Sunday, 25 July 2021

WEB MAGAZINE . GHORSOWAR. ওয়েব ম্যাগাজিন ঘোড়সওয়ার


 Editor . Nihar Ranjan Das

 Siliguri. Darjeeling. India.

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
শাশ্বতী চ্যাটার্জী

ছায়া

একে একে ছায়ারা আসে 
এসে এসে ঠিক জড়ো হয়
হারিয়ে ফেলা তটবর্তী কল্লোলের রেশ
প্রায়শ শুকিয়ে আসা সেলায়ের দাগ
মর্গের সান্ধ্যসংবাদ
জ্বোরো দুপুরের অ-সিদ্ধ সম্বোধন...

ঘুলঘুলির মাপে কেটে যারা আমাকে নিখুঁত বনসাই করে
তাদের নজর এড়িয়ে ছায়ারা ফিরে আসে
বে-খবর রোপণ করে অত্যূচ্চের বীজ
ইঁট ফুঁসে পুনরায় অশ্বত্থের চারাটি বেরোয়
জড়িয়ে জড়িয়ে বেড়ে উঠি
প্রেক্ষাগৃহে অসংলগ্ন উচ্চারণে ধরি দুর্বোধ্য প্রিজম
চূরমার রশ্মিতে ফেটে পড়ি সৌধে, মিনারে
সহস্রভূজ বাঁধনে ধরতে চাই প্রেম...

ছায়ারা অবিকল ধৈর্য্য
তিলমাত্র পলাতক নয় 
নিজেকে শাসন করি
বলি, দ্যাখো, আরো একবার 
সুযোগ দিয়েছে মৃত্যু,


মৃত্যু থেকে উঠে আসবার
বৃষ্টির গহ্বরে ধৃত শোকার্ত পাখিটির নাম রাখো!
তার কল্যাণে কৃত প্রার্থনাসভায় 
প্রবেশ নিষেধ রেখো
কৃতবিদ্য জন্মান্ধ বেদারূঢ় যাজক সভার।
                            -----
                     বিদিশা সরকার

যে আমাকে 
                  
যে আমাকে বলেছিল ওদের ইচ্ছায় অবশেষে 
যে আমাকে শুনেছিল ডুকরে ডুকরে আমি শুধু যাকে 
যে আমাকে ফিরে এসে শাল সুঠামের বাহুপাশে 
রেখেছিল সুরক্ষিত এখনও তেমন ভাবে রাখে 
অফিসের কাঁচঘরে জলবন্দি শ্রাবণসন্ধ্যায় 
দেরি করে বাড়ি ফেরা যে আমাকে "প্রান চায় তোমাকেই শুধু"
আমিও বলেছি আজ ভেসে গেল এখানেও সব কুলশীল 
দেরি করে কেন ফেরো, যানজটে কতো কী ঝামেলা 
আমি তো ফিরিয়ে দিচ্ছি (যে আমাকে) তার ঘরে তবু 
যাবার আগেও কেন খোঁজ নেয় কবিতায় রেখেছ আমাকে ?
                          ------
                স‌ঞ্জিতা দাস ( লস্কর )

চুলের ভিতরে সন্ধ্যা নামছে

অনেকগুলো পাতিকাক লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের তারে
একসময় ঠিক তোলে নেবে পরিজনের পরিচর্যা
স্বপ্নাক্রান্ত আমি, চাঁদ-তারার স্নানদৃশ্য দেখবো বলে জোনাকির বিছানায় ঘর বেঁধেছি
ছায়া হয়ে উড়ে গেছে সব, ভাঙা এক জানালার কাঁচে
বুঝতে পারি বেশ, এখনও সময় হয়নি
হাতে জন্মের দায়বদ্ধতা
একদিকে চিতাবাঘের থাবা খাওয়া চোখ,
অন্যদিকে হৃদপিণ্ডের অগ্নিস্রাবী নদী
আমি পুড়ছি, পুড়ে যাচ্ছি
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, খুঁজে পাবো তো তোমাকে ?
প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটায় এখনও দেখি নতুন নতুন সমুদ্রের নাম
ঐসব নাম ধরেই ডাকবো বহুকাল পরে, সাড়া দিও,হে জন্মান্ধ কিশোর ।
                         ‌‌-‌‌-----
                      মালা চক্রবর্তী
 
মেঘ বৃষ্টি

মেয়েটি বৃষ্টি ভালোবাসতো 
ছেলেটি মেঘ  হতে চেয়েছিল
জলভরা শ্রাবণের মেঘ
কারন, মেয়েটি বৃষ্টি ভালোবাসতো ।
বৃষ্টির জল যখন কলেজের জানলার পাশের কদমগাছে  কুচি কুচি জলবিন্দু হয়ে নেমে আসতো, ভাসিয়ে দিত মোরাম বিছানো পথ, পথের দু'পাশের ঘাসেদের পাড়া
মেয়েটা কেমন নদী হয়ে যেত।

শ্রাবণ রাতে মেয়েটি  মোবাইলের ওপাশ থেকে 
রিমঝিম বৃষ্টির তালে তালে
গুনগুন করে গান ধরতো
সেই গান রাতের নিস্তব্ধতায়  কুলকুল করে বয়ে যেত ছেলেটির শিরায় উপশিরায়।
ছেলেটির মনে হতো , এই বৃষ্টি যদি অনন্ত হয়! 
 ছেলেটি মেঘ হতে চাইতো 
   
ছেলেটির আর মেঘ হয়ে ওঠা হয়নি।

মেয়েটি এখন ,অন্য কারো বৌ
আর ছেলেটি সরকারি অফিসের 
কেরাণী ।

সেদিন প্রচন্ড গরম পড়েছে 
অন্য সবার মতো,ছেলেটিও কাজের ফাঁকে ফাঁকে অফিসের জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকায় একটু মেঘের আশায়, যদি বৃষ্টি হয়! 
মেঘের কথা মনে আসতেই কবেকার একটা প্রিয় মুখ স্পষ্ট হয়ে ওঠে চোখের সামনে 
যে দিন খোয়া গেছে, সামনে এসে দাঁড়ায় ।

ছেলেটির হঠাৎ খুব জানতে ইচ্ছে করে, 
এখনও কী সে বৃষ্টি দেখলে নদী হয়ে যায়? 
ওমা! যেমনি‌ ভাবা , ছেলেটা সত্যি সত্যি  মেঘ হয়ে যায়
মিশকালো জলদগর্ভ মেঘ।
অমনি পথ চিনে চিনে চলে আসে সেই মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির পাড়ায়
চুপিচুপি সে তার দোতলার জানালার কার্নিশ থেকে ঝুঁকে‌ উঁকি দেয় ঘরের ভেতর।

মেয়েটির এখন  ভরা সংসার
সকাল থেকে সংসারের নানা কাজ, খুটিনাটি সামলে
সে তখন সবে দিবানিদ্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে ।

তার জানলায় চোখে পড়তেই, 
মেঘ দেখে দৌড়ে যায় ছাদে।
তাড়াতাড়ি জামা কাপড় তুলে এনে
জানলা দেয় বন্ধ করে ।

তারপর ,পদ্মপাতায় জলের  মতো কয়েক বিন্দু  ঘাম কপালে নিয়ে  নিজেকে ভাসিয়ে দেয় সফেন বিছানায় ।
   
ছেলেটি তখন রিমঝিম বৃষ্টি  হয়ে ঝরছে।

 ভিজে যাচ্ছে ঝুলবারান্দার গ্রীলে  ঝুলে থাকা  মানিপ্ল্যান্টের পাতারা, বক্স-জানালার বাহারি গাছ, 
ভেসে যাচ্ছে আশেপাশের ছাদ, বাঁধানো উঠোন, পাকা রাস্তা।

মেয়েটা ফিরেও দেখে না
নদী হতে সে ভুলে গেছে কবেই ।


শুধু জানলার কাচে লেগে থাকে কিছু জলবিন্দু, বৃষ্টি-চিহ্ন হয়ে।
                         ----
                       বিলাস ঘোষ

মানুষ কোথায়!

রঙ্গমঞ্চে তামাশা দেখো
হেঁঙালি শুনে বাড়ি ফিরে যাও
একবেলা খেয়ে পেট ভরে যায়
বাজাও তালি,তালি বাজাও।

দূরদর্শনে খবর দেখো
আতঙ্কে নয়,সতর্ক থাকো।
সিরিয়াল খাও,হাত ধুয়ে নাও
বাজাও তালি,তালি বাজাও।

এবার  ডান হাতটা বুকে রাখো
দেখবে তালি বাজবে নাকো
শক্ত হয়ে আসবে মুঠো
সত‍্যি যদি মানুষ থাকো।।

যেমন চলায় তেমন চলো
যেমন বলায় তেমন বলো
তোমরা কি সব খেলার পুতুল?
মানুষ তবে কোথায় গেলো?
 ‌                 ------
                    শামীম আহমেদ

দুঃস্বপ্নের লিঙ্ক 
                   
এই দুঃস্বপ্নের দেশে স্বপ্নের কোন লিঙ্ক খোঁজে পাইনা
আত্ম বিধ্বংসী কবিতার মতো এখানে কবি রোজ দেহ বিসর্জন দেয় আর আত্মাকে কোলে নিয়ে বসে থাকে কাল থেকে কালান্তরে!
কবির মৃত্যু নেই তাই আমিও মহাকাল জুড়ে হাঁটি 
বিস্তীর্ণ  কাব্যলোকে ...
                           -------
                      শিপন সোহাগ

জন্ম বিরোধ

তখনও বৃন্তে আসেনি কাঙ্খিত  জন্ম স্পন্দন, বিহ্বলিত আবেশের সীমানায় এক মৃত্যু শিলালিপির গায়ে লেখা হবে সভ্যতার নাম! পাথুরে ক্লেদে ভগ্নাঙ্কুর সঙ্গমের অগ্ররস উপনিষদের পাতা ছিঁড়ে-ছিঁড়ে মুছে ফেলে মিথ্যের প্রবঞ্চনার আকর! অবাধিত প্রসবন রুখতে ধেয়ে আসে মরু মৃত্যুরা অভ্যার্থিত প্রণব তানপুরায়। এখানে ঐশীতা অস্বাগত, দৈব জন্মবিরোধে পুড়ে যাওয়া সিঁদুর গন্ধ, আতপের সুঘ্রাণে ঢেকে যাক দেবতার আঁতুর। আর কোন ঈশ্বরের জন্ম নয়, লিপ্সিত মেনকারা খুলে দিক কল্পিত যোনিদ্বার, পালধরে ঢুকে যাক সাড়ে সাতশো কোটি যৌনমগজি ধর্মোন্মাদ!
দেখুক ওপারে কোন দৈবনগরী নয়, খেটে খাওয়া মাঠের কৃষাণের ফসলের উপর একরাশ নবান্ন বাতাস!
                           -------
                   মানসী কবিরাজ

হয়তো একদিন

শিরীষের পাতা বেয়ে  বৃষ্টি-ফোঁটার মতো নামে, ঘন নীল ব্যথা  
পাইনের বনে ফিসফিস ফিসফিস
পুরনো  ফেলে  যাওয়া কথা । 
বাউল রঙের মন বন্ধ কপাটের গায়ে  
মনখারাপ আঁকে।
কথারা ফিরে যায় । যেতে যেতে বলে 
একদিন  ঠিক
রোদের আগুনে , দেওয়ালের নোনা-গল্পরা
মিশে যাবে সাদা সাদা চুনের প্রলেপে ,
একদিন ঠিক 
ঠিক চাবি খুঁজে পাবে নিজস্ব চাতাল ।
একদিন ঠিক 
না ডাকতেই  চইচই হাঁস, জল ভেঙে উঠে আসবে পাড়ে ।

একদিন ঠিক 
 ভুল জ্যামিতি থেকে আবারও ফিরবে  ঘরে   হারানো কবিতা ……
                        -----
( The end of 4th page of the issue)







No comments:

Post a Comment