিত ছিল।
         কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে দেখে মাসি এসেছে সাথে মাসির নতুন বৌমা অপরাজিতা।
তাকে দেখে দিব্যেন্দু চক্ষু স্থির হয়ে গেল, আর মনে মনে ভাবলো, 'দাদার মতো সুন্দরকে দেখেছে যে সে কি কখনো আমার হতে পারে'?
             ভদ্রতা করে দিব্যেন্দু জিজ্ঞেস করল,' সাথে দাদা আসেনি? 
অপরাজিতা উত্তর দিল,"না, 
দিব্যেন্দু আবার জিজ্ঞেস করল,' কেমন আছো'?
অপরাজিতা উত্তর দেয়,' ভালো না, খুব ভুল করে ফেলেছি'!
কেন?
অপরাজিতা দিব্যেন্দুর চোখে চোখ রেখে বলে,"সবাই তোমার মত ভালবাসতে জানেনা, কেউ কেউ ধর্ষণও করে"!
                     সোহেল মাহবুব 
                      ( বাংলাদেশ )

মূলদৃশ্য 

মূল দৃশ্যরা হেঁটে হেঁটে যায় উপমা ঘেরা পথে
স্বাধীন পাখি উড়ে ঘোরে, ফিরতি ফেরা রথে।
দৃশ্যে ও দৃশ্যান্তরে ছিল না প্রথম কোনো ছায়া 
ফিরে দেখি পাথরের ঢেউ উপচে পড়েনি মায়া।

কতো আশায় কতো যে সেজেছে কামুক বিছানা
উপবাসী চোখ নিমিষে হারায়, শব্দের সীমানা।
ঠোঁট থেকে ঠোঁট উধাও দেখি স্বচ্ছ চুমুর মিছিল 
আঁধার নেমে এসেছে ভেতরে নদী হয়েছে শিথিল।

চোখের আড়ালে চক্ষু ভাসে দৃশ্যের খোলা দরজায়
দৃশ্যের শেষ অঙ্কে এসেছি, ঠকঠক কাঠ ঠোকরায়।
অদৃশ্যের ধূয়াশার নীলে হায়েনার ভাঙে মৃত রাত 
কোন ব্যাকরণে দণ্ডিত হই, ঘুণে ধরা এই অভিজাত!
                   সেখ আবদুল হাই
  ‌‌ ‌‌  ‌                    ( ভারত )

বলার কিছু নেই

কে তুমি অদৃশ্যে আঘাত করো 
নিঃশব্দে আঁধার ছাড়ো,ঘাপটি মারো
যত সহ্য হারাই তবুও নিশ্চল দাঁড়াই
নেই খেদ নাই উন্মাদনা, একরাশ বেদনা
বলার কিছু নেই।

দুর্বল করে ঘায়েল করেছ মোরে
মেধার শিরায় মরচে বিছায়
খুঁজি শান্তির নিশ্বাস উধাও বিশ্বাস
দিয়ে ভাগ্যের দোহাই, নেই তবু রেহাই
কিছু বলার নেই।

মরুভুমি প্রায় এই জীবন যায়
ধূসর বসন্ত দুঃখ অনন্ত
ধীরে ধীরে তাই মৃত্যু আসে যায়
না বলার দেশে থাকি ভালোবেসে
কিছু বলার নেই।

                        সন্দীপ রায় 
    ‌‌                     ( ভারত )

বনমালী বাউড়ি 

স্মৃতি তে মরচে না ধরলে 
বিস্মৃতিরাও অন্তরালে চলে যায়, 
বর্ণমালা হাবুডুবু খায় পাকা রাস্তায় ... 

এসব কথা এখন আর ভাবতে চায় না
বনমালী বাউড়ি 
তিন রাস্তার মোড়ে গড়গড় করে 
খবরের কাগজ পড়ে - 
তাও আবার ইংরেজি কাগজ;

হাঁ করে দেখে সবাই, 
ভাবে- দারিদ্র্যের ছাপ 
ছোট বেলায় ঘা মেরেছিল অভাবের সংসারে।
বর্ণমালা মগজের কোষে জমাট বেঁধে ছিল :
গভীর ক্ষতে জমাট বেঁধে থাকা 
কালশিটে রক্তের মত।

বনমালী শহরের ব্যস্ততম প্লাটফর্মে মোট বায় ,কুলি--
নুন আনতে যার পান্তা ফুরোয়
ফুটপাথের ছাউনিতে যার অগোছালো সংসার ,
 বউ- বাচ্চা নিয়ে নাভিঃশ্বাস -
সেই  বনমালী বাউড়ি'র 
ভোরের ট্রেন প্লাটফর্মে ঢোকার আগে 
শরীরে মেখে নেয় বর্ণমালার ছাপ ,
আর নাকে হু হু করে ঢোকে সদ্য ছাপা কালির গন্ধ। 

মাটিতে জন্ম বনমালীরা অভাবের তাড়নায় 
এভাবেই মাটিতেই হারিয়ে যায়।

                        সম্রাট পাল
  ‌‌                      ( ভারত )

ফ্যান

ভাত হয়ে গেলেও
যে জল-
নিঃশব্দে ভেসে থাকে উপরের দিকে
সে যেন
অনেকটা তোমার অবহেলার মতো নতমুখ..
                       অপূর্ব বিশ্বাস
   ‌‌ ‌                     ( ভারত )
গ্যারান্টি

"একটা ভালো এল-ই-ডি বাল্ব দিন তো,অমলদা ৷" ইলেক্ট্রিকের দোকানে গিয়ে বাল্ব চাইতেই দোকানদার জিজ্ঞাসা করলেন—
"কত ওয়াটের দেবো ?" 
বললাম—"নয় ওয়াটের দিন ৷"
—"একটু বড় ঘর হলে বারো ওয়াটের এই বাল্বটা নিয়ে যান, মাস্টার মশাই ৷ ভালো আলো আর দু'বছরের গ্যারান্টি আছে ৷ এর মধ্যে কোন প্রবলেম হলেই নিয়ে আসবেন, পাল্টে নতুন বাল্ব দিয়ে দেবো সঙ্গে সঙ্গে ৷"
বলেই বাল্বের গায়ে স্কেচ পেন দিয়ে  সই করে তারিখ লিখে দিলেন— ২৮/৮/২০২০ ৷ দু'বছরের দীর্ঘ সময়ে লেখাগুলো অস্পষ্ট-দুর্বোধ্য হয়ে যেতে পারে বলে সই-তারিখের উপর একটা সেলো টেপও লাগিয়ে দিলেন অমলদা ৷

দাম মিটিয়ে বাড়িতে এনে বাল্বটা জ্বালাতেই স্ত্রী বললো—"এই বাল্বটাতে মনে হচ্ছে আগের থেকে বেশি আলো হচ্ছে ?"
আমি বললাম—"হ্যাঁ, এটা আগেরটার থেকে বেশি পাওয়ারফুল আর বেশি গ্যারান্টিযুক্ত ৷"

বছর কেটে গেছে ৷ গতকাল সন্ধ্যায় বসার ঘরের আলোটা জ্বালতে গিয়ে দেখি সেটা দপদপ করছে ৷ বাল্বটা খুলে নিয়ে দেখি সেই দু'বছরের গ্যারান্টিযুক্ত বাতিটাই এটা ৷ অমলদার পাল্টে দেওয়ার কথাটা মনে পড়লো ৷ কিন্তু রাতে আর বাজারে গেলাম না ৷ পর দিন সকালে বাজারে গিয়ে দেখি অমলদার দোকান বন্ধ ৷ কিন্তু আজ তো সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নয় ৷ পাশের দোকানে জিজ্ঞাসা করতেই দোকানী বললো—
"জানেন না মাস্টার মশাই ? অমলদা তো গত ২৮শে আগস্ট করোনায় মারা গেছে ৷ অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই দোকান বন্ধ ৷ সাতাশ দিন কোলকাতার একটা হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৷ শুনলাম অনেক ধার-দেনা হয়ে গেছে ৷ দোকানটা নাকি বিক্রি করবে.....৷"

তার পরেও সেই দোকানী আরো কীসব বলে গেল ৷ কিন্তু আমার মনে তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—"কার গ্যারান্টি কে দেবে? 

                       অমল বিশ্বাস 
                       ( বাংলাদেশ) 

কাকপুষ্ট খাদকের চোখ 

একটি মৃতদেহ খোলা বারান্দায় রাখতে 
সভ্য-অসভ্য অনেকে এগিয়ে এলো
কেউ সহমর্মিতাবোধে, কেউ কৌতুহলে। 

কেউ কাঁদছে, কেউ তার বয়স গুনছে,
কেউ সালোয়ার-কামিজে
তখনও কামনার বীজ পুঁতছে অবলীলায়,
চোখের লালায় চলছে ধর্ষণ কার্যক্রম
মৃতার বিভিন্ন স্থির অঙ্গ-উপাঙ্গে।

একটি বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে
মৃতার মাথার অবিন্যস্ত চুলগুলো গুছিয়ে 
ঢেকে দিলো এতোদিনকার রক্ষিত বুক,
অন্তত কিছুটা রক্ষা পাক
যতক্ষণ না সে সাদাকাপড়ে ঢাকতে পারে
সামাজিক কাকপুষ্ট খাদকের চোখ।

ভিক্ষের টাকায় কেনা সাদাকাপড় হাতে 
বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েটি ফিরে এসে দেখে
সালোয়ার-কামিজ আরও ছিঁড়ে গেছে।

                         পিয়াংকী
  ‌                      ( ভারত )

মাছভাত আর কৃষ্ণনাম
 
সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসার পর দীর্ঘশ্বাস। ঠিক যেন গাড়ির  ব্রেক। থামিয়ে দেবার জন্য যারা দাঁড়িয়ে থাকেন রাস্তার আশেপাশে তাদের শরীর জুড়ে  আমি কৃষ্ণচূড়া দেখি,টকটকে লালের মাঝে সবুজের ঘনত্ব, একজন যেন অন্যজনকে ছাপিয়ে যেতে চাইছে।চলতি পথে আগলে নিই এদের দু'জনকেই।

কতকিছু বলার জন্য বেজে ওঠে ঠোঁট, বাতাস ঢুকে আসে বুকের বাঁদিকে,গোপন ডেরায় সবটুকু ফাঁকা। ঋতু আসে,চলেও যায়।রেখে যায় আবছা দাগ, নিরাময় থেকে সামান্য নুন চুরি করে ঢুকিয়ে দিই সেমিজের ভেতর। 

আমি পড়তে শিখিনি। শুধু লিখে নিতে দেখেছি নিজের ওজনটুকু।চার আঙুলের আড়ালে সূর্য ঢলে পড়ার পর তাঁকে পুরুষ বলে চেঁচিয়েছি বহুবার। আসলে আড়ালটা হল ধ্রুবক।বীজগাণিতিক পদ্ধতিতে যেমন এ অথবা বি ধরে নিলে পথের মাটি কাটতে সুবিধে হয় ঠিক সেভাবেই অসংজ্ঞাত ফিগারকে ওয়াই ধরলেই এক্স ফ্যাক্টর তুঙ্গস্থ থাকে , ততদিনই থাকে যতদিন পিতা আর পুত্রের বয়স নিয়ে বাঙালি খাবার পাতে কেসিনাগ আওড়ায়

এত ক্যাঁচড়া আজকাল আর ভাল্লাগে না।বয়স বাড়ছে আস্তে আস্তে। বুঝতে পারি। আর পারি বলেই এসব ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিই একদিন ভরদুপুরের কাক ডাকার শব্দে। রাস্তায় দু'টো কুকুর চিৎকার করে ।বাড়ির নৈঋত কোণে একটা বিড়াল কাঁদে। প্রতিবেশী বলেন " কু' ডাকতাসে খুব"। আমি বলিনা কিছু।শুধু তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি নিথর হয়ে

সিঁড়ি আমার গা বেয়ে বেয়ে গাছে ওঠে আর ততক্ষণে নদীতে ছিপ ফেলে আমি অপেক্ষা করি আমিষের...

                     মঞ্জুশ্রী চক্রবর্তী 
                         ( ভারত ) 

নষ্ট চলন

অতীত স্মৃতি মন জুড়ে বসে আছে আজও…
মিলনের পথে ছিল পর্বতসমান বাধা!
তা পেরিয়ে সবাই কথা রাখতে পারেনা,
রাখা সম্ভব হয় না হয়তো! তা জেনেও
দুরন্ত অভিমানে মুখ ফিরিয়েছি।

আবার শতাব্দী ধরে খুঁজেছি তোমাকেই,
আগামী একশো বছরও চলবে অন্বেষণ!
স্বপ্নের ভ্রুণ মুকুলিত হওয়ার অপেক্ষায়
চেয়ে আছি নির্নিমেষ তোমার পথের দিকে।

দীর্ঘ কালো রাতের শেষে রাঙা ভোরের উত্তরী
গায়ে এস আমার প্রেমিক, আমার পুরুষ...
মেলে দাও সোনালী আলোর ধানীরঙ শাড়িটা,
পাখির ঠোঁটের সুরেলা জরিতে বুনে
জড়িয়ে নিই গায়ে...
আমার গলায় গড়িয়ে পড়া আশাবরীতে 
মিশে যাক তোমার ভৈরব,
বক্রগতি চলনে নষ্ট হোক বিশুদ্ধতা।

                     শম্পা রায় বোস
                         ( ভারত ) 

ভালোবেসে দেখোই না

একবার ভালোবেসে দেখোই না অনিকেতদা। 
তোমার সব কিছু কেমন লণ্ডভণ্ড করে দি-
তোমার পরিপাটি গুছোনো আদুরে জীবন।
এক নিমেষেই করে দি কেমন- ওলোটপালট অগোছালো! লো

একবার সাহস করে এগিয়ে এসোনা অনিকেতদা। 
তোমায় নিয়ে পাহাড়ের চুড়োয় বসি,
 গরম কফিতে ঠোঁট ছোঁয়াই।
নীল আকাশে সাদা মেঘের ভীড়ে কেমন হারিয়ে যাই। 

ছোট্ট ডিঙি ভাসিয়ে মাঝ সমুদ্রে কেমন দাপাদাপি করি,
ডলফিনের সংসার দেখে আসি ডুব সাঁতারে। 
কুড়োনো কিছু নুড়ি পাথর স্মৃতির ঝুলিতে ভরে রাখি,
কিংবা কেমন ড্রয়িংরুম সাজাই!

একবার বাউণ্ডুলে হয়ে দেখোই না অনিকেতদা।
তোমায় নিয়ে কেমন দিগন্তরেখা ছুঁয়ে আসি। 
কাশফুলে ঢাকা সবুজ মাঠে তোমার গা ঘেঁষে বসি।
গাঢ় চুম্বনে হারিয়ে যাই সবকিছু পেছনে ফেলে।
তোমার মরচে পড়া অলিন্দের খাঁজে হাত রাখি বিশ্বাসের,
শুকনো নদীটা বেঁচে উঠুক আবার।

ভালোবেসে দেখোই না অনিকেতদা-
 শুধু একটি বার।

                         বানীব্রত
      ‌                  ( ভারত )

 শারদ মিলন

শরতের আকাশে হাল্কা সাদা মেঘের মেলা, বাতাসে শিউলির গন্ধ, মাঠ সেজেছে  কাশ ফুলে। রেডিওতে মহালয়া চলছে, আগমনীর আগমন ঘটবে আর কয়েকদিন পরেই দেবীপক্ষের মধ্য দিয়ে।  বাংলার ঘরে ঘরে আনন্দের সীমা নেই। চলছে চিন্ময়ী মায়ের মৃন্ময়ী রূপ দান। বাজছে ঢাক, মাইক, পাড়ায় পাড়ায় চলছে প্যান্ডেল বানানো।

আঠার পেরোনো রহিমের বাবা প্যান্ডেল বানানোর কাজ করতো তাই দিয়েই চলতো ওদের তিন জনের সংসার। রহিম আজ দুর থেকে দেখছে প্যান্ডেল বানানো। কয়েক মাস আগে ওর বাবা সামান্য অসুখে ওদের ছেড়ে পরলোকে পাড়ি দিয়েছে। আজ বড় অসহায় ওরা। অনেক আশা ছিল এই পুজোর সময়ের রুজি রোজগারের। রহিম ভাবতে লাগলো ওদের সম্বল শুধু কয়েকটা টাকায় চায়ের দোকানে মায়ের কাজ। ঠিক করল এবার পুজোতে ও ঢাক বাজাবে আর যা পাবে তা তুলে দেবে মায়ের হাতে। ঢাকটা ভালোই বাজাতে পারতো রহিম কিন্তু হিন্দুর ঘরে কি ওকে ডাকবে এই ভাবনাটা মাথায় থাকলেও তাকে গুরুত্ব না দিয়ে ওর বাবার বন্ধু অলোক কাকুর ঢাকের দোকানে গিয়ে কথা বলে একটা ঢাক ভাড়া নিয়ে বেড়িয়ে পরে রাস্তায়।

চতুর্থির সকালে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে মাইক বাজছে তার সাথে ছোট রহিমের কাঁধের ঢাকের বাজনার সুমধুর তাল বাতাসে মিলিয়ে  যাচ্ছে। পথে যেতে যেতে বেশ কিছু টাকা আয় ও করে সে। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম হেঁটে চলেছে সাথে বোল তুলেছে ঢাকে। গ্রামের শেষ প্রান্তে এসে এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি ওর বাজনা শুনে ওকে ডাকে। তিনি ঢাকি খুঁজতে বেরিয়েছিলেন। পথে  রহিমর বাজনা শুনে  বায়না করেন রহিমকে।  ছোট  রহিম তার নাম ও পরিচয় দিয়ে বলল, "কাকু আমি মুসলিম  আপনাদের হিন্দুদের ঘরে আমি বাজাতে পারব তো? আপনাদের কোন আপত্তি হবে না তো? আজ আমরা বড় অসহায় বাবা প্যান্ডেলে কাজ করতো কিছুদিন আগে মারা গেছেন।  এছাড়া আমি তো কোন কাজ জানি না তাই ঢাক ভাড়া করে বাজাতে বেড়িয়েছি কিছু আয়ের জন্য"। ভদ্রলোক সব শুনে রহিমের প্রতি মায়া হলো।বায়না করল প্রতিবছরের জন্য। আর বলল পুজোর পর থেকে তার বাড়ির  দেখাশোনার জন্য রহিমকে রেখে দেবে। রহিমের মুখে ফুটে উঠল হাসি। মায়ের আগমনে ঘটল শারদ মিলন।।
                       রনিতা পাল
                         ( ভারত ) 

স্তুতি
      
একদলা খিদে ঘুরপাক খাচ্ছে শরীরে,
ঘামে ভেজা দু'চোখ ঝাপসা ক্রমশ-
কংক্রিট মোরা রাস্তার উত্তাপ 
                     গ্রাস করেছে বোধহয় !
লাল-নীল  আলোয় মোড়া শহরের দিকে চলেছি
  পিছনে ফেলে আসা সমস্ত বাঁধন 
                          সরছে দূর-বহুদূরে ।
রাক্ষুসে রোগ  ছিঁড়ে খেলো জোয়ান ছেলেটাকে,  
ছেলের বাপ মরেছে কতকাল আগে।
শূন্য ঝুলি ,তবু আশা জাগে;
 লোকে বলে  'বছরকার পুজো '
 দুগ্গা ঠাকুর ফেরায় না কখনো।
 চলেছি এ শরীর বয়ে -  বেলা ওই পড়ে এল কত;
শহর নাকি ঝুলি ভরে দেয়,
তবে কি এবার মিটবে সব ক্ষত?
 তুলসী মঞ্চ উঠোন বাড়ি বন্যা নিলো গিলে ,
পারবি কি 'মা' ফিরিয়ে দিতে -আবার আগের মত।
সর্বহারা মায়ের স্তুতি সর্বজয়া  কাছে,
ঠাঁই দিস 'মা'  এ রাজপথে,  প্রণাম শত শত।।
                       জয় দেবনাথ
                         ( ভারত ) 

একটি ফ্রয়েডিয় গল্প

ঘরে কেউ নেই, বাইরেও কেউ নেই। আশেপাশে কেউ কোথাও নেই এখন। সবাই নিদ্রাসাধনায় মগ্ন। চারিদিক নীরব। স্তব্দও বটে। নতুন করে আবিষ্কার করলাম মানুষের কোলাহল থেমে গেলে নির্জনতায় গ্রাস হবে ধরা। রাত সম্ভবত দেড়টা। আকাশে  পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদ। সাদা আলোয় বাড়ির উঠানটা অন্যরকম লাগছে। যেন দেবলোকের উজার করা আলো এসে উঠোনজুড়ে স্থির হয়ে আছে। নিজের ছায়াও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট। ভালোই লাগছে। চাঁদের আলোয় নিজের স্থির ছায়া দেখতে ভালোই লাগে। আমি চাঁদ সমেত আকাশের দিকে চেয়ে বসে আছি। আকাশের দিকে চেয়ে থাকলে নাকি মন বড় হয়। কতটুকু সত্যি জানি না। অপলক চেয়ে আছি। মন বড় না হলেও ক্ষতি নেই, মন তো ভালোই লাগছে।

এক রাতের জন্য সক্রেটিস টাইপ হয়েছিলাম। উঠানে একা বসে আছি। মাঝেমাঝে চোখ বন্ধ করে রাখি। মাঝে মাঝে খুলি। ভাবছিলাম একটি লেখা লিখবো। বহু লেখা লিখতে পারবো মনে হচ্ছে হঠাৎ। কোনটা আগে লিখবো এটা ভেবেই পাগল প্রায়। পাগল কথাটা শুনলেই আমার ফ্রয়েডকে মনে পড়ে যায়। পাগল নিয়ে এক বিখ্যাত দার্শনিক গল্প আছে। সেটিও মনে পড়লো।

ফ্রয়েড মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের চিকিৎসা করতেন। তাঁর চিকিৎসাধীন পাগলদের সম্পর্কে একটি গভীর মন্তব্য তিনি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন কিছু পাগলকে চিকিৎসা করে সারিয়ে তুলতে তাঁর মন চাইত না। তারা সুস্থ হয়ে যাক, তিনি এটি চাইতেন না। তিনি পরিষ্কার বুঝতে পারতেন, এইসব পাগলেরা সুস্থ অবস্থায় এত ভয়ংকর তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন যে পাগল হয়ে যাওয়াতেই ছিল তাদের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি। তারা সুস্থ হয়ে গেলেই আবার হয়তো সেই যন্ত্রণার শিকার হয়ে যাবে। কবি রণজিৎ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতায় এ বিষয়ক একটি কবিতাও আছে। যার নাম 'চিকিৎসা।'

যে সব পাগল অসুস্থ নয়। কিছু পাগল মর্মান্তিকভাবে সুস্থ। মানুষের জীবনে কখনও কখনও সুস্থতাই রোগ, পাগলামিই তার চিকিৎসা। কিছু কিছু অস্বাভাবিক জিনিস যেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে জীবনে। তখন মনে হয়, এই অস্বাভাবিক ব্যপার স্যপারগুলোর মতো এত স্নিগ্ধ, এত গভীর সুন্দর পৃথিবীতে আর কিছু নেই। হঠাৎ ফ্রয়েড এসে এভাবেই একটা রাতকে ভোর করে দিয়ে চলে গেলেন। সে রাতে আর ঘুম হয়নি, লেখাও হয়নি।

                     কার্তিক বিশ্বাস
                      ( বাংলাদেশ )
সন্ধি

এখনই সময়;শুনছো নাবিক,ফিরে চলো যাই তীরে
অবেলায় আর পাবে কি সময়,বৈঠা চালাও ধিরে।
চলো ফিরে চলো ঐ পথে ধাই,যেখানে সুখের ঘাটি
এক হয়ে চলো গড়ে তুলি সবে সাম্যের রাজবাটী। 
তুমি,আমি,তাঁরা আরও শতদলে এক নায়ে করে ভর
যাই চলো যাই এক সুরে গেয়ে,এক তানে তুলে স্বর।
ছোট-বড় ভুলে জাত-পাত দলে,বিভেদের মাথা মুড়ে
সময়ের স্রোতে চলো পাল তুলি,আকাশ গঙ্গা ফুঁড়ে।
দেশ,কাল,জাতী রেষারেষি ছাড়ো-ক্ষমতা,দাপট তাও
হতভাগাটারে টেনে তুলে তারে,বুকের পরশ দাও।
কারে দেখো তুমি আব্দুল গণি,কারে ভাবো হরিদাস?
সবাকার মাঝে খুঁজে দেখো ফের,এক মানুষেরই বাস।
কেতাব,গ্রন্থ্য পুস্তকে দেখো বিভেদ কোন স্থানে?
এই ভুমিতেই লালিত সবে,এক মায়ের স্তনে।
কোন্দল ছাড়ো হায়েনা লেবাসে,মানুষের রূপে চাও
আত্মার সাথে সন্ধিতে মিলে সাম্যের জয় দাও।
                      শিখা খন্দকার
                      ( বাংলাদেশ )
অর্ন্তধান

কবে যেন  দেখেছিলাম শরৎকাশ ,
 এক সাথে হাতে হাত রেখে।
শিশির ও ছুঁয়েছিল যৌবনপ্রাপ্ত ঘাস.
 ভিজেছিলাম শিশিরের আদর মেখে।
দুটি রঙে ভাসছিলো সোনাঝুরি বিকাল,
 পায়ে পায়ে হেঁটে গেছি দূর বহুদূর।
 সন্ধের আদরে হতো কখন যে সকাল,
সেসব কথা আজ  তোমার মতোই সুদূর।
  রাতের শরীর ঘেঁষে   মুঠোভরা জোছনায়  ,
 অস্ফুটে বলেছিলে এ আকাশ হবে অর্ন্তধান।
বলেছিলাম এসো ভাসি ভিন্ন রাগের মূর্ছনায়,
আমার জীবনে শরৎ তোমার মতোই তিরোধান.।
 ঝরা পাতার  শব্দ শুনি  হয়তো  হেমন্ত আসন্ন,
আমার প্রতীক্ষা তুমি জানি কৃষকের নবান্ন।
                      শিপন সোহাগ
   ‌‌ ‌                  ( বাংলাদেশ )
শূন্যতা

সব হারানোর মাঝে এক অদ্ভুত সুখ আছে! বনান্তের যোগীর মত আশ্রমের আখড়ায় জটায়ু বৃদ্ধ বাউলের মত লক্ষ্যবিন্দুতে গভীর মনোযোগ দেওয়া যায়!
সব হারানো মানেই নিঃসম্বল নিঃসঙ্গতা নয় বরং সাধনার পথ কে আরো নির্ঝঞ্ঝাট আরো মসৃণ রূপে পাওয়া।
সর্বহারার প্রতিটি পদক্ষেপ'ই স্বনির্ভরতার 
অমোঘ অনুপ্রেরণা! 
একলব্যের মত অদম্য স্পৃহা আর নিষ্ঠা চাই!
ক্ষুধার্ত চিতার মত বিকল্পহীন শিকারের পেছনে বিভোর মনোসংযোগ চাই।
পৃথিবীর সকল রং আঁধারে নিমজ্জিত হয় নিঃশেস হতে নয় বরং সুসংহত হতে।

                    অভীককুমার দে
   ‌‌                      ( ভারত )

আলো

কেউ কারোর মতো নয়
সবাই নিজের মতো,
ঘুম থেকে জেগে উঠলেই
আলো,পথ দেখায়...

পা টিপে টিপে এগিয়ে যাওয়া
শিখে নিতে হয়, 
যদিও 
মাটিকে বোঝার আগেই 
সব পথ ঢেকে যায় অন্ধকারে ;

এই যে আলো আর অন্ধকার 
ঘুম ভাঙে ভেতর থেকে,
পথের জন্য-

বাইরে তার বাণিজ্য সমারোহ
উপকরণ সাজিয়ে,
প্রকৃতি এক আজব দোকান 
বেচে কেনে নিজের মতোই ।

ভেতর আলো অন্ধকারে ডুবে গেলে
বাইরের প্রয়োজন ফুরায় ।

তাই
আলোকে জ্বলতে হয়,
না হয় ভীষণ অন্ধকার। 

                      ঝুমুর পান্ডে
                         ( ভারত ) 

নদীর কথা
             
(এক)

স্তব্দতার খারি বেয়ে
নেমেছিল মেঘবতী নদী
      হাঁটুমুড়ে বসেছিল
                সিমন্তিনি চাঁদ
করেছি আকন্ঠ ভরে পান
      কে জানে অমৃত না গরল.....?

(দুই)

ফিরে যাও নদী
 বিলাস শেষে বলেছিল
 দ্বাদশীর জুঁই গন্ধা রাত
     গায়ে জলের গন্ধ
কী করে যে মুছে নিল বিলাসিনী রাত...?
    নোনা স্বাদে পদ্ম রেণু
আহা কাঁদে অহরহ
 নদী বহে আপন প্রত্যয়ে......




















  
               
                                                       


























2 comments:

  1. Muy buena la presentación. Se podría pensar en la próxima versión que pueda ser triligüe aumentando el español, hubo algún poema en español

    ReplyDelete
  2. শুভেচ্ছা সবাইকেই,
    সেখ আবদুল হাই
    পশ্চিম বঙ্গ, ভারত

    ReplyDelete