Friday, 27 August 2021

August issue 2021. 4th part.


 সকল কবি এবং পাঠকদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা।

                  Welcome to 

  our all poets and readers.

🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏

Editor. Nihar Ranjan Das

Siliguri , Darjeeling, 

West Bengal , India.

Editorial and coordinator team 

Madhu Gangopadhyay, 

Bangalore , India .


Mala Chakraborty , 

Kalyani . West Bengal,India .


Smita Gupta Biswas ,

Kolkata, West Bengal , India .


Sujata Ghosh Roy .

Kolkata .West Bengal,  India .


Subrata Roychoudhury 

Siliguri,West Bengal , India  .


Monju Ghosh Choudhury,

Siliguri , west Bengal India .


Sujit Baksi , Siliguri , west Bengal , India .


Sanjita Das laskar, Silchar, Assam , India.


Bilash Ghosh , Hoogli ,west Bengal , India ,


Kakoli Ghosh( moon) , Baharampur , west Bengal , India .

 

Daniela Marian , Romania.


Gerlinde Staffler, Italy.


Marlene pasini , Maxico .


✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️

Editorial ....

Only poem, song, and drama can break the chain and bring a free yard.  Today the whole world is before us in an authoritarian form.  We will break this chain, to walk our path with this vow.

শৃঙ্খল ভেঙে এক মুক্ত উঠোন আনতে পারে কেবল কবিতা , গান , নাটক । আজ সমস্ত পৃথিবী এক স্বৈরাচারী রূপ নিয়ে আমাদের সামনে । এই শৃঙ্খল আমরা ভাঙবো এই ব্রত নিয়ে আমাদের পথ চলা ।

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹


✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️✍️

                  সুস্মিতা কৌশিকী

 ‌‌                     (‌‌ ভারত)

বই পড়া  :

কে না জানে ব‌ই-ই মানুষের সবচেয়ে নীরব ও অবিচল বন্ধু । ব‌ইকেই সবচেয়ে সুলভ ও প্রাজ্ঞ পরামর্শ দাতা এবং  ধৈর্য্যশীল শিক্ষক‌ও বলতে হয় । ব‌ই নিয়ে জ্ঞানীগুণিদের কিছু মূল্যবান 'কোটেশন ' দেখতে চেয়েছিলাম , কিন্তু গুগুল জ্যাঠামশাই এত্তো এত্তো কোট এ দর্শন করালেন যে কাকে নিয়ে কাকে রাখি অবস্থা । শেষমেষ গলদঘর্ম হয়ে ক্ষান্ত দিলাম । 


             আসলে আলোচনাটা ব‌ই নিয়ে নয় , ব‌ইপড়া নিয়ে করতে চাইছি । আর তখনই পুরনো প্রেমের মতো মনের শাখা ধরে  উঁকি দিয়ে গেলেন বেকন সাহেব । রীতিমতো সাহেবী কায়দায় । বললেন , ব্যক্তির স্বাভাবিক গুণাবলী প্রকৃতিতে স্বেচ্ছায় বেড়ে ওঠা গাছের মতো , তাদের কেঁটেছেঁটে সাফসুতরো করা দরকার । আর এই সাফসুতরো করার কাজটি করবে ' ব‌ইপড়া '। 

              ব‌ইপড়া আর পড়াশোনা করা কিন্তু সমার্থক নয়। ব‌ইপড়া শব্দের মধ্যে রয়েছে বিস্তার আর পড়াশোনার মধ্যে গভীরতা । ব‌ই পড়া শখের হতে পারে , পেশাগত হতে পারে আবার জ্ঞানার্জনের‌ও হতে পারে । তবে সবক্ষেত্রেই যে দুটি জিনিস কমন তা হলো আনন্দ আর নির্যাস। শখ পূরণে আনন্দ যে আছে তা বলাই বাহুল্য। পেশাগত কারণে ব‌ই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পাবে। আর নিজের ভেতরে জ্ঞানের ভান্ডার গড়ে তুলতে গেলে ব‌ই হলো প্রাথমিক ধাপ। ফ্রান্সিস বেকন তাঁর of studies -এ একেই বলেছেন delight , ability এবং ornament । 

       ভালো ব‌ই মন্দ ব‌ইয়ের কথায় না গিয়ে বরং বলি ,যে যেমন ব‌ই পড়বে ,সে তেমন নির্যাস লাভ করবে । কারণ 'ভালো ব‌ই ' বিষয়টি নিয়ে গোলযোগ আছে। কোন ব‌ইকে ভালো আর কোন ব‌ইকে মন্দ বলতে পারি ? ভালো মন্দ বিচারের মাপকাঠিই বা কী ? আপনার ভালো ব‌ই আর আমার ভালো ব‌ই এক হবে এমন গ্যারান্টি নেই । বরং বলা চলে প্রত্যেক ব‌ইয়ের‌ই নির্দিষ্ট গন্তব্য আছে , যার যেখানে পৌঁছনোর সেখানে  ঠিকই পৌঁছে যায়।

                  তবে জ্ঞানপ্রজ্ঞা বিষয়ক কিছু ব‌ই অবশ্যই আছে যেগুলি যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছে , থাকবেও । পৃথিবীতে এখন‌ও পর্যন্ত যত ব‌ই লেখা হয়েছে , প্রতিদিন একটি করে শেষ করলেও একজন মানুষ তার জীবৎ কালে মোট ব‌ইয়ের সামান্যই পড়ে শেষ করতে পারবে । তাহলে উপায় ? ঐ যে , বেকন সাহেবের ভুত , তিনিই ( ভুত হলেও মান্যি করতে হয় ) তো বলে দিয়ে গেলেন " some books are to be tasted , others to be swallowed and some few to be chewed and digested " কিছু  ব‌ই ছুকছাক জিভে ছোঁয়ালে‌ই চলবে , কিছু গিলে নিলেই হলো , আর বাদ বাকি অল্পকিছু  আচ্ছা করে চিবিয়ে হজম‌ও করতে হবে বাপু ।

            আমাদের বাল্যে আমরা অনেকেই বাড়ির গৃহিণীদের ব‌ইপড়ার অভ্যাসের সাথে পরিচিত । যাঁরা ঘর- গৃহস্থালির কাজ সামলে বা চাকরিবাকরি , ছানাপোনা সামলে ছুটির দিনে / দুপুরের অবসরে শীতলপাটির ( গ্রীষ্মকালীন ) উপর শুয়ে চুল মেলে দিয়ে ব‌ই পড়তেন । তাঁদের হাতের ব‌ইগুলি হতো সাধারণতঃ গল্প , উপন্যাস , নীতিকথা , স্মৃতি মূলক বা ভক্তিমূলক মহাকাব্যাদির অনুবাদ  । 

               যারা ব‌ইপড়াকে পড়াশোনার পর্যায়ে নিয়ে যান তাদের ব‌ই কিন্তু নি:সন্দেহে আলাদা । ইতিহাস , দর্শন , রাজনীতি , ধর্ম , বিজ্ঞান , বিবিধ ব‌ইতে তাদের স্বাভাবিক আগ্রহ।

          রয়েছে পেশাগত ব‌ইয়ের দুনিয়া।যত মত তত পথের মতো  যত পেশা তার অধিক ব‌ই । হস্তরেখা বিচার থেকে হোমিওপ্যাথি , আয়ুর্বেদ থেকে আমের আচার তৈরি সবের‌ই ' র স প ' সব নিয়ে ‌‌‌ই ব‌ই আছে । কেবল পছন্দ ও প্রয়োজন মতো বেছে নেবার অপেক্ষায়। 

               মানুষের ব‌ইপড়ার অভ্যেসটিও বৈচিত্র্যে ভরপুর। আমাদের এক শিক্ষক ছিলেন তিনি নাকি প্রতিরাতে একটা করে ব‌ই পড়ে শেষ করতেন । মিথ না মিথ্যে যাচাই করতে যাইনি। তবে অনেকেই আছেন যারা যত না পড়েন তার চেয়ে অনেক বেশি ব‌ই সংগ্রহ করেন । সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নি:সন্দেহে মহৎ এবং প্রয়োজনীয় কাজ । 

         

      বাংলাদেশের বিশিষ্ট অধ্যাপক , শিক্ষাবিদ ও 'বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র 'নামক প্রতিষ্ঠানের প্রাণপুরুষ আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ মহাশয়ের ভাষণে একটা কথা খুব মনে ধরেছিল । তিনি বলেছিলেন যদি ব‌ই পড়ার অভ্যাস নাও থাকে , তাহলেও ব‌ইয়ের কাছাকাছি থাকুন । মন নির্মল থাকবে । 

              এই কথা যেই লিখেছি বেকন সাহেবের বিদেহী আত্মা আরো একবার গলা বাড়িয়ে বলে দিয়ে গেলেন " Crafty men condemn studies , simple men admire and wise men use them " .

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

                     মালা চক্রবর্তী ‌‌

                          (‌‌ভারত)

প্রেম 

প্রেম মানে বুঝি অনন্ত হাতছানি

কার আহ্বানে জেগে ওঠে কোনো দ্বীপ

 উত্তাল সমুদ্র ভাঙে প্রবাল প্রাচীর

কারো বুকে ভাসে গোপন অন্তরীপ।


আগুন জ্বালায় চকমকি ঠুকে কেউ

চির কাঙ্খিত একান্ত অভিসার

কুঁদে কুঁদে আঁকে দুটি হৃদয়ের ফুল

ছেনি-হাতুড়িতে অজন্তা ইলোরার।


ঘাতক জীবন পরাগ মিলন শেষে

সেই মরণকে বার বার ছুঁতে চায়।

চির পিপাসিত মরিচিকা দেখে ছোটে

সত্যি কী কেউ প্রেম বলে কিছু পায়?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

                  সঞ্জিতা দাস লস্কর 
 ‌‌‌                        ( ভারত )

কাপালিক

কখনও তোমাকে  মনে হয় নিষ্ঠুর কাপালিক

ছড়িয়ে থাকা নরমুণ্ড নিয়ে খেলছো অযুত বছর ।

আমিতো বশীভূত এক জন্মান্ধ হরিণী ।

ঘাসের উপর মুমূর্ষু শায়িত ছিলাম, 

শাপগ্রস্ত মাতৃগর্ভ থেকে,

বাঁচিয়ে রেখেছো স্বউদ্যমে ..

এখন আমার ভিতরেও  বাড়ছে ক্রমশ

দীর্ঘতম শিশুভ্রূণ

বেশ বুঝতে পারছি ,

সে আমার আগুন।

জঠরে- রক্ত-শ্বাসে 

 এক নয়,সহস্র কাপালিক ....

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

কৃষ্ণা সরকার 
( ভারত )

মৃত 

চাইলেই কি পাওয়া যায়,

জীবনের পড়ন্ত বেলায়,

যে সম্পর্ক অনাদরে সকালে গিয়েছে মরে,বাঁচে কি বিকেল আলোয়____

সারাদিন দাবদাহে শুষ্কতা সয়ে সয়ে জলাভাবে নিস্তেজ বিকাল ;

যার নাড়ী গেছে শুকায়ে,কি লাভ বলো জিহ্বায় উত্তরসূরীর একফোঁটা জল____

সম্পর্কের মাঝে অচ্ছেদ্য প্রাচীর, অদৃশ্য বলে ভেবো না তা অনুভবে মৃত ___

ভালোবাসার অনুভূতি শীর্ষতম  কষ্ট পেতে রাজি,

কিন্তু অবমাননায় হয় হৃদয়ের আসন থেকে বিচ্যুত ;

যৌবন উত্তরকালে উচ্ছিষ্ট কাল নিয়ে বসে তুমি আজ ____

আমন্ত্রণ জানাও প্রেয়সী রে,যার নির্মাল্য করেছো অনাদর ;

তোমা তরে শুকায়েছে প্রেম, নিভেছে প্রদীপ,লব্ধ প্রজ্ঞায় আজ সে পাথর।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

                     তপন ঘোষাল 
                        ‌‌(‌ ভারত )
হে জীবন !

এ সময় বড় অস্থির !!..
প্রলয় শিখা অনির্বান হেনকাল--
দ্রিমি দ্রিমি দ্রুম দ্রুম তাথৈ তাথৈ 
রুদ্র জেগেছে আজ দীর্ঘ ঘুমের পর,
ছারখার জগতের শোভনীয় শত সুর-তাল।

এসো, তুমি-আমি স্থির হয়ে বসি, ভালোবাসি।
প্রাণের কথা বলি,
জীবনে জীবন যোগ করি,
হা-হুতাশ ছেড়ে উষ্ণতা বুক ভরে নিয়ে
মরণেই ফেলে দিই দাঁড়ি।

এ সময় বড় অস্থির ! 
এ সময় সংযমী হতে হয়,
দুর্বল স্নায়ুকোষ নিয়ে আসে প্রখর আঘাত।
ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত হৃদয়ে (তাই)
আলো আর আশা নিয়ে বাঁচি ....

এসো জীবনে জীবন যোগ করি।

আমার যা কিছু ভালো তোমায় দিলাম,
তোমারও কাছে হাত পেতে দাঁড়ালাম ..
আজ সংকল্পে বেঁধে রাখি মন,
হারব না এ লড়াই
প্রতিরোধে জাগাব জীবন !

ছিন্নমূল ভেসে যাওয়া শিকড় বাকড় ---
খড়কুটো আশ্রয় সব খুব দামী !
কল্যাণী হাতের ছোঁয়ায় 
বাধার পাহাড় সব ভাঙি .....

এসো, জীবনে জীবন যোগ করি --
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
                   তপন কুমার তপু 
 ‌‌                    (‌ বাংলাদেশ )

হৃদয় স্পন্দন 

তোমার সবুজ শাড়ীর ভাঁজে ভাঁজে - সবুজ বনভূমির প্রতিচ্ছবি দেখি,
তোমার কপালের সবুজ টিপে খুঁজেফিরি-মাতৃভূমি,আহা কি মধুর আহ্লাদ,, 
ঘন চুলের বিন্যাসে আকাশের ঘন মেঘের বরষার বৃষ্টির স্বাদ।
চোখের অক্ষিপদ্ম দুলিতেছে- ফসলের দোলায় - দাঁড়িয়ে আছ একাকী।। 

তোমার হৃদয় ছোঁয়া স্বর্ন ভূমিতে  আজ প্রেম চেতনার, মুক্তির উজ্জীবিত অক্ষর, 
বাংলার পথে প্রান্তে - খাঁটি বাংলা শব্দের মত- উচ্চারিত প্রেমময় ভাষা,,
আত্ম সমাহিত সুখে- প্রতিটি প্রাণে প্রাণে মুখরিত কত ভালবাসা। 
মুক্তির প্রেরণা যেন - স্বগৌরবে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় বুকের  ভীতর।।

ইতিহাসের পথ বেয়ে অবশেষে তুমি হৃদয় টা খুঁজলে হৃদয়ের ভেতর, 
উজ্জ্বল আলো যখন গোধূলির আকাশে যাচ্ছে একাকী মিশে, 
তুমি এসে বাংলার মাঠ,ঘাট,প্রান্তরে  দাঁড়ালে এসে।
প্রেমময় জগতে নেমে এলো অন্ধকার, পেলাম না প্রেমময় জগতের আর কোন ভোর।। 
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
                    শামীম আহমদ
 ‌‌‌                        ( লন্ডন )

তুষারের জঠরে অগ্নিবীজ 

হঠাৎ বিজলীদণ্ড আমার মস্তকে 
চির ধরিয়ে দেয় ,এক কৃষ্ণপ্রহর দুপুরে 
আমিও দ্বিখণ্ডিত করি প্রচণ্ড আক্রোশে 
সূর্যের  রশ্মিকে ,টেমসের তীরে বসে কলমের শলাকায় !

তারপর ঈশ্বর আর আমি একেঅন্যের সম্মুখে 
 আমি অপরাধী উনি কৃপালু 
আমি সুঁতির পালক বিছিয়ে 
করজুড়ে প্রার্থনার প্রহরে দাঁড়িয়ে মেলে ধরি নিজেকে 
লাজুক পুষ্পের মতো ।নতমস্তকে -
হীম কুয়াশায় সিক্ত হই সূর্যমুখী যেমন !
কী কথা হয়  মনে নেই আর 
ঠোঁট থেকে টুক্ করে লাফ দেয়  কথাগুলো হরিণশিশুর মতো ! আমি ধরতে গেলেই মুটোভরে ফিরে আসে শুধু শূন্যহাত ! শূন্যতাই এখন জীবন মহাজীবনের খোঁজে ,
কিন্তু একটি স্ফুলিঙ্গ ছুঁয়ে যায় আমার অস্তিত্ব ।

জমে যাওয়া তুষারের জঠরে -
পুঁতে দেই আগ্নেয়গিরির অগ্নিবীজ 
গোপনে পোক্ত হোক অসিমের আরাধনায় 
যদি কখনো অঙ্কুরিত হয় তবেই আমার মুক্তি  ।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
                    অর্পিতা আচার্য
                         ( ভারত )
শৃঙ্গার

কামড়ে রক্তের দাগ, যে জেগেছে হয়তো বাঘিনী
এ দুপুরে  বাথটবে আঁশটে নদী জলে মন্দ্রধ্বনি
জানালায় সরসর সাপটির প্রবল নিঃশ্বাস
মাঝে বৃষ্টি ছাট এল, পাতা ওড়ে, আজন্ম অভ্যাস
কীভাবে বদলে যায়, সিঁথিকাটা সিঁদুর ও নোয়া
ধুয়ে গেলে, আয়নায়, স্নান শেষে পড়বে যে ছায়া
সে কী তবে অন্য কেউ? যে নিরীহ বউ অমনস্কে
ভ্রু জোড়ার মাঝখানে লাল টিপ যত্ন করে আঁকে
অষ্টঅঙ্গ ছিঁড়ে এক পলাতক বাঘের নখর
চিহ্ন তাকে দিয়ে গেছে । সন্ধ্যা আসে শান্ত তার ঘর
ইস্কুল ফেরত ছেলে, ঘরে এল ঘরের মালিক
ছোট ছোট ছায়া ওড়ে, বিবাহের ভ্রমে অলৌকিক
হাঁড়িতে ফুটছে ভাত, সোঁদা গন্ধ। সবুজ মশারি
ঘুম আসা না আসায় অসংলগ্ন স্মৃতিরা খয়েরি
আড়মোড়া ভাঙ্গে স্বপ্নে,ফেনাফেনা জলোচ্ছ্বাস রাত

একমাত্র সেই জানে সেদিনের সেই রক্তপাত!
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
                     সফিকুজ্জামান 
                         ( ভারত )

নির্জনে

সফিকুজ্জামান 
এবারও কি আষাঢ়ে, আমাদের ছোট্ট বাড়িটার 
পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে বান ডেকেছিলো?
দোপাটী ফুলের চারাটা বেড়েছিলো বেশ,সে 
কি বেঁচে আছে, না কি বন্যার জলে ডুবে সতেজ
গাছটা বিবর্ণ হয়ে মরে গেছে? 
প্রতিদিন খবরের কাগজে,টিভির পর্দাভরে
ভেসে ওঠে কতো মুখ -
জান মা,ওরা বলে পুরুষেরা ধর্ষক জাতি
শুনে বড়ো লজ্জা লাগে,শিউরে ওঠে শরীর।
মনে পড়ে আমার ছোট্ট বোনের কথা,সে তো আজ
যুবতী হয়েছে মা;সেও কি ও-ই কথা বলে?

ওদিকে পচা বেনো জলে ভরে গেছে দেশের 
খাল-বিল-নদী,ঘরের আঙিনা
রূপালি মাছেরা চলে গেছে দূর নীল
সমুদ্র সঙ্গমে।
সাপের গর্তে ভরে গেছে শুকনো ফুলের বাগান,
এ-বাগানে আর গোলাপ ফুটে না,শুধু বিষধর
সাপেরা লাল জিহ্বা বের করে।
কতোদিন খবর রাখি না মা তোমার 
আবার হয়তো ঘুমিয়ে পড়বো সব ভুলে,
সবাইকে ফেলে নির্জনে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
                   Ends of 4th part


No comments:

Post a Comment