Sunday, 25 July 2021

WEB MAGAZINE. GHORSOWAR. ঘোড়সওয়ার ওয়েব ম্যাগাজিন


       Editor. Nihar Ranjan Das

       Siliguri. Darjeeling. India


🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

                 কাকলী ঘোষ (মুন )

গন্ডী 

অবুঝ বর্ষা তুমি কেন ঝরো অমন অঝোরে?

মাটির কানে কানে কতো কি যে বল আনমনে,

হয়নি শোনা সে ভিজে কথামালা, সময়করে,

সারাদিনের কাজে, তুলে রেখেছি মনের ভাঁজে;

সে বৃষ্টিপথে আমার হয়নি ছোটা, লোকলাজে।

কতো চঞ্চল ঋতু হয়ে গেলো পার, অগোচরে,

রাখা হয়নি তোমার বাউন্ডুলে যত আবদার,

রানী আমি যে  আজ সাজানো অন্তঃপুরে!


চেয়েছিলে তোমার রিমঝিম পথে একদিন, 

অভিমানি বাতাস হয়ে ফিরতি পথ দিই মুছে, 

পথ ভোলার নেশায় তুমি যাযাবর বৃষ্টি স্বাধীন,

বেহিসাবী পা ফেলা, ঘরছাড়া, গন্তব্য বিহীন ।

কেন বোঝোনা মেঘ, এভাবে চলেনা সংসার,

অলঙ্কারেও যে ঢাকা যায় মিছি মিছি মন ভার।

হতে পারে  কি সবাই  কলঙ্কিনী রাই?

কাজল ধোয়া জলে ভাসাতে মেঘের হাহাকার!


ভিজে আকাশ যখন মাটির গন্ধে মাতোয়ারা,

আমার যে তখন নতুন ঘর গোছানোর তাড়া,

দুষ্টু মেঘেদের দূর্দম ধার ঘেঁষে

খিল দিয়েছি দোরে, ছুটে ঘরে এসে, অবশেষে।

ঘর ছেড়ে আর হয়নি ভেজা আনমনে

তোমার সাথে আবেলায়, অকারণে।

তোমার মেঘলা বাহুডোরের  আকুল বাঁধনে

বর্ষা আজও তাথৈ নাচে আমার উঠোনে।


তোমার মেঘলা হাতছানি, সবুজের কানাকানি,

ডেকে ডেকে ফিরে গেছে 

আমার ডাক নাম ধরে জানি;

লক্ষীটি, ওই নামে আর ডাকতে নেই, ডেকোনা,

উড়তে ভুলে গেছে আমার সাজানো পাখনা।

অবুঝ বর্ষা, পাগল হয়ে ঝরো মিছে 

হাজার ঝঞ্ঝা দিয়েও পারবে না দিতে মুছে

গন্ডি আমার হিসাব করা হাসিকান্নার।

                        --------

                   রুনা চট্টোপাধ্যায়

প্রাণবায়ু

নক্ষত্র লিখে রাখে সেসব গল্প
আলোপথ, ছায়াপথ জনাকীর্ণ হয়ে গেলে
দেখা যায়, বাঁচিবার ইতিহাস সংক্ষিপ্ত;
জীবনের জায়গা অপ্রতুল।
এক দুই তিন চার কর গুনে ভুলের মাশুল
তারপর হ্যাঁচোর প্যাঁচোর প্রাণবায়ু
বিদায়মন্তর গায় আয়ু।
প্রাণ! প্রাণ!বেঁচে থাকা দাও নক্ষত্র নরনারী
আয়ুর্দেহি। দেহি দেহি মে।
প্রসন্নতা রেখে যাবো আরো কিছু;অন্তিমে।
                           -----
সুস্মিতা কৌশিকী

ভাঙনের দায় 

জানি , আজ আর ফিরে তাকাবে না 
এই দেহ সরোবরে একশো আট নীলপদ্ম ফুটিয়ে তুললেও বিশ্বাস করবে না , 
এ ভাঙনের দায় একলা আমার নয়।

শুনেছি সংসার সুখের হয় রমণীয় গুণে 
তাই এক দিন ---
ঢেউয়ে ঢেউয়ে গুছিয়ে রেখেছিলাম প্রভূত যৌবন
বিন্দুতে বিন্দুতে লিখে রেখেছিলাম প্রাণের বারতা
প্রশস্ত বুক উজার করে পেতে দিয়েছিলাম ভদ্রাসন
---- এসো মীনদল , এসো জলজ সকল প্রাণ জলকেলি করো সুনীল আঁচল তলে ---
এসো সল্লিহাঁসের দল ,এসো মাছরাঙা চোখ ,পানকৌড়ির ঘন ডুব
এসো ডানপিটে ছেলে, সাঁতরে জিতে নাও জীবনের বাজি ।

ক্ষমতার দম্ভ আর জয়ের নেশায় সব ভুলে গেলে একদিন 
কংক্রিটের চৌহদ্দিতে আমার জন্য জমিয়ে তুললে উচ্ছিষ্ট নোংরা আর বিষাক্ত আবর্জনার স্তুপ 
সনাতন গতিকে রূদ্ধ করে নয়া বসতি গড়ে তোলার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে সবাই মিলে ।

যে ভাবে সম্পর্কে চিড় ধরলে দূরে সরে যায় কাছের মানুষ , সেভাবে নিশ্চুপে সরে গেছি সেইদিন ।

পারোনি বাঁধতে আমাকে ভালোবাসায় কিংবা শাসনে 
আমার স্নেহময় ইশারায় আকাশ নেমে এসেছে নবদিগন্তের নীল ঝর্ণার মন্ত্রপূত জল
বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় ফিরে পেয়েছি যৌবনমদমত্ততা
পাগল পারা ছন্দে ছুটে চলেছি  আপন মিতের টানে
কোন যন্ত্রে ও যড়যন্ত্রে আটকে রাখবে আজ ?

জানি , বিশ্বাস করবে না
হার মানবে না , শুধরে নেবে না নিজেদের
তবে মনে রেখো ---
এই ভাঙনের দায় কেবল একলা আমার নয়।
--------
অমূল্য রতন মাল

বর্ষা ও একটি কবিতা

কী লিখলে তবেই বর্ষার কবিতা?
বর্ষা মানেইতো
বৃষ্টি-বিদ্যুৎ-আলো আয়না ।
কবিতার ওপর বৃষ্টি কিংবা বজ্র পড়ে
অক্ষর শব্দ লাইন ধুয়ে যাক,পুড়ে যাক
আমি কোনোদিনই চাইনা...
কঠিন কবিতা বৃষ্টিতে ভিজলেই
জল তরল তারপর সরল..
আজকাল কবিতায় সরলতা
কেউই চায়না ।
আগুন নেভানো ঋতু বর্ষা
কবির রক্তবর্ণ চোখ,গরম মাথা
ঠান্ডা করার ঋতু বর্ষা...
কবি ঠান্ডা হলেই কবিতাও ঠান্ডা
কবিতা ঠান্ডা হলেই "বাসি "
কবিতা "বাসি "হলেই রাস্তায়
ফুটপাতে নয়তো ডাস্টবিনে..।
আমি চাই কবিতা বারুদ কিংবা
আগুন হয়ে থাকুক ।
সবাই চোখে চোখে রাখুক
বর্ষায় কবিতাকে ভিজতে না দিয়ে
বরং কবিতার উষ্ণতায়
বর্ষা আসুক বসুক মিশুক
আগুনে অক্ষর শব্দ লাইনের
ছোঁয়ায় বর্ষা জমাট বাঁধুক ।
কেউ আচমকা হাতুড়ি মারলে
বর্ষার তরল গায়ে..
বৃষ্টি নয় সৃষ্টির শব্দে
কাঁপিয়ে ফাটুক,ফুলকি ছেড়ে
আগুন কাটুক...।
                          --------
                  রাজেশ কান্তি দাশ 

নিষ্প্রভ মন

ফেলে রাখি বুনো ঘ্রাণ, ছুটে যাই
নিশীথ চোখে ফুটেছে যে মহুয়া ফুল তার কাছে। 
ঝিমিয়ে পড়া ক্ষণগুলো আমার জেগে ওঠে
আঁকাড়া আঁধার ফেলে রেখে!
কুমারী ফুলের চুম্বনে মায়াবতী বৃষ্টি ঝরে অঝোর
মনে হয় যেন তুমুল আষাঢ়;
অনুরাগসিক্ত হয়ে উঠে সাদা কাগজ।
বৃষ্টিভেজা শালিক ঠোঁটে নোনা জলের গন্ধ পাই আমি
সাদা কাগজের 'পর হাঁটতে থাকে আলোকরেখা
গুটিগুটি পায়ে
নিষ্প্রভ মনের প্রান্তে পৌঁছুবে বলে।

আমার নিষ্প্রভ মন বারবার ছুটতে থাকে তার দিকে
সম্বিত ফিরে পেতে...
বহুকাল বহুকাল এরকম ছুটব আমি।
                         -----
                          বর্ণজয় 

মধ্যবিত্ত

পাওয়া না পাওয়ার সরল রেখায় স্বপ্ন ঝুলে আছে,
একটা আশাবাদী মনের স্বপ্ন ছোঁয়ার দৌড়,
মধ্যবিত্তের ভালোবাসা খালি পকেটে সুইসাইড করে,
নিরব রাতের একাকী ভাবনা মুছে যায় সকালে।।

জন্ম থেকে মৃত্যু চলে স্বপ্ন পূরণের অনুশীলন,
তারপর ব্যর্থ মানুষের লাশের সাথে স্বপ্ন চলে যায় কবরে,
দেখা স্বপ্ন ডানা ঝাপটায় প্রতিবন্ধকতার দেয়ালে
হায়রে মধ্যবিত্ত জীবন, কল্পনার মুলোটা ঝুলে থাকে সমুখে!!

ছোট বেলা থেকে শুনে আসা সব কথারা বাতাসে ভাসে
আর সংসারের জোয়ালটা ভালো মতো বসে যায় ঘাড়ে,
তখন পুষে রাখা এক একটি ইচ্ছা ম্লান হতে হতে উবে যায়,
এইতো মধ্যবিত্ত জীবন!

বাবা-মায়ের খুব আদরের ছেলে হয়ে যায় ঘানির গাধা,
শখের বুকে পেরেক মেরে চলে বাস্তবতার নির্মম খেলা,
খুব কাছের সুন্দর মেয়েটি ওয়াদা ভেঙে চলে যায় ধনীর ঘরে,
আর মধ্যবিত্ত জীবন তখন হতাশাগ্রস্থ জীবন যাপন করে!!
 ‌‌‌‌‌‌‌                          ------
          The end of 6th page 
                          -------





No comments:

Post a Comment